গত শনিবার রাতের বেলায়, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ ‘বানৌজা স্বাধীনতা’ সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমে সমুদ্র এলাকায় একটি অবৈধ যাত্রা থামিয়ে ২৭৩ জনকে গ্রেফতার করেছে। নৌবাহিনীর তৎপর পদক্ষেপের ফলে সম্ভাব্য মানব পাচার ও সমুদ্র দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব হয়েছে।
অপারেশনটি শুরু হয় যখন ‘বানৌজা স্বাধীনতা’ সন্দেহজনক গতিবিধি সম্পন্ন একটি কাঠের বোটকে লক্ষ্য করে। বোটটি সেন্টমার্টিন থেকে প্রায় ৩০ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল এবং নৌবাহিনীর সংকেতের পরেও থামতে অস্বীকার করে গতি বাড়িয়ে পালানোর চেষ্টা করে।
নৌবাহিনী বোটের দিকে দ্রুত এগিয়ে গিয়ে তা থামাতে সক্ষম হয় এবং জাহাজে চড়ে থাকা সকল ব্যক্তিকে নিরাপদে নৌবাহিনীর দায়িত্বে নেয়। জব্দ করা কাঠের বোটটি কোনো জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম, পর্যাপ্ত খাবার বা পানির ব্যবস্থা ছাড়া ছিল, যা গভীর সমুদ্রে বিপর্যয় ঘটাতে পারত।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আটক সকল ব্যক্তি অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় গমনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছিল। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই তরুণ ও মধ্যবয়সী, যারা সমুদ্রের ঝুঁকি সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন না হয়ে এই পথে পা বাড়িয়েছিল।
বৈধ ভ্রমণ অনুমতি ছাড়া সমুদ্র পথে গমন করা আন্তর্জাতিক মানব পাচার নেটওয়ার্কের অংশ হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। নৌবাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপের ফলে এই নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য বড় আকারের অপারেশন রোধ করা সম্ভব হয়েছে।
রবিবার ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি জারি করে, যেখানে নৌবাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপের প্রশংসা করা হয়েছে এবং দেশের জলসীমার নিরাপত্তা রক্ষায় অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নৌবাহিনীর সময়োচিত হস্তক্ষেপের ফলে মানবিক বিপর্যয় ও অপরাধমূলক কার্যক্রম প্রতিরোধ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ নৌবাহিনী সমুদ্রপথে চোরা-চালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর নীতি অনুসরণ করে চলেছে। এই ধরনের অপারেশন দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন মেনে চলতে সহায়তা করে।
অটকরা এখন আটক ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়ার



