বিবিসি এবং ৭ অক্টোবর হামাসের আক্রমণে বেঁচে থাকা একটি ইসরায়েলি পরিবারের মধ্যে আর্থিক সমঝোতা সম্পন্ন হয়েছে। পরিবারটির ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িতে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করে চিত্রগ্রহণ করা দলের সঙ্গে বিবিসি শেষমেশ £২৮,০০০ সমঝোতা করেছে।
৭ অক্টোবর শীতল সকালবেলায় হামাসের সশস্ত্র বাহিনী গাজা সীমান্তের নেটিভ হা-আসারায় আক্রমণ চালায়। গ্রেনেডের আঘাতে স্বামীর শিরায় আঘাত লেগে যায়, তবে বাড়ির দরজা বিকৃত হয়ে আটকে যাওয়ায় বিস্ফোরণ ব্যর্থ হয় এবং পুরো পরিবার বেঁচে থাকে।
তেজেলা হোরেনস্টাইন ও স্বামী সাইমন, দুজন ছোট সন্তানসহ এই ঘটনার শিকার। আক্রমণের পরপরই তাদের বাড়ি ধ্বংসাবশেষে পরিণত হয়, তবে দরজার অপ্রত্যাশিত জ্যাম তাদের জীবনের শেষ রক্ষা করে। পরিবারটি দীর্ঘ সময় পর্যন্ত জানে না তাদের সন্তানরা বেঁচে আছে কি না।
বিবিসির একটি সংবাদদল, যার মধ্যে আন্তর্জাতিক সম্পাদক জেরেমি বাওয়েনও ছিলেন, আক্রমণের কয়েক দিন পরই বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে। তারা ঘরের অভ্যন্তর, ব্যক্তিগত ফটো এবং শিশুর ছবি ধারণ করে, যদিও পরিবারটির আত্মীয়স্বজন এখনও বেঁচে আছে কিনা তা জানেন না।
পরিবারের সদস্যরা এই চিত্রগ্রহণকে আরেকটি আক্রমণ হিসেবে অনুভব করে। তারা বলেন, ক্যামেরা হাতে নিয়ে দলটি তাদের গোপনীয়তা লঙ্ঘন করেছে এবং তাদের জীবনের শেষ অবশিষ্ট নিয়ন্ত্রণও ছিনিয়ে নিয়েছে।
তেজেলা হোরেনস্টাইন মন্তব্য করেন, “তারা আমাদের বাড়িতে ক্যামেরা নিয়ে প্রবেশ করেছে, যেন তা কোনো অস্ত্র। এই অনধিকারী হস্তক্ষেপ আমাদের উপর আরেকটি আঘাতের মতো অনুভূত হয়েছে।”
বিবিসি পক্ষ থেকে একটি মুখপাত্র জানান, তারা নির্দিষ্ট আইনি বিষয় নিয়ে মন্তব্য করে না, তবে এই মামলায় সমঝোতা পৌঁছাতে পেরে সন্তুষ্ট। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে এধরনের ঘটনা এড়াতে যথাযথ অনুমতি নেওয়া হবে।
সমঝোতার অংশ হিসেবে বিবিসি পরিবারকে £২৮,০০০ অর্থ প্রদান করেছে। এই অর্থটি পরিবারকে পুনর্গঠন ও মানসিক শোক মোকাবেলায় সহায়তা করবে বলে বলা হয়েছে।
৭ অক্টোবরের হামাসের আক্রমণ ইসরায়েল ও গাজার মধ্যে ব্যাপক সামরিক সংঘাতে রূপ নেয়। সেই দিন প্রায় ১,২০০ ইসরায়েলি নাগরিক নিহত হয় এবং ২৫১ জন বন্দি হয়। এই ঘটনাই গাজার ওপর ইসরায়েলি বোমাবর্ষণের সূচনা করে।
হামাসের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় ইসরায়েলি বোমা হামলায় এখন পর্যন্ত ৭১,২৬০ের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এই সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে এবং মানবিক সংকটের মাত্রা বাড়িয়ে তুলেছে।
মিডিয়া সংস্থার এই ধরনের অনধিকারী চিত্রগ্রহণ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরে নৈতিক প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। বিশেষত সংঘর্ষের সময় তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি ও মানবিক অধিকার রক্ষার মধ্যে সমতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা পুনরায় আলোচিত হচ্ছে।
বিবিসি ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের জন্য এই ঘটনা একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে সংবাদ সংগ্রহের সময় স্থানীয় পরিবারের গোপনীয়তা ও সম্মতি নিশ্চিত করা, ভবিষ্যতে অনুরূপ বিরোধ এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ হবে।



