কক্সবাজারের উখিয়া‑টেকনাফ (কক্সবাজার‑৪) আসনে বিএনপি প্রার্থী ও জেলা সভাপতি শাহজাহান চৌধুরীকে অজানা গোষ্ঠী ‘ব্যাটালিয়ন‑৭১’ থেকে হুমকি সম্বলিত চিঠি ও একটি সাদা কাফনের কাপড় পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে প্রার্থীকে নির্বাচনে অংশ না নিতে বলা হয়েছে এবং না করলে তার পরিণতি ‘শরীফ ওসমান হাদির মতো’ হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে। হুমকির তারিখ ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর, এবং চিঠির শেষে মুমিনুল আলম নামের একজনকে কক্সবাজারের আঞ্চলিক কো‑অর্ডিনেটর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠিটি পোস্ট অফিসের মাধ্যমে অজানা ঠিকানা থেকে পাঠানো হয়েছিল এবং এতে ‘আপনার নিকট অনুরোধ রইল, আপনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন’ এমন অনুরোধের পাশাপাশি ‘আপনি ২৪ ঘণ্টা আমাদের কিলিং স্কোয়াডের নজরদারিতে আছেন’ এমন হুমকি যুক্ত ছিল। হুমকির অংশ হিসেবে পাঠানো কাফনের কাপড়টি ‘উপহার’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা হুমকির তীব্রতা বাড়িয়ে দিয়েছে।
শাহজাহান চৌধুরী চিঠি ও কাপড়ের বিষয়টি জানার পর তা পোস্ট অফিসের মাধ্যমে প্রাপ্ত হওয়া স্বীকার করে, কক্সবাজারের কিছু সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এ ধরনের কাজ করতে পারে বলে সতর্কতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, হুমকি দিয়ে তাকে দুর্বল করার চেষ্টা করা হচ্ছে, তবে এতে তিনি ভয় পাননি এবং চাপের মুখে তার সিদ্ধান্তে কোনো প্রভাব পড়বে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, মানুষের মৃত্যু একবারই হবে, তাই তিনি বেশি উদ্বিগ্ন নন।
উখিয়া থানার ওসিআই নূর আহমদ জানান, হুমকি চিঠি ও কাফনের কাপড়ের বিষয়ে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষ থেকে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দাখিল করা হয়েছে। তিনি জানান, আবেদনটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তের পর যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হুমকি চিঠিতে উল্লেখিত ‘শরীফ ওসমান হাদির মতো পরিণতি’ দেশের পূর্বে ঘটিত একটি হত্যাকাণ্ডের ইঙ্গিত দেয়, যা স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর দৃষ্টিতে গুরত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে হুমকি পাঠানো গোষ্ঠীর প্রকৃত পরিচয় এখনো স্পষ্ট না হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত চলমান।
পোস্ট অফিসের মাধ্যমে চিঠি প্রেরণের পদ্ধতি এবং অজানা ঠিকানার ব্যবহার থেকে বোঝা যায়, হুমকি প্রেরক গোপনীয়তা বজায় রাখতে চেয়েছেন। চিঠির শেষে মুমিনুল আলমের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তবে তার পরিচয় বা গোষ্ঠীর কাঠামো সম্পর্কে কোনো সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় নিরাপত্তা দপ্তর হুমকি চিঠি ও কাফনের কাপড়ের বিশ্লেষণে ফোরেনসিক পরীক্ষা চালাচ্ছে। চিঠির কাগজ, মুদ্রণ পদ্ধতি এবং কাপড়ের ধরণ থেকে গোষ্ঠীর সম্ভাব্য সংযোগ স্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে, পোস্টাল রেকর্ডের মাধ্যমে চিঠি প্রেরণের সুনির্দিষ্ট ঠিকানা ও সময়সীমা নির্ধারণের চেষ্টা করা হচ্ছে।
শাহজাহান চৌধুরীর মন্তব্যে তিনি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো বাধা না দিতে চাওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, হুমকি সত্ত্বেও তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণের ইচ্ছা বজায় রাখবেন এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে কোনো গোষ্ঠীর ইচ্ছা পূরণ করবেন না।
অধিকন্তু, হুমকি চিঠিতে ‘কিলিং স্কোয়াডের নজরদারিতে ২৪ ঘণ্টা’ থাকার উল্লেখ করা হয়েছে, যা হুমকির তীব্রতা ও ভয়ভীতি বৃদ্ধির লক্ষণ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতে, এমন হুমকি প্রকাশ করা আইনের অধীনে অপরাধ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে পারেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, নির্বাচনী সময়ে এমন হুমকি প্রেরণ করা গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য প্রার্থীকে আত্মসমর্পণ বা পদত্যাগে বাধ্য করা হতে পারে। তবে প্রার্থী তার অবস্থান দৃঢ় রাখলে গোষ্ঠীর কৌশল ব্যর্থ হবে এবং নিরাপত্তা সংস্থা দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।
এই ঘটনার পর, কক্সবাজারের অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও স্থানীয় প্রশাসনও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে। তারা ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত গার্ড ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা স্থাপন করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বর্তমান তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে, হুমকি প্রেরকদের সনাক্ত করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী ‘ব্যাটালিয়ন‑৭১’ যদি কোনো অপরাধমূলক কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত প্রমাণিত হয়, তবে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
এই ঘটনা দেশের নির্বাচনী নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগকে পুনরায় উত্থাপন করেছে। নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে সকল প্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন, যাতে হুমকি বা সহিংসতার মাধ্যমে গণতন্ত্রের মৌলিক নীতি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।



