শুক্রবার রাতের পরেই ছত্তিশগড়ের সুকমা ও বিজাপুর জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে দুইটি আলাদা সংঘর্ষে মোট চৌদ্দজন মাওবাদী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। উভয় ঘটনার সময় নিরাপত্তা বাহিনীর ইউনিট ও মাওবাদী গোষ্ঠীর মধ্যে গুলি-বারুদের তীব্র আদানপ্রদান হয়, ফলে প্রাণহানি ঘটেছে।
সুকমা জেলার কিস্তারাম এলাকায় প্রথম সংঘর্ষটি ঘটে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জেলা রিজার্ভ গার্ড (ডিআরজি) দল তল্লাশি শুরু করার সময় মাওবাদীরা গুলি চালায়। নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা গুলিবর্ষণ শেষে মাওবাদী দলের বারোজন সদস্য নিহত হয়। নিহতদের মধ্যে কন্টা এরিয়া কমিটির প্রভাবশালী নেতা ও সচিব শচীন মাংড়ু এবং গত বছরের জুনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) আকাশ গিরপুঞ্জের হত্যার পরিকল্পনা করা এক কমান্ডারও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
সুকমা সংঘর্ষস্থল থেকে ১-৪৭ রাইফেল ও ইনসাস রাইফেলসহ দুটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এই অস্ত্রগুলো মাওবাদী দলের গুলিবর্ষণের সময় ব্যবহার করা হয়েছিল বলে অনুমান করা হচ্ছে।
বিজাপুর জেলার দক্ষিণ অংশে দ্বিতীয় সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবর্ষণে দুইজন মাওবাদী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি স্লিং শট রাইফেল (এসএলআর) এবং ১২-বোরের রাইফেল উদ্ধার করা হয়েছে। এই অস্ত্রগুলোও মাওবাদী দলের গুলিবর্ষণের সময় ব্যবহৃত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বস্তার রেঞ্জের ইন্টারগভর্নমেন্টাল পুলিশ (আইজিপি) সুন্দররাজের মতে, বিজাপুরে গুলিবর্ষণ ভোর ৫ টার দিকে শুরু হয় এবং সুকমায় গুলিবর্ষণ সকাল ৮ টার দিকে। উভয় জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি ও তল্লাশি কার্যক্রমের সময়ই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতে জানা যায়, গত বছর ছত্তিশগড় জুড়ে বিভিন্ন নিরাপত্তা অপারেশনে মোট দুইশত পঁচাত্তরজন মাওবাদী নিহত হয়েছিল। এই সংখ্যা অঞ্চলে চলমান বামপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষের মাত্রা নির্দেশ করে।
সংশ্লিষ্ট ঘটনায় স্থানীয় পুলিশ ফাস্ট রেজিস্টার্ড (এফআর) দায়ের করে এবং ঘটনাস্থলে তদন্তের জন্য বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। উদ্ধার করা অস্ত্রের বিশ্লেষণ, গুলি-বারুদের রেজিডু এবং মৃতদেহের ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে। তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী অপরাধমূলক দায়ের প্রক্রিয়া চালু হবে এবং সংশ্লিষ্ট মামলাগুলি স্থানীয় আদালতে দাখিল করা হবে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবর্ষণ ও তল্লাশি কার্যক্রমের বৈধতা নিশ্চিত করতে উচ্চতর কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন। বর্তমানে ঘটনাস্থলে গৃহীত সকল পদক্ষেপের বৈধতা ও প্রোটোকল অনুসরণ নিশ্চিত করার জন্য একটি অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা চলমান।
এই ধরনের সংঘর্ষে সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব বিবেচনা করে, স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে গোয়েন্দা তথ্যের যথাযথ ব্যবহার ও তল্লাশি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।



