যুক্তরাষ্ট্রের সেনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ভেনেজুয়েলা দেশে সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক অভিযানকে ‘নির্লজ্জ সাম্রাজ্যবাদ’ বলে সমালোচনা করেছেন। এই মন্তব্যের পটভূমিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর হস্তক্ষেপের ফলে দেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নেওয়া অন্তর্ভুক্ত। স্যান্ডার্সের বক্তব্যের মূল বিষয় হল, এই ধরনের হস্তক্ষেপ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও আইনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী গত সপ্তাহে ভেনেজুয়েলা সীমান্তে আক্রমণ চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকারকে দুর্বল করে দেয়। সূত্র অনুযায়ী, এই অভিযানটি ট্রাম্প প্রশাসনের অনুমোদনে পরিচালিত হয় এবং লক্ষ্য ছিল মাদুরোর শাসনভঙ্গের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করা। তবে ভেনেজুয়েলীয় সরকার ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই পদক্ষেপকে অবৈধ বলে গণ্য করেছে।
স্যান্ডার্স এক্স (পূর্বে টুইটার) প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করে জানান, “বরং এটি (ভেনেজুয়েলা অভিযান) উল্টো ফল দেবে।” তিনি যুক্তি দেন, এই ধরনের হস্তক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং অন্য কোনো দেশকে অনুপ্রাণিত করতে পারে। তার মতে, এক দেশ যদি অন্য দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে, তবে তা বিশ্বব্যাপী অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে দাঁড়াবে।
স্যান্ডার্স আরও বলেন, “আন্তর্জাতিক আইনের এই নির্লজ্জ লঙ্ঘন পৃথিবীর যেকোনও দেশকে অন্য কোনও দেশ আক্রমণ করার, সম্পদ দখল করার বা সরকার পরিবর্তন করার সুযোগ করে দেবে।” তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন, এমন অনৈতিক পদক্ষেপগুলো আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা ও শান্তির জন্য হুমকি স্বরূপ।
এই প্রসঙ্গে স্যান্ডার্স ট্রাম্পের পদক্ষেপকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ইউক্রেনে আক্রমণের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, পুতিন ইউক্রেনে তার নৃশংস হামলাকে বৈধ করতে যে ভয়াবহ যুক্তি ব্যবহার করেছিলেন, সেটি ঠিক একই রকম।
স্যান্ডার্সের উদ্ধৃতি অনুযায়ী, “পুতিন ইউক্রেনে তার নৃশংস হামলাকে বৈধ করতে যে ভয়াবহ যুক্তি ব্যবহার করেছিলেন, এটিও ঠিক সেই একই রকম।” এই তুলনা দিয়ে তিনি দেখাতে চান, বড় শক্তির দ্বারা অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ের হস্তক্ষেপ কিভাবে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারকে ক্ষুন্ন করে।
অবশেষে স্যান্ডার্স বলেন, “আসুন আমরা কোনও ভুল না করি। এটি স্রেফ নির্লজ্জ সাম্রাজ্যবাদ।” তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে নৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য ও কূটনৈতিকভাবে ক্ষতিকারক হিসেবে চিহ্নিত করেন।
স্যান্ডার্সের মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে ভেনেজুয়েলা বিষয়ক আলোচনায় তীব্রতা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই হস্তক্ষেপের ফলে ভেনেজুয়েলা-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের অবনতি, যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সুনাম ক্ষয় এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক প্রতিবাদ বাড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন। এছাড়া, ভেনেজুয়েলীয় সরকার ও তার সমর্থকরা এই মন্তব্যকে আন্তর্জাতিক আইনের রক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সঙ্কেত হিসেবে গ্রহণ করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, বার্নি স্যান্ডার্সের ‘নির্লজ্জ সাম্রাজ্যবাদ’ মন্তব্যটি শুধু একটি রাজনৈতিক সমালোচনা নয়, বরং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান ও বিশ্ব নিরাপত্তার ওপর প্রশ্ন তোলার একটি আহ্বান। তার বক্তব্যের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলা হস্তক্ষেপের বৈধতা, কূটনৈতিক পরিণতি এবং ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে নতুন আলোচনার দরজা খুলে যাবে।



