সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত পঞ্চম ও শেষ অ্যাশেস টেস্টের প্রথম দিন বৃষ্টির কারণে বাধাগ্রস্ত হলেও, জো রুট ও হ্যারি ব্রুকের ১৫৪ রান অবিচ্ছিন্ন অংশীদারিত্ব ইংল্যান্ডকে ২১১-৩ স্কোরে পৌঁছে শীর্ষে রাখে। টস জিততে পারা ক্যাপ্টেন বেন স্টোকসের পরে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং শুরু হয়, তবে শুরুরই তিনটি উইকেটের পরে দলটি ৫৭-৩ স্কোরে আটকে যায়।
বিকাল চায়ের আগে খারাপ আলোয় খেলোয়াড়দের মাঠ থেকে বের হতে হয়, ফলে স্কোরবোর্ডে ২১১-৩ রেকর্ড হয়। এরপর বৃষ্টিপাত এবং বজ্রপাতের আশঙ্কা নিয়ে খেলা এক ঘণ্টা আগে শেষ করা হয়। রুট ৭২ রান অচৌকস অবস্থায় শেষ করেন, আর ব্রুক ৭৮ রান করে দলকে স্থিতিশীলতা দেন। তাদের অংশীদারিত্বের আগে বেন ডাকেট (২৭), জ্যাক ক্রলি (১৬) এবং জেকব বেটহেল (১০) উইকেট হয়ে গিয়েছিলেন।
বিশ্বের শীর্ষ দুই ব্যাটসম্যানের এই আক্রমণাত্মক খেলা দ্রুতগতির পিচে সম্ভব হয়, যেখানে বোলারদের জন্য খুব কম চলাচল ছিল। উভয়ই কঠিন অর্ধশতক পূরণ করে, এবং গাঢ় মেঘের ছায়া সত্ত্বেও স্কোর দ্রুত বাড়তে থাকে। রুট ও ব্রুকের সংযোজিত রানের গতি ম্যাচের গতি বাড়িয়ে দেয়, যা বৃষ্টির ঝড়ের আগে ইংল্যান্ডকে একটি শক্তিশালী অবস্থানে রাখে।
ব্রুক ম্যাচের শেষে বলেন, “আমরা খুবই ভাল অবস্থানে আছি, শেষের সময়ে তিনজন ডাউন। আগামীকাল এই সুবিধা কাজে লাগাতে চাই।” তিনি পিচের গুণগত মানেও মন্তব্য করেন, “প্রথমে বলের বাউন্স বেশ উঁচু ছিল, পরে তা একটু নিচু ও ধীর হয়ে গেল, মোটামুটি ভাল উইকেট।” তার এই মন্তব্যগুলো ইংল্যান্ডের ব্যাটিং পরিকল্পনার স্বচ্ছতা প্রকাশ করে।
ইংল্যান্ডের এই পারফরম্যান্সের পেছনে সাম্প্রতিক মেলবোর্ন টেস্টের সাফল্য রয়েছে, যেখানে দুই দিনের মধ্যে চার উইকেট জিতে দলটি অস্ট্রেলিয়ায় ১৫ বছরের জয়হীনতা ভেঙে ফেলেছিল। যদিও সেই জয় সিরিজের ফলাফল বদলাতে পারেনি, কারণ অস্ট্রেলিয়া পার্থ, ব্রিসবেন ও অ্যাডিলেডে জয়ী হয়ে ট্রফি রক্ষা করেছে, তবু মেলবোর্নের জয় ইংল্যান্ডের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার দিক থেকে দলটি অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন করে অল-রাউন্ডার বেউ ওয়েবস্টারকে দ্রুত গতি সম্পন্ন জাই রিচার্ডসনের পরিবর্তে অন্তর্ভুক্ত করেছে, আর অফ-স্পিনার টড মারফি বাদ পড়েছে। সিডনি টেস্টে প্রায় ১৪০ বছর পর প্রথমবারের মতো হোস্ট দল কোনো ফ্রন্টলাইন স্পিনার ব্যবহার করেনি, যা অস্ট্রেলিয়ার কৌশলে নতুন মোড় এনে দিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার ক্যাপ্টেন স্টিভ স্মিথ এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মন্তব্য করেন, “এটা করতে না পেরে দুঃখ হয়, তবে যদি আমরা এমন উইকেট পেতে পারি যা স্পিনার না দিয়ে সম্ভব না, তবে তা গ্রহণযোগ্য।” তার এই কথা দলের স্পিনারবিহীন কৌশলের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
পরবর্তী দিন টেস্টের অবশিষ্ট সময়ে উভয় দলই রেইন-ইন্টারভ্যালের পর পুনরায় খেলায় ফিরে আসবে, এবং শেষ পর্যন্ত সিরিজের ফলাফল নির্ধারিত হবে। ইংল্যান্ডের জন্য রুট‑ব্রুকের অংশীদারিত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি স্থাপন করেছে, আর অস্ট্রেলিয়ার নতুন সংযোজনগুলো কীভাবে প্রভাব ফেলবে তা সময়ই বলবে।



