বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আগামী মাসে ভারত ও শ্রীলঙ্কা যৌথভাবে আয়োজন করা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোতে দল পাঠাতে পারবে না বলে সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি রবিবার দুপুরে ১৭ জন বোর্ড পরিচালক নিয়ে অনুষ্ঠিত সভায় চূড়ান্ত করা হয়।
বিশ্বকাপের টুর্নামেন্টটি দুই দেশেই সমানভাবে অনুষ্ঠিত হবে এবং বাংলাদেশকে নির্ধারিত হয়েছে ভারতের ভেন্যুতে তার শেডিউল অনুযায়ী খেলা। তবে নিরাপত্তা ও অন্যান্য উদ্বেগের কথা বিবেচনা করে বিসিবি দল পাঠানোর সম্ভাবনা বাদ দিয়েছে।
বিসিবি পরিচালকদের এই সিদ্ধান্তের পেছনে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটিত একটি ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) থেকে বাদ দেওয়ার পর শনিবার (৩ ডিসেম্বর) রাতেই বিসিবি পরিচালকদের একটি অনলাইন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ঐ বৈঠকে দলীয় শৃঙ্খলা ও শাস্তি সংক্রান্ত বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়।
অনলাইন বৈঠকে বেশিরভাগ পরিচালক কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে সরকারী হস্তক্ষেপের পর সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আসে। সরকারী দৃষ্টিকোণ থেকে নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক দিকগুলো পুনর্মূল্যায়ন করা হয় এবং তা অনুযায়ী দল পাঠানোর পরিকল্পনা বাতিল করা হয়।
ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমূল আবেদীন এই বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানান যে, বিষয়টি নিয়ে দ্রুত একটি আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে স্পষ্ট অবস্থান জানানো হবে।
বিসিবি কর্তৃক প্রকাশিত এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশ দলের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শেডিউলে পরিবর্তন আসবে। দলটি এখন অন্য কোনো ভেন্যুতে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে পারে, তবে বর্তমানে কোনো বিকল্প ব্যবস্থা ঘোষিত হয়নি।
এই সিদ্ধান্তের পূর্বে বিসিবি দলটি প্রস্তুতি গ্রহণে ব্যস্ত ছিল এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অংশগ্রহণের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ সেশন চালু করেছিল। তবে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ ও সরকারী নির্দেশনা অনুসারে পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে।
বিশ্বকাপের অন্যান্য দলগুলো ইতিমধ্যে তাদের শেডিউল অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছে। বাংলাদেশ দলের অনুপস্থিতি টুর্নামেন্টের সামগ্রিক কাঠামোতে বড় পরিবর্তন আনবে না, তবে ভারতীয় ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলোতে শূন্যস্থান থাকবে।
বিসিবি এই সিদ্ধান্তের পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে দলীয় স্টাফ ও খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলাপচারিতা চালিয়ে যাবে এবং প্রয়োজনীয় সমর্থন প্রদান করবে। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সঙ্গে সমন্বয় করে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য নীতি নির্ধারণের কাজ চালু থাকবে।
এই ঘটনাটি ক্রিকেট জগতে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক প্রভাবের গুরুত্বকে আবারও তুলে ধরেছে। দলীয় ম্যানেজমেন্ট ও সরকারী সংস্থাগুলোর সমন্বিত কাজের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
বিসিবি কর্তৃক প্রকাশিত এই ঘোষণার পর, সংশ্লিষ্ট মিডিয়া সংস্থা ও ভক্তদের কাছ থেকে বিভিন্ন মতামত প্রকাশিত হয়েছে। তবে অফিসিয়াল দৃষ্টিকোণ থেকে এখনো কোনো অতিরিক্ত মন্তব্য করা হয়নি।
বিসিবি শীঘ্রই একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করবে, যেখানে সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে জানানো হবে। সেই পর্যন্ত এই বিষয়টি নিয়ে আরও কোনো তথ্য প্রকাশিত হবে না।



