কিয়েভে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের সমাপ্তি, নিরাপত্তা গ্যারান্টি এবং দশ বছরের মধ্যে প্রায় ৮০০ বিলিয়ন ডলার অর্থনৈতিক সহায়তা নিয়ে ইউরোপীয় ও অন্যান্য মিত্র দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে ইউক্রেনের প্রতিনিধিত্বকারী ওলেক্সান্দার বেভজ নিরাপত্তা পরিকল্পনার মূল দিকগুলো উপস্থাপন করেন, যেখানে প্রথম প্রতিরক্ষা স্তর হিসেবে ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা জোর দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকের পর ইউক্রেনের উপ-প্রধানমন্ত্রী তারাস কাচকা উল্লেখ করেন যে, আন্তর্জাতিক অংশীদাররা আগামী দশকে ইউক্রেনের পুনর্গঠন ও উন্নয়নের জন্য প্রায় ৮০০ বিলিয়ন ডলার অর্থের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই পরিমাণের মধ্যে অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ, শক্তি সেক্টরের আধুনিকায়ন এবং মানবিক সহায়তা অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে জানা যায়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি প্যারিস সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যেখানে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নিয়ে অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা হবে। তিনি জানান, শান্তি প্রস্তাবের ১৮টি নথি ইতিমধ্যে ১৮টি দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই নথিগুলো ইউরোপের বিভিন্ন রাজধানী, কানাডা, জাপান এবং অন্যান্য মিত্র দেশের উচ্চ পর্যায়ের আলোচনায় ব্যবহৃত হবে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই বৈঠক ইউক্রেনের নিরাপত্তা কাঠামোকে আন্তর্জাতিক সমর্থনের সঙ্গে সংহত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। পূর্বে অনুষ্ঠিত গ্যাঁভা এবং জেনেভা আলোচনার তুলনায়, কিয়েভে গৃহীত নিরাপত্তা গ্যারান্টি আরও স্পষ্টভাবে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিশ্চিত করে, যা রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘর্ষে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে।
ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ এবং সামরিক বিভাগের প্রতিনিধিরা সোমবার প্যারিসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অংশ নেবেন। এই বৈঠকটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিরাপত্তা নীতি ও সামরিক সহায়তার সমন্বয়কে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে পরিচালিত হবে। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, পোল্যান্ড এবং নেটো সদস্য দেশগুলো অন্তর্ভুক্ত, যা ইউক্রেনের নিরাপত্তা গ্যারান্টি বাস্তবায়নে বহুমুখী সমর্থন নিশ্চিত করবে।
কিয়েভে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকের ফলস্বরূপ, ইউক্রেনের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের রোডম্যাপ স্পষ্ট হয়েছে। আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, পরবর্তী মাসগুলোতে ইউরোপীয় ক্যাপিটালগুলোতে অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষর এবং প্যারিসে নির্ধারিত সামরিক সহযোগিতা পরিকল্পনা কার্যকর করা হবে। একই সঙ্গে, জেলেনস্কি ও তার দল প্যারিসে উপস্থাপন করা শান্তি প্রস্তাবের ভিত্তিতে রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা অনুসন্ধান করবে।
এই পর্যায়ে ইউক্রেনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং মিত্র দেশগুলোর সমর্থন একত্রে একটি সমন্বিত কৌশল গড়ে তুলছে, যা যুদ্ধের পরবর্তী পর্যায়ে স্থিতিশীলতা ও পুনর্গঠন নিশ্চিত করার লক্ষ্য রাখে। ভবিষ্যতে, ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে ইউক্রেনের অবস্থান পুনর্নির্ধারণ এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য নির্ধারিত সময়সূচি অনুসারে অগ্রগতি দেখা যাবে।



