ঢাকা শহরের বিভিন্ন প্রধান রাস্তায় অবরোধ ও প্রতিবাদে গতি হ্রাসের ফলে স্বাভাবিক ২০-২৫ মিনিটের যাত্রা সময় দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত বাড়ে। হাতিরপুলের মোতালেব প্লাজার সামনে, ফার্মগেট ও কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারা মোড়ে প্রতিবাদকারীরা পুলিশের সঙ্গে পাল্টা-ধাওয়া চালায়, ফলে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং জনসাধারণের চলাচল কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
অবরোধের প্রভাব শহরের বাস ও গণপরিবহনেও স্পষ্ট, বহু বাস সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাসের অপেক্ষা সময় এক ঘণ্টা পর্যন্ত বাড়ে। জুরাইন থেকে পান্থপথের একটি হাসপাতালে গিয়ে মাকে নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন বাবুল সরকার, তবে বাস না পাওয়ায় তিনি কারওয়ান বাজার মোড়ে এক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে বাধ্য হন। তিনি জানান, অবরোধের ফলে বাস চলাচল সম্পূর্ণ থেমে গেছে এবং তিনি ও তার মা চরম অসুবিধার মুখোমুখি হয়েছেন।
শ্যামলী থেকে শাহবাগে হেঁটে যাওয়া মো. জাকারিয়া, যিনি হোটেলগুলিতে পণ্য সরবরাহ করেন, একই সমস্যার সম্মুখীন। তিনি দীর্ঘ সময় বাসের জন্য অপেক্ষা করার পরেও কোনো সেবা পাননি, ফলে শ্যামলী থেকে শাহবাগ পর্যন্ত হেঁটে যেতে বাধ্য হন। তার একজন ক্রেতা শাহবাগে এক ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন, যা জাকারিয়ার মতে অবরোধের নামে মানুষকে জিম্মি করার একটি উদাহরণ।
শেওড়াপাড়া থেকে কারওয়ান বাজারে মোটরসাইকেলে যাতায়াতের সময় সাধারণত ২০ থেকে ২৫ মিনিট লাগত, তবে আজ একই পথে দেড় ঘণ্টা বেশি সময় লেগেছে। একই সময়ে, বিজয় সরণি থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত রাস্তা পুলিশ বন্ধ করে রেখেছে; ফার্মগেটের দিকে যাওয়া গাড়িগুলি উড়ালসড়ক দিয়ে তেজগাঁওয়ের দিকে পাঠানো হচ্ছে, ফলে পুরো এলাকায় গাড়ি জ্যাম বেড়েছে।
মোহাম্মদপুর থেকে সকাল ৯টা ১০ মিনিটে সিএনজি চালিত অটোরিকশা নিয়ে কারওয়ান বাজারে যাওয়ার পরিকল্পনা করা আরেকজন সাংবাদিক, মোস্তফা কামাল, রাস্তায় আটকে যান। তিনি কুমারবাড়ি এলাকায় গাড়ি থেমে যাওয়ার পর ইন্দিরা রোডে প্রবেশ করেন, যেখানে তীব্র যানজটের কারণে অটোরিকশা বহুক্ষণ আটকে থাকে। শেষ পর্যন্ত তিনি হেঁটে কারওয়ান বাজারে পৌঁছান; সাধারণত এই যাত্রা প্রায় ৩০ মিনিটে শেষ হতো, কিন্তু আজ দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে।
প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের দৃশ্য হাতিরপুলে মোতালেব প্লাজার সামনে দেখা যায়। মোবাইল ফোন বিক্রেতারা এবং পুলিশ একে অপরের ওপর সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদান ব্যবহার করে ধাক্কা মারছে। এই ধরনের সহিংসতা রাস্তায় চলাচলকে আরও কঠিন করে তুলেছে এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
অবরোধের ফলে ঢাকা শহরের বিভিন্ন অংশে গাড়ি চলাচল সীমিত হয়ে গিয়েছে; বাস, সিএনজি, অটো-রিকশা সহ সব ধরনের গাড়ি রাস্তায় আটকে আছে। ফলে বহু মানুষ হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন, যা সময় ও শক্তি দুটোই ক্ষয় করছে। শহরের প্রধান রাস্তাগুলোর বন্ধ ও বিকল্প পথে গাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা সাময়িক হলেও, ট্রাফিক জ্যাম দূর করতে দীর্ঘ সময় লাগবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
এই অবরোধের মূল কারণ ও সংগঠনের পটভূমি স্পষ্ট না হলেও, রাস্তায় চলাচল বন্ধ হওয়া, বাস সেবার বন্ধ হওয়া এবং পুলিশ-প্রতিবাদকারী সংঘর্ষের ধারাবাহিকতা শহরের দৈনন্দিন জীবনে বড় প্রভাব ফেলেছে। ভবিষ্যতে যদি অবরোধ অব্যাহত থাকে, তবে ঢাকা শহরের পরিবহন ব্যবস্থার উপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়তে পারে এবং রাজনৈতিক দিক থেকে চাপ বাড়তে পারে।



