সৌদি আরবের রিয়াদের উত্তরাঞ্চলে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত চলমান কিং আব্দুল আজিজ ফ্যালকনরি উৎসব ২০২৫, বিশ্বের বৃহত্তম বাজবাজি উৎসব হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষক ও বাজপাখি মালিকেরা একত্রিত হয়ে গতি ও সৌন্দর্যের দু’ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন।
উৎসবের মূল আকর্ষণ হল ৪০০ মিটার দীর্ঘ কৃত্রিম ট্র্যাক, যেখানে প্রশিক্ষিত বাজপাখি দ্রুতগতিতে দৌড়ে। শুরুর সময় পাখির চোখ ঢাকা থাকে, এবং ট্র্যাকের শেষ প্রান্তে স্থাপিত কৃত্রিম শিকারের দিকে সিগন্যাল পাওয়া মাত্র চোখ খুলে মুক্তি পায়। এই রেসে চারটি দক্ষতার স্তর—মালিক, অপেশাদার, পেশাদার এবং অভিজাত—অনুযায়ী প্রতিযোগিতা হয়, এবং সৌদি ও আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণকারীদের জন্য আলাদা বিভাগও রয়েছে।
রেসের পাশাপাশি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে পাখির গঠন, পালকের রঙ ও সামগ্রিক নান্দনিকতা বিচার করা হয়। এই দুইটি প্রধান ইভেন্টের মাধ্যমে বাজপাখির গতি, প্রশিক্ষণ ও শারীরিক বৈশিষ্ট্য উভয়ই মূল্যায়ন করা হয়।
উৎসবের আয়োজকরা জানিয়েছেন, মোট ১৩৯ রাউন্ডের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং ১,০১২টি পুরস্কার প্রদান করা হবে। অংশগ্রহণকারী দেশ সংখ্যা নয়টি, যার মধ্যে গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) সদস্য দেশগুলো, ইতালি, আয়ারল্যান্ড এবং সিরিয়া অন্তর্ভুক্ত।
বাজপাখি সংখ্যার ভিত্তিতে এই উৎসব ইতিমধ্যে তিনটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড অর্জন করেছে, যা এটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাজপাখি উৎসবের মর্যাদা দিয়েছে।
সৌদি ফ্যালকনস ক্লাবের মুখপাত্র ওয়ালিদ আল-তাওয়েল উল্লেখ করেছেন, এই উদ্যোগ কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাজপাখি পালনের ঐতিহ্য ও বেদুইন সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে পরিচালিত। তিনি আরও বলেন, বাজপাখি শিকারের ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরতে এই ধরনের ইভেন্ট অপরিহার্য।
উৎসবের সময়সূচি অনুযায়ী, রেস ও সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা সমান্তরালে চলবে, এবং প্রতিটি রাউন্ডের শেষে বিজয়ী পাখি ও তার প্রশিক্ষকের নাম ঘোষণা করা হবে। অংশগ্রহণকারীরা ট্র্যাকের চারপাশে বসে রেসের উত্তেজনা উপভোগ করেন, এবং দর্শকরা পাখির গতি ও চঞ্চলতা প্রত্যক্ষ করতে পারেন।
এই বছরের ফ্যালকনরি উৎসবে বিশেষভাবে লক্ষ্য করা হয়েছে আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণকারীদের জন্য আলাদা বিভাগ তৈরি করা, যাতে দেশীয় ও বিদেশী পাখির পারফরম্যান্স তুলনা করা যায়। ফলে, রিয়াদের উত্তরাঞ্চলের মরুভূমি এখন একটি বৈশ্বিক ক্রীড়া মঞ্চে রূপান্তরিত হয়েছে।
উৎসবের শেষ দিন, ১০ জানুয়ারি, পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে শীর্ষস্থানীয় পাখি ও প্রশিক্ষকদের সম্মানিত করা হবে। পুরস্কারগুলো নগদ, ট্রফি এবং ভবিষ্যৎ প্রশিক্ষণ সুবিধা সহ বিভিন্ন রূপে প্রদান করা হবে।
বাজপাখি শিকারের ঐতিহ্যবাহী দেশগুলোর জন্য এই ইভেন্টটি একটি সাংস্কৃতিক সংযোগের সেতু হিসেবে কাজ করছে, যেখানে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো নিজেদের ঐতিহ্য ও আধুনিক প্রশিক্ষণ পদ্ধতি ভাগ করে নেয়।
উৎসবের আয়োজকরা ভবিষ্যতে আরও বেশি দেশকে অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে বাজপাখি ক্রীড়া বিশ্বব্যাপী আরও জনপ্রিয় হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বেদুইন সংস্কৃতির সমৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মঞ্চে সৌদি আরবের অবস্থান শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, কিং আব্দুল আজিজ ফ্যালকনরি উৎসব ২০২৫ রিয়াদের উত্তরে গতি, দক্ষতা ও সৌন্দর্যের এক অনন্য সমন্বয় উপস্থাপন করছে, যা বিশ্বের নজর কেড়ে নিয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় ক্রীড়া ইভেন্টের মঞ্চ প্রস্তুত করবে।



