মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রবিবার ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে একটি সামরিক আক্রমণ চালায়, যার ফলে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনার ফলে ভেনেজুয়েলার শাসন কাঠামোতে তীব্র অশান্তি দেখা দেয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তীব্র আলোচনার সূচনা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এই আক্রমণকে ভেনেজুয়েলার নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলার জন্য পরিকল্পিত বলে জানায়, এবং মাদুরো ও তার স্ত্রীর গ্রেফতারকে বৈধ পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করে। তবে এই কাজটি আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে রিপোর্ট হয়েছে এবং বিভিন্ন দেশের সরকারী সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনার ওপর তীব্র নিন্দা প্রকাশ করে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রকে নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সঙ্গে সঙ্গে মুক্তি দিতে হবে এবং ভেনেজুয়েলার সরকারকে উল্টে ফেলা বন্ধ করতে হবে।
চীন আরও উল্লেখ করে যে কারাকাসে করা এই আক্রমণ আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। মন্ত্রণালয় এই ধরনের একতরফা সামরিক হস্তক্ষেপকে আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি আঘাত হিসেবে বিবেচনা করেছে।
চীনের এই অবস্থান ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে। মাদুরো ও তার স্ত্রীর অবিলম্বে মুক্তি না হলে চীন আরও কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে।
অধিকন্তু, চীন ভেনেজুয়েলার সরকারকে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমর্থন সংগ্রহে উৎসাহিত করেছে এবং বৈশ্বিক স্তরে এই বিষয়টি উত্থাপন করার আহ্বান জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের ফলে দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর চাপ বাড়তে পারে। পূর্বে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সংলাপের কিছু অংশে উত্তেজনা দেখা গিয়েছিল, এবং এই ঘটনা তা আরও তীব্র করতে পারে।
ভেনেজুয়েলার সরকারী সূত্রে জানানো হয়েছে যে মাদুরো ও তার স্ত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের অবিলম্বে মুক্তি নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রত্যাশা। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট উত্তর এখনো প্রকাশিত হয়নি।
আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোও এই ঘটনার ওপর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক আইনের মানদণ্ড মেনে চলতে এবং ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বকে সম্মান করতে আহ্বান জানিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বিষয়টি উত্থাপনের সম্ভাবনা বাড়ছে। যদি বিষয়টি নিরাপত্তা পরিষদে আলোচনার শীর্ষে উঠে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উভয়েরই অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে।
ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবেশেও এই ঘটনার প্রভাব স্পষ্ট। মাদুরোর গ্রেফতার দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং বিরোধী গোষ্ঠীর কার্যকলাপকে ত্বরান্বিত করতে পারে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক পদক্ষেপের ফলে লাতিন আমেরিকায় তার কূটনৈতিক অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অঞ্চলের বহু দেশ এই ধরনের একতরফা হস্তক্ষেপকে নিন্দা করেছে এবং ভেনেজুয়েলার স্বায়ত্তশাসনকে সমর্থন করার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।
চীনের স্পষ্ট নিন্দা ও মুক্তির আহ্বান আন্তর্জাতিক মঞ্চে নতুন একটি জটিলতা যোগ করেছে। ভবিষ্যতে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে এই বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে মাদুরো ও তার স্ত্রীর মুক্তি না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োগ, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব এবং বড় শক্তিগুলোর কূটনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে একটি সংবেদনশীল সমন্বয়কে উন্মোচিত করেছে। পরবর্তী দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং ভেনেজুয়েলার সরকার কীভাবে পদক্ষেপ নেবে তা গ্লোবাল পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে থাকবে।



