বাংলাদেশ সরকার আইপিএল (ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ) টেলিভিশন সম্প্রচার বন্ধ করার সম্ভাবনা নিয়ে আইনগত ভিত্তি ও প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করছে, তথ্য ও সম্প্রচার অধিদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান আজ গোপনীয়তা না রেখে জানিয়েছেন।
রিজওয়ানা আজ বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত আলোচনা সভায়, সেক্রেটারিয়েট মিডিয়া সেন্টারে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে এই বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
এই মন্তব্যের আগে আইন উপদেষ্টা প্রফেসর আসিফ নাজরুল গতকাল ফেসবুকে একটি পোস্টে আইপিএল টেলিকাস্ট বন্ধ করার পরামর্শ দেন, কারণ বাংলাদেশি ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
মুস্তাফিজুরের বাদ পড়া সম্পর্কে মিডিয়ায় জানানো হয়েছে যে, পূর্বে নিশ্চিত হওয়া সত্ত্বেও রাজনৈতিক কারণে তাকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের ক্রিকেট ভক্তদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
রিজওয়ানা উল্লেখ করেন, খেলাধুলা যদি কেবল খেলাধুলা হিসেবে রাখা হতো তবে এ ধরনের বিরোধ এড়ানো যেত। তিনি বলেন, “দুঃখজনকভাবে, রাজনীতি এই খেলায় প্রবেশ করেছে।”
তিনি আরও বলেন, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও ক্রীড়া সাধারণত দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা কমাতে সহায়ক হয়, তবে বাংলাদেশ ও ভারতের ক্ষেত্রে বর্তমান পরিস্থিতি তা উল্টে দিয়েছে।
একজন খেলোয়াড়ের রাজনৈতিক কারণে বাদ পড়া দেশের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত হানেছে, এ কথাটি রিজওয়ানা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই ধরনের পদক্ষেপ জনগণের মনোবল ক্ষয় করে।
সরকারের দৃষ্টিকোণ থেকে, তিনি বলেন, “এই পরিস্থিতিতে আমাদেরও একটি অবস্থান নিতে হবে,” এবং যোগ করেন যে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে আইনগত ভিত্তি ও প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে পর্যালোচনা করা হবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, আইপিএল সম্প্রচার সংক্রান্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট সকল নীতিমালা বিবেচনা করা হবে।
এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশিত হয়নি যে কখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে; তবে সরকার এই বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
রিজওয়ানা শেষ কথা বলেন, খেলাধুলা যেন রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত থাকে, এটাই দেশের ক্রীড়া নীতি হওয়া উচিত। তিনি আশাবাদী যে ভবিষ্যতে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি ভিত্তিক বিনিময় আবার শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলবে।
এইভাবে, আইপিএল সম্প্রচার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের আগে সরকার আইনগত দিক থেকে সম্পূর্ণ বিশ্লেষণ চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হলে তা স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত হয়।



