ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়কে আজ সকালে প্রতিবাদী কর্মসূচি শুরু হওয়ায় গাড়ি চলাচল প্রায় সম্পূর্ণ থেমে যায়। মোবাইল ফোন দোকানদারদের সমন্বয়ে জাতীয় স্তরে বন্ধের অংশ হিসেবে কারওয়ান বাজার চত্বর বন্ধ করা হয়, যেখানে জাতীয় সরঞ্জাম পরিচয় রেজিস্টার (NEIR) বাস্তবায়নের সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়ার দাবি তোলা হয়। একই সময়ে সোনারগাঁও চত্বরের কাছে প্রায় ১১:৫০ টায় একটি সিট-ইন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ব্যানার ও স্লোগান দিয়ে প্রতিবাদকারীরা ট্র্যাফিককে আরও জটিল করে তুলেছে।
তেজগাঁও কলেজের ছাত্রছাত্রীরা ফার্মগেট চত্বরকে অবরোধ করে, তাদের সহপাঠী সাকিবুল হাসান রানা, যিনি ১০ই ডিসেম্বর একটি ডরমিটরি হামলায় আঘাত পেয়ে চার দিন পর মারা গেছেন, তার ন্যায়বিচার দাবি জানায়। ফার্মগেটের অবরোধ প্রায় সকাল ১০ টায় শুরু হয় এবং আশেপাশের সড়কগুলোতে গাড়ি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এই দুইটি প্রধান চত্বরের পাশাপাশি প্যানথাপথ ও বিজয় সরণি এলাকায়ও গাড়ি চলাচল ধীর হয়ে যায়।
অবরোধের ফলে গাড়ি গুলো দীর্ঘ সময়ের জন্য থেমে থাকে, ফলে বহু যাত্রীকে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়। ট্র্যাফিক জ্যামের কারণে গাড়ি চালকদের জন্য জ্বালানি ও সময়ের ক্ষতি বাড়ে, আর যাত্রীদের জন্য দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করতে হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ফেসবুক গ্রুপগুলোতে এই জ্যামের ব্যাপারে অসংখ্য পোস্ট উঠে আসে, যেখানে ব্যবহারকারীরা কেন ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, প্যানথাপথ ও বিজয় সরণি এলাকায় গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়েছে তা জানতে চায়। কিছু পোস্টে অন্যদেরকে এই এলাকায় না যাওয়ার সতর্কতা দেওয়া হয়।
গুগল ম্যাপসের ট্র্যাফিক রেডি-লাইনেও ফার্মগেট ও কারওয়ান বাজারের আশেপাশের প্রধান সড়কগুলো লাল রঙে চিহ্নিত হয়েছে, যা গাড়ি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধের সূচক। মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে বসুন্ধরা সিটি এবং কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ পর্যন্ত এই জ্যাম বিস্তৃত। এই পরিস্থিতি শহরের দৈনন্দিন চলাচলকে কঠিন করে তুলেছে এবং কর্মস্থল, স্কুল ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে সময়মতো পৌঁছাতে ব্যর্থতা সৃষ্টি করেছে।
মোবাইল ফোন দোকানদারদের প্রতিবাদে NEIR বাস্তবায়নের সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়ার দাবি সরকারের নীতি সংক্রান্ত আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এই রেজিস্টারটি দেশের মোবাইল ডিভাইসের সনাক্তকরণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পরিকল্পিত, তবে ব্যবসায়িক গোষ্ঠী এটিকে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার বলে বিবেচনা করে।
সোনারগাঁও চত্বরের সিট-ইন প্রতিবাদকারীরা মূলত ট্র্যাফিকের স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে, যা শহরের কর্মী ও বাসিন্দাদের দৈনন্দিন রুটে প্রভাব ফেলে। তাদের স্লোগান ও ব্যানার থেকে স্পষ্ট হয় যে তারা সরকারী নীতিমালার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করছে, যদিও নির্দিষ্ট কোনো দাবি উল্লেখ করা হয়নি।
ফার্মগেটের ছাত্রদের প্রতিবাদে সাকিবুল হাসান রানা নামের ছাত্রের মৃত্যুর পরিপ্রেক্ষিতে ন্যায়বিচার চাওয়া হয়। তার মৃত্যুর কারণ ও ঘটনার বিশদ তথ্য এখনও পুরোপুরি প্রকাশিত হয়নি, তবে ছাত্রদের দাবি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
এইসব প্রতিবাদ একসঙ্গে শহরের প্রধান সড়কে বিশাল জ্যাম সৃষ্টি করেছে, যা কর্মী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনে বড় প্রভাব ফেলেছে। গাড়ি চালক ও যাত্রীদের জন্য বিকল্প রুট খুঁজতে বাধ্য করা হয়েছে, তবে বিকল্প রুটগুলোও অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে কার্যকর হয়নি।
সামাজিক মিডিয়ায় ট্র্যাফিক অবস্থা সম্পর্কে তথ্য শেয়ার করা হয়, যেখানে ব্যবহারকারীরা রিয়েল-টাইম আপডেটের মাধ্যমে অন্যদেরকে সতর্ক করে। এই ধরনের তথ্য শেয়ারিং ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা ও জরুরি সেবা প্রদানকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
সরকারি দিক থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি, তবে ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিবাদকারীদের চাহিদা মেটানোর জন্য সম্ভাব্য পদক্ষেপের প্রস্তুতি নেওয়া হতে পারে।
প্রতিবাদগুলো যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে ঢাকা শহরের ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা ও নীতি নির্ধারণে বড় পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে NEIR সংক্রান্ত বিষয়টি যদি সরকারী দৃষ্টিকোণ থেকে পুনর্বিবেচনা করা হয়, তবে মোবাইল শিল্পের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।
অবশেষে, শহরের বাসিন্দা ও কর্মীদের জন্য এই পরিস্থিতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে, যেখানে নিরাপদ ও দ্রুত গমনাগমন নিশ্চিত করার জন্য সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজন।



