রবিবার সরকারী সচিবালয়ে খাদ্য মজুত পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতে উপস্থিত ছিলেন দেশের খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে কোনো খাদ্য সংকটের ঝুঁকি নেই এবং ভারত-বাংলাদেশের রাজনৈতিক উত্তেজনা খাদ্য সরবরাহে প্রভাব ফেলবে না।
দুই দেশের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাবকে তিনি বাজারের স্বাভাবিক গতিবিধির সঙ্গে তুলনা করে দেখিয়েছেন। অর্থাৎ, কূটনৈতিক সম্পর্কের ওঠানামা সরাসরি চাল ও গমের দাম বা সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করবে না।
বাংলাদেশ বর্তমানে ভারতের থেকে চাল আমদানি করে, এবং এই লেনদেনটি আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যে সম্পন্ন হয়। ভারতীয় সরবরাহকারীও একই শর্তে বিক্রি করে, ফলে উভয় পক্ষের বাণিজ্যিক স্বার্থ বজায় থাকে।
মজুমদার জোর দিয়ে বলছেন, সব ধরনের খাদ্য আমদানি কেবল বাজারের চাহিদা পূরণের জন্য করা হয়, কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নয়। যেখানে ঘাটতি দেখা যায়, সেখান থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়।
গমের ক্ষেত্রে দেশীয় উৎপাদন সীমিত, ফলে পুরো চাহিদা—প্রায় ৭০ লক্ষ মেট্রিক টন—ইম্পোর্টের মাধ্যমে পূরণ করা হয়। গমের মোট চাহিদা ও উৎপাদনের পার্থক্য সরাসরি আমদানি নীতিতে প্রভাব ফেলে।
বছরের পরিসরে গমের দেশীয় উৎপাদন প্রায় ১০ লক্ষ মেট্রিক টন, যা মোট চাহিদার এক-চতুর্থাংশের কাছাকাছি। অবশিষ্ট অংশ সম্পূর্ণভাবে বিদেশি সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল।
চালের ক্ষেত্রে অধিকাংশ উৎপাদন দেশীয়, তবে কিছু পরিমাণ আমদানি করা হয়। আমদানি চালের অংশ বিভিন্ন চ্যানেলের মাধ্যমে বাজারে পৌঁছে, যা সরবরাহের বৈচিত্র্য নিশ্চিত করে।
মজুমদার উল্লেখ করেন, এই বছরের চালের আমদানি পরিমাণ শেষ হওয়ার পরই সঠিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করা সম্ভব হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, পরবর্তী কয়েক মাসে আমদানি পরিমাণ পূর্বের বছরের তুলনায় হ্রাস পাবে।
সরকারি গুদামে বর্তমানে মোট ২০,২৭,৪২০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য সংরক্ষিত রয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ১৬,৯৬,৭৮৭ টন চাল, ২,৩৩,২২৪ টন গম এবং ৯,০৭,৪০৯ টন ধান, যা বিভিন্ন মৌসুমে চাহিদা মেটাতে যথেষ্ট বলে বিবেচিত।
এই পরিমাণের ভিত্তিতে বাজারে সরবরাহের ঘাটতি দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা



