বাংলাদেশের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের মতবিনিময় সভায় জানিয়েছেন, আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের বিষয়টি এখন আইনি ভিত্তি যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন, “চুপ করে বসে থাকা যায় না, আমাদের একটা প্রতিক্রিয়া দেখাতে হবে।”
ক্লাসিক্যাল ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানের কেলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) দলের অংশগ্রহণের পরিকল্পনা ছিল, তবে ৩ জানুয়ারি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) কর্তৃক নির্দেশে তাকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের পর বাংলাদেশে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা দেখা যায়।
আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের দাবি প্রথমে আইপিএল তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানের কাছে পৌঁছায়, যখন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশ্যে এই উদ্যোগের জন্য তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টার কাছে অনুরোধ জানান। তিনি উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের প্রস্তাবটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা দরকার।”
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সভায় ব্যাখ্যা করেন, খেলাটিকে যদি ক্রীড়া মঞ্চে রাখা যেত, তবে তা ভালো হতো, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে ক্রীড়া ক্ষেত্রটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে থাকা টেনশন কমানো সম্ভব, কিন্তু এখন উল্টো কাজ হচ্ছে।”
মোস্তাফিজুরের বাদ পড়া নিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, “একজন বাংলাদেশি খেলোয়াড়কে রাজনৈতিক যুক্তিতে বাদ দেওয়া হলে দেশের জনগণের মধ্যে আঘাতের অনুভূতি জাগে।” এই অনুভূতি থেকে উদ্ভূত হওয়া প্রতিক্রিয়ার জন্য সরকারকে স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে, তিনি যোগ করেন।
আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের সম্ভাবনা নিয়ে রিজওয়ানা হাসান জানান, এই সিদ্ধান্তের জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ভিত্তি ও প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে পর্যালোচনা করা হবে। তিনি বলেন, “যদি আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো বাধা না থাকে, তবে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব।”
বক্তব্যের সময় তিনি উল্লেখ করেন, “খেলাধুলা হল দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বের সেতু, যা রাজনৈতিক উত্তেজনা কমাতে সহায়তা করে।” তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সেতুটি উল্টে গেছে, ফলে ক্রীড়া ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।
আলোচনার পর, তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান জানিয়েছেন, আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হলে তা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে, যাতে দর্শকদের বিভ্রান্তি না হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, “যদি সম্প্রচার বন্ধ করা হয়, তবে তা সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য হবে এবং পরবর্তীতে পুনরায় মূল্যায়ন করা হবে।”
এই ঘটনায় আইপিএল ভক্তদের মধ্যে অসন্তোষের স্রোত দেখা যায়। তবে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করেন।
অধিকন্তু, রিজওয়ানা হাসান উল্লেখ করেন যে, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্টে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ফলে ক্রীড়াবিদদের ক্যারিয়ার ও দেশের ক্রীড়া সুনাম উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি বলেন, “এ ধরনের সিদ্ধান্তের ফলে কেবল এক খেলোয়াড় নয়, পুরো ক্রীড়া সম্প্রদায়ের ওপর প্রভাব পড়ে।”
বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শেষে, উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে রিজওয়ানা হাসান জানান, “আমরা আইনি পরামর্শের ভিত্তিতে যথাযথ পদক্ষেপ নেব এবং দেশের ক্রীড়া স্বার্থ রক্ষা করব।” তিনি শেষ করে বললেন, “খেলাধুলা হল জাতির গর্ব, তা রক্ষার জন্য আমাদের সক্রিয় হতে হবে।”,
সপ্তাহের শেষের দিকে, আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের সম্ভাবনা নিয়ে সরকারী দপ্তরের অভ্যন্তরীণ মিটিং নির্ধারিত হয়েছে। সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা ভক্ত ও ক্রীড়াবিদ উভয়ই এই বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করছেন।
এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি ও ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণের প্রভাবও বিবেচনা করা হবে, যাতে একই ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ পুনরায় না ঘটে।



