সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে পঞ্চম অ্যাশেস টেস্টের প্রথম দিন বৃষ্টির এবং অন্ধকারের কারণে মাঝপথে থেমে যায়। ইংল্যান্ডের ব্যাটিং শুরুর সময় জো রুট ও হ্যারি ব্রুকের যৌথ ২১১-৩ স্কোরকে বাধা দেয়া হয়, যখন আবহাওয়া সন্ধ্যার সেশনটি বাতিল করে দেয়।
রুট ও ব্রুকের ১৫৪ রানবিশিষ্ট চতুর্থ উইকেটের অংশীদারিত্ব সিরিজের সর্বোচ্চ পার্টনারশিপ, যদিও দলটি এখন পর্যন্ত ৩-১ পিছিয়ে। ক্যাপ্টেন বেন স্টোকসের টস জয় করার পর, ইংল্যান্ড ৫৭-৩ স্কোরে শুরুর ঝুঁকি সামলাতে বাধ্য হয়, ফলে ব্যাটিং শর্তের সুবিধা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়।
বেটনের প্রথম দিনেই তিনটি উইকেট হারায়। বেন ডাকেট মিচেল স্টার্কের বোলিংয়ে ২৭ রান করে পেছনে ধরা পড়ে, জ্যাকব বেটহেল স্কট বল্যান্ডের গ্লাভসের কাছে ১০ রানেই আউট হয়, আর জ্যাক ক্রলি মাইকেল নেসারের লবওয়াইয়ে ১৬ রানেই শেষ করে। এই তিনটি উইকেটের পরে রুট ও ব্রুক শূন্যে ফিরে এসে একসাথে দৌড়ে উঠে।
রুটের অটল ৭২ না-আউট পারফরম্যান্স তাকে অস্ট্রেলিয়ায় দ্বিতীয় শতক অর্জনের সুযোগ দেয়, আর ব্রুকের ৭৮ রান তাকে দশম টেস্টে প্রথম অ্যাশেস শতক অর্জনের কাছাকাছি নিয়ে যায়। উভয়ই শূন্যে ফিরে এসে দলকে পুনরুজ্জীবিত করে, যা ইংল্যান্ডের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সান্ত্বনা বয়ে আনে।
প্রারম্ভিক ১৩ ওভারের মধ্যে হোস্ট দল তিনটি উইকেট নেয়, তবে তাদের বোলিং ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়। অস্ট্রেলিয়া টড মারফি নামের অফ-স্পিনারকে বাদ দিয়ে, ১৮৮৮ সালের পর প্রথমবারের মতো সিডনি টেস্টে কোনো বিশেষজ্ঞ স্পিনার না রাখে। এই কৌশলগত পরিবর্তন ম্যাচের গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে।
স্থানীয় সময় ১৪:৫৫ টায় অন্ধকারের কারণে খেলা থেমে যায়, এরপর বৃষ্টির ঝড়ে মাঠে আবারো ব্যাঘাত আসে। যদিও পরে আবহাওয়া পরিষ্কার হয়ে আলো উন্নত হয়, তবু দুই ঘণ্টা পর খেলা সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হয়, ফলে দিনের ৯০ ওভারের অর্ধেকই খেলা হয়নি।
রুট তৃতীয় ম্যানের দিকে একটি সিঙ্গেল কাটিয়ে তার অর্ধশতক পূর্ণ করে, যা তার স্থিতিশীলতা ও শৃঙ্খলা প্রকাশ করে। পূর্বে মেলবোর্নে ইংল্যান্ডের দুই দিনের জয় পর, অস্ট্রেলিয়ার কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড টেস্ট সিরিজের গুরুত্বকে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট সংগ্রহে সীমাবদ্ধ করে বলেন, “অ্যাশেস শেষ হয়ে গেছে”। এই মন্তব্যের ফলে সিডনি ম্যাচের উত্তেজনা কিছুটা কমে যায়।
সিডনি টেস্টে এখনো কোনো বড় ঝুঁকি দেখা যায় না, কারণ মাত্র তিনটি টেস্টে অ্যাশেসের ফল নির্ধারিত হয়েছে এবং ইংল্যান্ডের পেছনে থাকা অবস্থান পরিবর্তন করা কঠিন। তবে রুট ও ব্রুকের পারফরম্যান্স দলকে পুনরায় আত্মবিশ্বাস দেয়, এবং পরবর্তী দিনগুলিতে কীভাবে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হবে তা দেখার জন্য উভয় দলই প্রস্তুত।
পরবর্তী টেস্টের সময়সূচি এখনও নির্ধারিত, এবং উভয় দলই শীঘ্রই আবার মাঠে ফিরে আসবে, যেখানে পয়েন্ট সংগ্রহের জন্য প্রতিটি রান ও উইকেটের মূল্য বাড়বে।



