রবিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন আদালতে সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল ও তার পারিবারিক সদস্যদের নামে থাকা একশ তেইশটি ব্যাংক হিসাব, একটি সঞ্চয়পত্র এবং তিনটি বাণিজ্যিক অফিসার (বিও) হিসাবের লেনদেন স্থগিত করার নির্দেশ জারি করা হয়।
এই আদেশটি বিচারক সাব্বির ফয়েজের হাতে রচিত, যিনি সিআইডি পুলিশের আবেদন গ্রহণের পর তা অনুমোদন করেন।
সিআইডি ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম অর্গানাইজড ইউনিটের ইন্সপেক্টর মো. আশরাফুল ইসলাম আদালতে আবেদনপত্র দাখিল করে, যেখানে তিনি উল্লেখ করেন যে জুয়েল ও তার আত্মীয়স্বজন অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন করেছেন এবং তা মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে লুকিয়ে রাখছেন।
আবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে জুয়েল, তার তিনজন ভাই—শেখ সোহেল, শেখ জালাল উদ্দিন রুবেল ও শেখ বেলাল উদ্দিন—তাছাড়া তার বোন তাহমিনা খবির, স্ত্রী শাহানা ইয়াসমিন (যাকে শম্পা নামেও চেনা যায়) এবং সংশ্লিষ্ট আত্মীয়স্বজনের সম্পদ অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন।
বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে সোহেলের স্ত্রী শিরিন শেখ, জালালের স্ত্রী ফারমিনা খানম, বেলালের স্ত্রী শেখ ওয়াহিদা সুলতানা এবং জুয়েলের কন্যা শেখ তাসমিয়া সুনেহরাও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।
আদালত আদেশে নির্ধারণ করে যে উপরের উল্লেখিত সব হিসাবের লেনদেন ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত থাকবে, ফলে সংশ্লিষ্ট সকল আর্থিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে।
বেঞ্চের সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন আদালতের এই সিদ্ধান্তের তথ্য নিশ্চিত করে, যা সিআইডি পুলিশের দাবির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।
সিআইডি পুলিশের মতে, এই ধরনের সম্পদ অবরুদ্ধ করা তদন্তের স্বচ্ছতা ও সঠিকতা বজায় রাখতে অপরিহার্য, যাতে কোনো লুকানো সম্পদ বা অবৈধ লেনদেনের সূত্র না হারিয়ে যায়।
বাংলাদেশের আইনের অধীনে, যখন কোনো ব্যক্তির সম্পদে অবৈধ উপার্জনের সন্দেহ থাকে, তখন আদালত সংশ্লিষ্ট সম্পদ অবরুদ্ধ করার অনুমতি দেয়, যাতে তদন্ত চলাকালীন তা ব্যবহার করা না যায়।
এখন থেকে তদন্ত দল জুয়েল পরিবার ও তাদের আর্থিক লেনদেনের বিশদ বিশ্লেষণ চালিয়ে যাবে, প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের পর চূড়ান্ত অভিযোগপত্র দাখিলের সম্ভাবনা রয়েছে।
অবরুদ্ধকৃত হিসাবের ওপর কোনো লেনদেনের চেষ্টা করলে তা আইনি শাস্তির আওতায় পড়বে, এবং আদালত অবরুদ্ধের শর্ত লঙ্ঘন করলে অবমাননা অপরাধের দায়েও অভিযুক্ত করা হতে পারে।
ব্যানকগুলোকে অবরুদ্ধকৃত হিসাবের তালিকা জানানো হয়েছে এবং তারা সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা মেনে চলবে বলে জানিয়েছে, ফলে জুয়েল ও তার আত্মীয়স্বজনের আর্থিক কার্যক্রমে তাত্ক্ষণিক প্রভাব পড়বে।
এই পদক্ষেপের পরবর্তী পর্যায়ে আদালত ও তদন্তকারী সংস্থা সমন্বয় করে মামলার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবে, এবং প্রয়োজনীয় হলে অতিরিক্ত সম্পদ অবরুদ্ধ বা জব্দের আদেশ জারি করা হতে পারে।



