হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ থানা থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব মাহদী হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরের দিন হাবিগঞ্জ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে উপস্থিতি শেষে ২০০ টাকার বন্ডে জামিন প্রদান করা হয়।
মাহদী হাসান, যিনি আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য সচিব, শনিবার সন্ধ্যায় শায়েস্তাগঞ্জের শায়েস্তানগর এলাকায় পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। গ্রেপ্তারির সময় তাকে ‘বানিয়াচং থানা পুড়িয়েছি, এসআইকে জ্বালিয়েছি’ বলে পুলিশকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে আটক করা হয়।
স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, গ্রেপ্তারের মূল অভিযোগটি হল পুলিশের কাজের বাধা সৃষ্টি এবং হুমকি প্রদান। তবে গ্রেপ্তারির পর কোন নির্দিষ্ট অপরাধের আইনি ধারা উল্লেখ করা হয়নি।
সকাল ১০টায় মাহদীকে হাবিগঞ্জ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে উপস্থিতি শেষে বিচারক আব্দুল মান্নান মামলাটিকে জামিনযোগ্য বলে নির্ধারণ করে এবং ২০০ টাকার মুচলেকা শর্তে তাকে মুক্তি দেন।
বিচারকের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অভিযুক্তের অপরাধটি এমন ধরণের যা জামিনের আওতায় পড়ে এবং তাই নগদ বন্ডের মাধ্যমে মুক্তি প্রদান করা হয়েছে।
মাহদীর আইনজীবী আশরাফুল বারী নোমান আদালতের রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে, তিনি বলেন, “অপরাধটি জামিনযোগ্য হওয়ায় আদালত যথাযথ শর্তে বন্ড নির্ধারণ করেছে, আমরা এই রায়ে সন্তুষ্ট।”
অধিক আগে, শায়েস্তাগঞ্জ থানা থেকে মাহদীকে হস্তান্তর করার সময় পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট ইয়াসমিন খাতুন জানান, গ্রেপ্তারের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে। তবে তিনি গ্রেপ্তারের সময় কোনো নির্দিষ্ট আইনি ধারা উল্লেখ না করে তথ্য প্রকাশের অপেক্ষা করেন।
মাহদীর গ্রেপ্তারির খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা সদর মডেল থানা সামনে সমাবেশ করেন। থানার প্রধান গেট বন্ধ থাকায় সমাবেশকারীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা যায় এবং বিভিন্ন স্লোগান শোনা যায়।
রাতের দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য থানার সামনে সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়। নিরাপত্তা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনা মোতায়েন করা হয়।
এই ঘটনার পটভূমি হল, বৃহস্পতিবার রাতে ‘জুলাইযোদ্ধা’ ও শায়েস্তাগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের প্রাক্তন সহ-সভাপতি এনামুল হক নয়নকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এই গ্রেপ্তারই পরে মাহদীর বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার অভিযোগের সূত্রপাত করে।
সেই ঘটনার পর, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটি শনিবার দুপুরে মাহদীকে একটি নোটিশ জারি করে। দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে তাকে তার বক্তব্যের কারণ স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে বলা হয়।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মাহদীর বিরুদ্ধে কেন স্থায়ী শৃঙ্খলাবদ্ধ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা নিয়ে লিখিত জবাব ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি রিফাত রশিদের কাছে দাখিল করতে হবে।
নোটিশের শর্ত অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় কমিটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত মাহদী কোনো সংগঠনের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবে না।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, গ্রেপ্তারির সময় তাকে জামিনযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, ফলে আদালত নগদ বন্ডের মাধ্যমে তাকে রিলিজ করেছে। ভবিষ্যতে মামলাটি কীভাবে অগ্রসর হবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী শুনানির ফলাফলের উপর।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে চলমান এই বিষয়টি আগামী দিনগুলোতে আরও বিশদভাবে আলোচিত হবে, এবং আদালতের পরবর্তী রায়ের অপেক্ষা করা হচ্ছে।



