রবিবার কাওরানবাজারে মোবাইল ফোন বিক্রেতা ও ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের কর্মীরা একে অপরের সঙ্গে মুখোমুখি হন। বিক্রেতারা সড়ক অবরোধের মাধ্যমে তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, যা পুলিশকে বাধা দিতে বাধ্য করে। ফলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া‑পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।
বিক্রেতাদের অবরোধের প্রচেষ্টা সাড়া না পেয়ে, পুলিশ টিয়ারশেল এবং সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিরাপত্তা রক্ষার জন্য গৃহীত এই পদক্ষেপের ফলে কিছু সময়ের জন্য কারওয়ানবাজার মোড়ে যানবাহনের চলাচল ব্যাহত হয়।
পুলিশের ব্যবহৃত সাউন্ড গ্রেনেডের প্রভাব সম্পর্কে তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ কমিশনার ফজলুল করিম জানান, “আমরা সাউন্ড গ্রেনেড ছুঁড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছি”। এই মন্তব্যটি ঘটনাস্থলে উপস্থিত কর্মকর্তাদের দ্বারা প্রকাশিত হয়।
সাময়িকভাবে ট্রাফিক জ্যাম সৃষ্টি হওয়ার পর, ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তারা নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।
বিক্রেতাদের মধ্যে কিছু ব্যক্তি বেসামরিক গোষ্ঠীর সঙ্গে সমন্বয় করে, বিশেষ করে জাতীয় ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) চালুর প্রতিবাদে গ্রে মার্কেটের ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। এই প্রতিবাদে মোবাইল ফোনের অনিয়ন্ত্রিত বিক্রয়কে কেন্দ্র করে দাবি করা হচ্ছে।
পুলিশের মতে, বিক্রেতাদের অবরোধের উদ্দেশ্য ছিল তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার জন্য রাস্তা বন্ধ করা, যা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের আইনের লঙ্ঘন করে। তাই আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, অবরোধের সময় বিক্রেতা ও তাদের সহায়করা হুমকি ও শারীরিক সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছিল। তাই টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেডের ব্যবহার প্রয়োজনীয় বলে বিবেচিত হয়।
সেই সময়ে, কিছু বিক্রেতা ও সমর্থকরা গুলির শব্দের প্রতিক্রিয়ায় সশস্ত্র হয়ে ওঠে এবং পুলিশকে চ্যালেঞ্জ করে। তবে দ্রুত হস্তক্ষেপের ফলে পরিস্থিতি দ্রুত শীতল হয়।
পুলিশের হস্তক্ষেপের পর, অবরোধ ভেঙে যায় এবং ট্রাফিক স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। তবে কিছু সময়ের জন্য গাড়ি চলাচল ধীর হয়ে যায় এবং পথচারীরা বিকল্প রুট ব্যবহার করতে বাধ্য হয়।
অধিক তদন্তের জন্য তেজগাঁও বিভাগের তদন্ত দল ঘটনাস্থলে প্রমাণ সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে। আইনি দিক থেকে, অবরোধের সময় ব্যবহৃত হিংসাত্মক উপকরণ ও অশান্তি সৃষ্টি করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনার পর, ঢাকা মহানগর পুলিশ সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে, গ্রে মার্কেটের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে এনইআইআরের নীতি প্রয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, কাওরানবাজারে মোবাইল বিক্রেতা ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ফলে সাময়িক ট্রাফিক জ্যাম, সাউন্ড গ্রেনেডের ব্যবহার এবং সামরিক উপস্থিতি দেখা যায়। ঘটনাটির আইনি পর্যালোচনা চলমান, এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে অনুরূপ অবরোধ রোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে।



