ঢাকার কাওরানবাজারে রবিবার (৪ জানুয়ারি) মোবাইল ফোন বিক্রেতা ও পুলিশ একে অপরের সঙ্গে তীব্র মুখোমুখি হয়। বিক্রেতারা জাতীয় ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালুর বিরোধে রাস্তায় অবরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করে, ফলে নিরাপত্তা বাহিনীর হস্তক্ষেপে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
বিক্রেতাদের অবরোধের উদ্দেশ্য ছিল নতুন রেজিস্টার চালুর ফলে তাদের ব্যবসায়িক প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিরোধিতা করা। তারা কাওরানবাজারের প্রধান পথগুলো বন্ধ করে গ্রাহকদের চলাচল বাধাগ্রস্ত করার পরিকল্পনা করেছিল। তবে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাঠিচার্জ, টিয়ার শেল এবং জলকামান ব্যবহার করে অবরোধ ভেঙে দেয়।
পুলিশের উপস্থিতি বাড়াতে তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত দল মোতায়েন করা হয়।现场ে উপস্থিত তেজগাঁও বিভাগের এডিসি জুয়েল রানা জানান, “রাস্তা অবরোধ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করলে তা দ্রুত পরিষ্কার করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।” এ ধরনের মন্তব্য থেকে বোঝা যায় যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর প্রস্তুতি দৃঢ়।
অবধি, ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন, যা নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে অতিরিক্ত সহায়তা প্রদান করে। দুপুর ১২:৩০ টার দিকে রাস্তায় যানবাহনের চলাচল পুনরায় শুরু হয় এবং বিক্রেতারা বসুন্ধরা শপিং মলের সামনে অবস্থান করে।
বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই ঘটনা মোবাইল ফোন বাজারে কিছুটা অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। এনইআইআর চালু হলে বিক্রেতাদের পণ্যের সনাক্তকরণ ও বিক্রয় রেকর্ডে স্বচ্ছতা বাড়বে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু ব্যবসায়িক খরচ বৃদ্ধি পেতে পারে। অবরোধের মতো প্রতিবাদমূলক কার্যকলাপ বিক্রেতাদের বিক্রয় চক্রে ব্যাঘাত ঘটায়, ফলে গ্রাহক সন্তুষ্টি ও বিক্রয় আয় কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
এছাড়া, নিরাপত্তা বাহিনীর হস্তক্ষেপে ব্যবহার করা লাঠি, টিয়ার শেল ও জলকামান বিক্রেতা ও গ্রাহকদের মধ্যে অস্থায়ী উত্তেজনা বাড়াতে পারে, যা ভবিষ্যতে একই ধরণের প্রতিবাদে সতর্কতা বাড়াবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঠোরতা দেখিয়ে সরকার এনইআইআর প্রয়োগে দৃঢ় সংকল্প প্রকাশ করেছে, যা দীর্ঘমেয়াদে বাজারের স্বচ্ছতা ও গ্রাহকের আস্থা বাড়াতে সহায়ক হবে।
কিন্তু স্বল্পমেয়াদে, বিক্রেতাদের জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যয়, সম্ভাব্য আইনগত জটিলতা এবং বিক্রয় হ্রাসের ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি আকারের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো এই নতুন রেজিস্টার বাস্তবায়নে অতিরিক্ত ডকুমেন্টেশন ও প্রযুক্তিগত সমর্থন প্রয়োজন হতে পারে, যা তাদের আর্থিক চাপ বাড়াবে।
বাজার বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে এনইআইআর চালুর পর মোবাইল ফোনের দাম সাময়িকভাবে স্থিতিশীল থাকতে পারে, তবে বিক্রেতাদের অতিরিক্ত খরচ শোষণ করতে পারে। যদি সরকার বিক্রেতাদের জন্য প্রশিক্ষণ ও সহায়তা প্যাকেজ প্রদান করে, তবে নতুন সিস্টেমের গ্রহণযোগ্যতা দ্রুত বাড়বে এবং বাজারের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব কমে যাবে।
অবশেষে, কাওরানবাজারে ঘটিত এই সংঘর্ষের মাধ্যমে দেখা যায় যে ব্যবসায়িক স্বার্থ ও সরকারি নীতি সংঘর্ষে পড়লে উভয়েরই সমন্বয় প্রয়োজন। নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করেছে, তবে দীর্ঘমেয়াদে বিক্রেতা ও সরকারকে পারস্পরিক সমঝোতা গড়ে তোলার মাধ্যমে বাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি। ভবিষ্যতে এনইআইআর সম্পর্কিত কোনো প্রতিবাদে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি সংলাপের পথও উন্মুক্ত রাখা উচিত, যাতে ব্যবসায়িক পরিবেশে অপ্রয়োজনীয় ব্যাঘাত কমে এবং গ্রাহক সেবা ধারাবাহিকভাবে বজায় থাকে।



