বাগেরহাটের সুন্দরবনের কেঞ্চুর খাল এলাকায় শুক্রবার বিকেলে রিসোর্টের মালিক এবং দুইজন পর্যটক সহ তিনজন অন্য ব্যক্তি অজানা দস্যুদের হাতে গ্রেফতার হন। ঘটনাটি ধানগাঁরি এলাকার চাঁদপাই রেঞ্জের নিকটবর্তী অঞ্চলে ঘটেছে।
ঢাকা থেকে ভ্রমণ করে সুন্দরবনের গল কানন রিসোর্টে দুপুরের দিকে পৌঁছানো চারজন পর্যটক রিসোর্টে চেক‑ইন করে রাতের জন্য অবস্থান করার পরিকল্পনা করেন।
বিকালের পর রিসোর্টের মালিক শ্রীপতি বাছার এবং ওই চারজন পর্যটক একটি নৌকায় চড়ে বনভূমির সংকীর্ণ খাল অন্বেষণ করতে বের হন। নৌকাটি অচেনা সশস্ত্র দস্যুদের দ্বারা বাধা পড়ে এবং পাঁচজনকে, যার মধ্যে নারীরাও অন্তর্ভুক্ত, নৌকা থেকে তাড়া করে নেওয়া হয়।
দস্যুরা একই রাতে দুইজন নারী পর্যটককে মুক্ত করে রিসোর্টে ফেরত পাঠায়, তবে রিসোর্টের মালিক ও দুইজন পুরুষ পর্যটককে বন্দি রেখে যায়।
শ্রীপতি বাছারের ছোট ভাই উত্তম বাছার ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তার ভাই ও দুইজন পুরুষ পর্যটক এখনও বন্দিত্বে আছেন।
স্থানীয় পুলিশ অফিসার মোঃ আতিকুর রহমান জানান, পুলিশ, নৌসেনা ও কোস্ট গার্ডের সমন্বয়ে একটি যৌথ অভিযান চালু করা হয়েছে। দস্যুরা বড় পরিমাণের টাকা চাওয়ার দাবি করে থাকলেও, এখন পর্যন্ত কোনো মুক্তিপণ প্রদান করা হয়নি।
ধানগাঁরি বন বিভাগের স্টেশন অফিসার সুরজিৎ চৌধুরী ঘটনাটির সম্পর্কে জানেন, তবে কোন গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত তা নিশ্চিত করতে পারেননি।
প্রাথমিকভাবে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি গোপন রাখার চেষ্টা করলেও, দুইজন ঢাকা ভিত্তিক পর্যটকের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। ঘটনাটির পর থেকে রিসোর্টের আশেপাশে কোনো পর্যটক নৌকা দেখা যায়নি এবং স্থানীয় মানুষদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
অধিক তদন্তের জন্য স্থানীয় প্রশাসন, বন বিভাগ এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি একত্রে কাজ করছে। দস্যুদের সনাক্তকরণ, মুক্তিপণ চাহিদা এবং বন্দিদের নিরাপদ মুক্তি নিশ্চিত করার জন্য সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



