যুক্তরাষ্ট্র শনিবার রাতের শেষ দিকে ক্যারিবিয়ান আকাশে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বাতিল করেছে। এই সিদ্ধান্তটি পূর্বে চালু করা সীমাবদ্ধতার পরিপ্রেক্ষিতে নেওয়া হয়, যেটি ভেনেজুয়েলা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে লক্ষ্য করে পরিচালিত সামরিক অভিযানের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
সেই অভিযানে প্রভাতের প্রথম আলোতে ক্যারাকাসের আশেপাশে একাধিক বোমা হামলা চালানো হয় এবং বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা হেলিকপ্টার দিয়ে মাদুরো ও তার সঙ্গীকে নিউ ইয়র্কে নিয়ে যায়। হেলিকপ্টারটি সরাসরি ভেনেজুয়েলান রাজধানীর সীমা অতিক্রম করে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে অবতরণ করে, যেখানে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
মাদুরো ও তার স্ত্রীর ওপর যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচার এবং অস্ত্র পাচার সংক্রান্ত অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে তারা নিউ ইয়র্কের ফেডারেল আদালতে এই অভিযোগের মুখোমুখি, যেখানে তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ উপস্থাপনের জন্য আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
সেই একই দিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA) বাণিজ্যিক এয়ারলাইনগুলোকে ক্যারিবিয়ান আকাশে প্রবেশ না করার নির্দেশ দেয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে চলমান সামরিক কার্যক্রমের ফলে উড়ানের নিরাপত্তা ঝুঁকির সম্ভাবনা রয়েছে, ফলে বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
পরিবহন সচিব শিন ডাফি সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ জানিয়েছেন যে নিষেধাজ্ঞা রাত ১২:০০ টায় (০৫:০০ GMT) স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়েছে। তিনি যোগ করেন, এয়ারলাইনগুলোকে দ্রুত সময়সূচি আপডেট করতে হবে এবং যাত্রীদের যথাযথ তথ্য প্রদান করতে হবে।
এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র-ভেনেজুয়েলা সম্পর্কের ইতিহাসে একটি নতুন মোড় নির্দেশ করে। পূর্বে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং রাজনৈতিক বিরোধের ধারাবাহিকতা দেখা গিয়েছিল, তবে সরাসরি প্রেসিডেন্টের গ্রেফতার আন্তর্জাতিক আইনি ও কূটনৈতিক মানদণ্ডকে চ্যালেঞ্জ করে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের লাতিন আমেরিকায় পরিচালিত একটি গোপন অপারেশনও অনুরূপ বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল, তবে মাদুরোর মতো উচ্চপদস্থ রাষ্ট্রনেতার সরাসরি গ্রেফতার আগে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। এই ধরনের পদক্ষেপ আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর উপর অনিশ্চয়তা বাড়াতে পারে।
ভেনেজুয়েলার সরকার এই ঘটনার কঠোর নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের সার্বভৌমত্বের নীতির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করেছে। সরকারী মুখপাত্র বলেন, এই ধরনের হস্তক্ষেপ ভেনেজুয়েলার স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসনের ওপর আঘাত হানবে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ন্যায়বিচারকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
ক্যারিবিয়ান সম্প্রদায়ের সংস্থা ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেশগুলোও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা এয়ার ট্রাফিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত সমাধান চেয়েছে এবং বিমান সংস্থাগুলোকে অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি থেকে রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছে।
বাণিজ্যিক এয়ারলাইনগুলো ইতিমধ্যে রুট পরিবর্তন ও অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যয় মোকাবেলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে। ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের পর্যটন ও ব্যবসা সংক্রান্ত আয় এই সাময়িক বন্ধের ফলে প্রভাবিত হতে পারে, বিশেষত ছোট দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোর জন্য।
আইনি দিক থেকে, মাদুরো ও তার স্ত্রীর মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতে শোনা হবে এবং সম্ভাব্য রায়ের পর ভেনেজুয়েলায় প্রত্যর্পণ বা আন্তর্জাতিক আদালতে আপিলের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে, দু’দেশের কূটনৈতিক চ্যানেলগুলো পুনরায় চালু করার জন্য আলোচনার দরজা খোলা রয়েছে।
সারসংক্ষেপে, ক্যারিবিয়ান আকাশে নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়া এবং মাদুরোর গ্রেফতার যুক্তরাষ্ট্রের লাতিন আমেরিকায় সামরিক হস্তক্ষেপের নতুন মাত্রা প্রকাশ করে। এই ঘটনা আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বাণিজ্যিক বিমান চলাচল এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে, যা পরবর্তী সপ্তাহে আরও স্পষ্ট হবে।



