ঝিনাইদহ‑কুষ্টিয়া মহাসড়কের শৈলকূপা উপজেলায় রাতের প্রায় একটায় একটি পালস লোডেড ট্রাক পুরনো বোরদা সেতুর রেলিং ভেঙে কুমার নদীতে গিয়ে দুই কর্মীর প্রাণ হারায়।
দুর্ঘটনাটি শৈলকূপা বাজারের কাছাকাছি, গারাগঞ্জ বাজার এলাকায়, পুরনো বোরদা সেতুর ওপর ঘটেছে। রাত্রিকালীন সময়ে গতি হারিয়ে ট্রাকটি রেলিং অতিক্রম করে নদীতে পতিত হয়।
মৃতদেহের পরিচয় প্রকাশিত হয়েছে; ট্রাক চালক ছিলেন ২৭ বছর বয়সী সোহেল শেখ, পবনা সদর উপজেলার গাজামানিকুন্ডা গ্রাম থেকে আসা, তার পিতার নাম আবুল কালাম শেখ। সহকারী ছিলেন ২০ বছর বয়সী মোবারক হোসেন, একই গ্রাম থেকে, জাফর মিয়ার পুত্র।
দুর্ঘটনাকালে ট্রাকটি জশোর থেকে কুষ্টিয়া পথে যাত্রা করছিল এবং তাতে ইলিশ, ডাল ইত্যাদি প্যালস লোড ছিল। রাতের অন্ধকারে গতি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুর কাছে পৌঁছানোর সময় রেলিং ভেঙে গাড়ি নদীর প্রবাহে ধসে পড়ে।
ঝিনাইদহ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর আবদুস সালাম জানান, ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ এক ইউনিট ঝিনাইদহ থেকে এবং দুইটি ইউনিট শৈলকূপা থেকে গিয়ে তৎকালীন উদ্ধার কাজ শুরু করে। তিনি নিজে রাতভর ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
সকালবেলায় প্রথমে সহকারী মোবারক হোসেনের দেহ উদ্ধার করা হয়, এরপর প্রায় সকাল আটটায় চালক সোহেল শেখের দেহ উদ্ধার করা যায়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ট্রাকের বডি ও অবশিষ্ট লোডও নদী থেকে তুলে নেয়।
ঝিনাইদহ জেলার জেলা কমিশনার আবদুল্লাহ আল মাসুদ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেন।
স্থানীয় পুলিশ ঘটনাটিকে অপরাধমূলক দুর্ঘটনা হিসেবে রেজিস্টার করে তদন্ত শুরু করেছে। ফরেনসিক দলকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে ট্রাকের ব্রেক, গতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং রেলিংয়ের অবস্থা পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ ও ট্রাক চালকদের রাতের সময় গতি সীমা মেনে চলার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
অধিক তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা জনসাধারণের সঙ্গে শেয়ার করবে।



