27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাবাংলাদেশের জুট শিল্পে পুরনো যন্ত্রপাতি ও উচ্চ খরচের কারণে প্রতিযোগিতা হ্রাস

বাংলাদেশের জুট শিল্পে পুরনো যন্ত্রপাতি ও উচ্চ খরচের কারণে প্রতিযোগিতা হ্রাস

বাংলাদেশের জুট শিল্প আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার হার হারাচ্ছে; পুরনো যন্ত্র, কম উৎপাদনশীলতা এবং উচ্চ জ্বালানি ব্যয় উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে তুলেছে, আর প্রতিবেশী দেশগুলো আধুনিকীকরণে অগ্রসর হয়েছে। এই পরিস্থিতি সম্পর্কে বাংলাদেশ জুট স্পিনারস অ্যাসোসিয়েশন (BJSA) এর সভাপতি তাপস প্রামাণিকের মন্তব্য প্রকাশ পেয়েছে।

প্রামাণিকের মতে, দেশের জুট খাত এখনও মূলত সুতা, হেসিয়ান ও বস্তা মতো ঐতিহ্যবাহী পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। তবে বৈশ্বিক চাহিদা এখন পরিবেশবান্ধব, মিশ্রণযুক্ত ও মূল্য সংযোজিত পণ্যের দিকে ঝুঁকেছে, যা স্থানীয় উৎপাদন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

উল্লেখযোগ্য যে, জুটের গবেষণা ও উন্নয়ন, নকশা ও নতুন পণ্যের বাণিজ্যিকীকরণে বাংলাদেশ পিছিয়ে রয়েছে। নতুন পণ্য বিকাশে বিনিয়োগের অভাব এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের ঘাটতি শিল্পের পুনর্জীবনে বাধা সৃষ্টি করছে।

ইতিহাসে জুটকে “সোনালী তন্তু” বলা হতো; এটি এক সময় অঞ্চলের অন্যতম মূল্যবান নগদ ফসল হিসেবে স্বীকৃত ছিল। তবে দশকের পর দশক ধরে অবহেলায়, এই মর্যাদা ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে।

প্রামাণিক জোর দিয়ে বলেন, জুট শিল্পকে এখনো ঐতিহ্যবাহী শিল্প হিসেবে রক্ষা করা হয়, আধুনিক কৃষি-শিল্পের মূল্য শৃঙ্খলে রূপান্তরিত করা হয় না। ফলে শিল্পটি নতুন বাজারের চাহিদা মেটাতে অক্ষম রয়ে গেছে।

পরিবেশগত দৃষ্টিকোণ থেকে জুটের সুবিধা স্বীকার করা হলেও, কাঠামোগত, নীতি-ভিত্তিক এবং বাজারমুখী সমস্যার কারণে তা পূর্ণভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না। সরকারী উদ্যোগগুলোও বিচ্ছিন্ন, রূপান্তরমূলক নয় বলে সমালোচিত হয়েছে।

একই সময়ে, প্রস্তুত পোশাক (RMG) শিল্পের সঙ্গে নীতিগত সমর্থনের পার্থক্য স্পষ্ট। রেডিমেড গার্মেন্টস খাতকে ধারাবাহিক প্রণোদনা, আধুনিক যন্ত্রপাতি, উচ্চ উৎপাদনশীলতা, রপ্তানি-কেন্দ্রিক কৌশল, সস্তা আর্থিক সহায়তা এবং অবিচ্ছিন্ন গবেষণা ও উন্নয়নের সুবিধা প্রদান করা হয়েছে।

এই সুবিধাগুলো রপ্তানি বাজারে দ্রুত সংহত হতে এবং উচ্চ মার্জিন অর্জনে সহায়তা করেছে। অন্যদিকে, জুট শিল্প এখনও কম মূল্যের গৃহস্থালী পণ্যের ওপর নির্ভরশীল, পুরনো প্রযুক্তি, আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং দুর্বল প্রতিষ্ঠানিক সমর্থনের মুখোমুখি।

উদ্ভাবনের অভাব এবং সীমিত গবেষণা কার্যক্রমের ফলে রপ্তানি পরিমাণ স্থবির রয়েছে; ফলে বিশ্ব বাজারে উদীয়মান সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারছে না। শিল্পের এই স্থবিরতা দেশের অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যকেও প্রভাবিত করছে।

বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করেন, জুট শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে নীতিগত কাঠামোকে সমন্বয় করা, আধুনিক যন্ত্রপাতিতে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং গবেষণা-উন্নয়নকে উৎসাহিত করা জরুরি। এছাড়া, আর্থিক সেবার সহজলভ্যতা এবং প্রতিষ্ঠানিক সমর্থন শক্তিশালী করা দরকার।

সারসংক্ষেপে, জুট খাতের বর্তমান অবস্থা পুরনো প্রযুক্তি, উচ্চ উৎপাদন খরচ এবং নীতিগত বৈষম্যের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা হারাচ্ছে। ভবিষ্যতে যদি কাঠামোগত সংস্কার এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগ না নেওয়া হয়, তবে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পের পুনরুত্থান কঠিন হবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments