বাংলাদেশের নির্মাণ শিল্প ২০২৬ সালে আর্থিক ও নীতি‑সংক্রান্ত সমস্যার কারণে অবনতি অব্যাহত রাখবে বলে শিল্প নেতারা ও বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন। সরকারি ব্যয়ের হ্রাস, বেসরকারি বিনিয়োগের কমে যাওয়া এবং দীর্ঘস্থায়ী নীতি অনিশ্চয়তা এই মন্দার প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
গত বছর প্রকল্প অনুমোদনের গতি ধীর হয়ে যাওয়া, নির্মাণ সামগ্রীর চাহিদা হ্রাস এবং সরকারী উন্নয়ন ব্যয়ের সীমাবদ্ধতা শিল্পের সব স্তরে প্রভাব ফেলেছে। রিয়েল এস্টেট, অবকাঠামো এবং উৎপাদন‑সংযুক্ত সেক্টরগুলোতে কাজের হ্রাস স্পষ্টভাবে দেখা গেছে।
মির নাসির হোসেন, মির আখতার হোসেন লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর, উল্লেখ করেছেন যে ২০২৬ সালে নির্মাণ খাতের অবস্থা গত বছরের মতোই কঠিন থাকবে। তিনি বলেন, আর্থিক চ্যালেঞ্জের ধারাবাহিকতা ব্যবসার পরিবেশকে আরও কঠিন করে তুলবে।
হোসেন আর্থিক গতিশীলতার অভাবকে মূল সমস্যারূপে তুলে ধরেছেন। ব্যাংক ঋণের সুদের হার উচ্চ থাকলে প্রকল্প চালানো কঠিন হয়, আর নতুন ঋণ শ্রেণীবিভাগ নীতি—যা মাত্র তিন মাসের পর ঋণকে নন‑পারফর্মিং হিসেবে চিহ্নিত করে—এটি আরেকটি চাপের কারণ।
গ্যাস সরবরাহের ধারাবাহিক বিঘ্নও শিল্পের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছে। হোসেন উল্লেখ করেন, যদিও গ্রাহক আছে, তবে এ ধরনের লজিস্টিক সমস্যার কারণে কাজের গতি কমে যাচ্ছে।
সরকারি প্রকল্পের ক্ষেত্রে তহবিলের অস্বচ্ছতা অংশগ্রহণের অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে। হোসেনের মতে, সরকারি টেন্ডারগুলোতে অংশগ্রহণ এখন পূর্বের তুলনায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিদেশি তহবিলের ওপর নির্ভরশীল প্রকল্পগুলোতে প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে সুশৃঙ্খল হলেও, পেমেন্টের দেরি নগদ প্রবাহে বড় প্রভাব ফেলছে। এই দেরি নির্মাণ সংস্থাগুলোর দৈনন্দিন কার্যক্রমকে প্রভাবিত করছে।
রিয়েল এস্টেট সেক্টর, যা নির্মাণ কার্যক্রমের মূল চালিকাশক্তি, গত বছর দুর্বল অবস্থায় শেষ হয়েছে এবং এই প্রবণতা ২০২৬ সালে অব্যাহত থাকবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। শিল্পের অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষকরা বাজারের চাহিদা হ্রাস এবং বিনিয়োগের অনিশ্চয়তাকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন।
ট্রপিক্যাল হোমস লিমিটেডের সেলস ও মার্কেটিং ডিরেক্টর এম হক ফয়সাল জানান, বাজারের সামগ্রিক ব্যবসা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ কমে গেছে। তিনি এই পতনের মূল কারণকে দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা ও তহবিলের ঘাটতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সামগ্রিকভাবে, নির্মাণ খাতের পুনরুদ্ধার এখনো দূরের লক্ষ্য। সুদের হার হ্রাস, ঋণ শ্রেণীবিভাগের নমনীয়তা এবং গ্যাস সরবরাহের স্থিতিশীলতা যদি না নিশ্চিত হয়, তবে শিল্পের পুনরুজ্জীবন ধীরগতি বজায় রাখবে। নীতি নির্ধারকদের দ্রুত পদক্ষেপ নিলে বাজারের আস্থা ফিরে আসতে পারে এবং ২০২৭ সালের দিকে ধীরে ধীরে উন্নতি দেখা যেতে পারে।



