19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধনর্দ্দা মোড়েলবাড়িতে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নারীর ওপর পানি ঢালার ঘটনা, পাঁচজন...

নর্দ্দা মোড়েলবাড়িতে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নারীর ওপর পানি ঢালার ঘটনা, পাঁচজন গ্রেফতার

ঢাকার নর্দ্দা এলাকায় মোড়েলবাড়ি বাজারের কাছাকাছি গত শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটায় এক নারীকে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে, তার গায়ে পানি ঢেলে নির্যাতনের অভিযোগে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে এবং সংশ্লিষ্ট পাঁচজন সন্দেহভাজনকে হেফাজতে নেয়। এ ঘটনাটি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য দ্রুত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

পুলিশের জানামতে, অপরাধের স্থানটি স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। হেফাজতে নেওয়া পাঁচজনের মধ্যে তিনজনের বয়স ত্রিশের কাছাকাছি, অন্য দুইজনের বয়স চৌব্বিশের কাছাকাছি। তারা সকলেই একই সময়ে মোড়েলবাড়ি এলাকায় উপস্থিত ছিলেন এবং অপরাধের মুহূর্তে একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

হেফাজতে থাকা সন্দেহভাজনরা জানায়, তারা ওই নারীকে চুরি করার উদ্দেশ্যে অনুসরণ করেছিল। তারা দাবি করে যে, নারিটি মাদ্রাসার তৃতীয় তলায় চুরি করতে গিয়েছিল এবং তারা তাকে ধরা পড়ার পরই তার হাত পা বেঁধে, খুঁটির সঙ্গে বাঁধে। এরপর তারা তার গায়ে পানি ঢেলে শারীরিক নির্যাতন করে, যাতে নারীকে ভয় দেখানো যায় এবং চুরি করা জিনিসপত্র ফেরত নেওয়া যায়।

সন্দেহভাজনদের মতে, নারিটি মাদ্রাসার তৃতীয় তলায় চুরি করতে গিয়েছিল এবং চুরি করা জিনিসপত্রের মূল্য ফেরত না পেলে তারা তাকে শাস্তি দিতে চেয়েছিল। তারা উল্লেখ করে, চুরি করার পর নারিটি পালাতে চাইল, কিন্তু তারা তাকে গড়িয়ে ধরতে সক্ষম হয়। গড়িয়ে ধরার পর তারা তার হাত পা বেঁধে, বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বাঁধে এবং গায়ে পানি ঢেলে শারীরিক নির্যাতন করে।

নারীকে বেঁধে পানি ঢালার সময়, তিনি পুলিশকে জানায় যে, “আমাকে ধরবেন না, আমি নাপাক” বলে দাবি করেন। এই কথাটি হেফাজতে থাকা সন্দেহভাজনদের দ্বারা স্বীকার করা হয়েছে এবং তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নারীর এই বক্তব্যের ভিত্তিতে, অপরাধের প্রেক্ষাপটে নৈতিক অপরাধের অভিযোগও যুক্ত করা হয়েছে।

সন্দেহভাজনরা স্বীকার করে যে, নারীর গায়ে পানি ঢালার কাজটি চুরি এবং নৈতিক অপরাধের অভিযোগের অংশ হিসেবে করা হয়েছিল। তারা বলেন, পানি ঢালার মাধ্যমে নারীর শারীরিক ও মানসিক ভয় বাড়াতে চেয়েছিল। এধরনের নির্যাতনমূলক কাজের জন্য তারা সম্ভাব্যভাবে ‘শারীরিক নির্যাতন’, ‘অবৈধ আটক’ এবং ‘নৈতিক অপরাধ’ এর অভিযোগে অভিযুক্ত হতে পারে।

পুলিশের তদন্তে জানা যায়, অপরাধের স্থানটি স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ঘটনাস্থল থেকে ভিডিও ফুটেজ, ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। হেফাজতে থাকা পাঁচজনের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে ‘শারীরিক নির্যাতন’, ‘অবৈধ আটক’ এবং ‘চুরি’ সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে তদন্ত চলমান এবং অতিরিক্ত সাক্ষী ও প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে। হেফাজতে থাকা পাঁচজনকে আগামী সপ্তাহে নর্দ্দা থানা আদালতে হাজির করা হবে, যেখানে তাদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক শোনানির ব্যবস্থা করা হবে। আদালতে তাদের বিরুদ্ধে ‘শারীরিক নির্যাতন’, ‘অবৈধ আটক’ এবং ‘চুরি’ সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে রিজার্ভেশন অর্ডার জারি করা হতে পারে।

অধিক তদন্তের জন্য, স্থানীয় অফিসার ইন চার্জ (OC) মাদ্রাসার নাম প্রকাশ করতে অক্ষমতা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, মাদ্রাসার নাম প্রকাশে গোপনীয়তা রক্ষার জন্য আইনগত বাধা রয়েছে এবং তাই নাম প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে, মাদ্রাসার অবস্থান ও তলাসংখ্যা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

এই ধরনের সংবেদনশীল অপরাধের প্রতিবেদন লেখার সময়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গোপনীয়তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া জরুরি। সাংবাদিকদের উচিত তথ্যের সত্যতা বজায় রেখে, অতিরিক্ত sensationalism এড়িয়ে, আইনগত প্রক্রিয়ার সঠিক তথ্য প্রদান করা। এভাবে সমাজে ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments