রবিবার সকাল প্রায় দশটায় ঢাকার মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় আবর্জনা সংগ্রহকারী ভ্যান চালকরা রাস্তায় গাড়ি পার্শ্বে পার্শ্বে রেখে চলাচল বন্ধ করে চাঁদা দাবির প্রতিবাদ শুরু করে। এই কর্মসূচি স্থানীয় রাজনৈতিক গোষ্ঠীর কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থের দাবি নিয়ে গড়ে উঠেছে।
বিক্রেতা ও বাসা-বাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহকারী কয়েকটি ভ্যান একসাথে রাস্তায় থামিয়ে দিয়ে গাড়ি চলাচলকে বাধাগ্রস্ত করে, ফলে ওই সময়ে ট্রাফিক জ্যাম সৃষ্টি হয়। প্রতিবাদকারীরা ভ্যানগুলোকে আড়াআড়ি করে রেখে গাড়ি চলাচলকে অচল করে দেয়, যা স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করে।
মিরপুর ট্রাফিক বিভাগের উপ কমিশনার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন জানান, ভ্যানগুলোকে রাস্তায় অপ্রয়োজনীয়ভাবে রেখে চলাচল ব্যাহত করা হয়েছে এবং প্রায় বিশ থেকে পঁচিশ মিনিটের মধ্যে পুলিশ দলকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সিটি কর্পোরেশনের অফিসে নিয়ে গিয়ে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হয়।
মিরপুর মডেল থানার ওসির মতে, ভ্যান চালকরা দাবি করেন যে তারা কাজের সময় প্রত্যেকবার ১০০ থেকে ২০০ টাকা চাঁদা আদায়ের মুখোমুখি হয়। এই অর্থের দাবি স্থানীয় রাজনীতিবিদদের দ্বারা আরোপিত বলে তারা অভিযোগ করে। তবে এই দাবির পেছনে কী ধরনের প্রক্রিয়া চলছে তা এখনও স্পষ্ট নয়।
অতিরিক্তভাবে, কর্মীরা সিটি কর্পোরেশনের নির্ধারিত স্থানের বাইরে ময়লা ফেলা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের অসন্তোষের মুখোমুখি হয়। নির্ধারিত স্থানের বাইরে ময়লা ফেলা হলে তা পরিষ্কার করা কঠিন হয় এবং আশেপাশের পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই বিষয়টিও প্রতিবাদকারীদের অভিযোগের মূল কারণের একটি।
একজন পরিচ্ছন্নতা কর্মী মোহাম্মদ ফারুক জানান, তিনি এক গলিতে প্রায় পঁয়ত্রিশটি ভবন থেকে ময়লা সংগ্রহ করেন, মোট তিনশটি ফ্ল্যাটের ময়লা পরিষ্কার করার দায়িত্ব তার উপর। তিনি দিনে দুই থেকে তিনবার ভ্যান চালিয়ে ময়লা তোলেন এবং কাজের পরিমাণের তুলনায় প্রাপ্ত পারিশ্রমিক যথেষ্ট নয়।
ফারুকের মতে, যদি মাসিক ৬,০০০ থেকে ৭,০০০ টাকা অতিরিক্ত চাঁদা দিতে হয়, তবে তার জীবিকা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান আর্থিক চাপে তিনি কাজ চালিয়ে যাওয়া কঠিন মনে করছেন।
গত সপ্তাহে ঢাকার কারওয়ান বাজারে একই রকম চাঁদা দাবির প্রতিবাদে ব্যবসায়ীরা মানববন্ধন কর্মসূচি আয়োজন করে, যা হঠাৎই কিছু অনিয়ন্ত্রিত গোষ্ঠীর আক্রমণের শিকার হয়। সেই ঘটনার সময় ব্যবসায়ীরা দাবি করেন যে কয়েক মাস ধরে চাঁদা সংগ্রহের ঘটনা চলছিল, ফলে তারা প্রতিবাদে একত্রিত হয়েছিল।
আক্রমণের পর ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন যে যুব গোষ্ঠীর নেতৃবৃন্দ হিংস্রতার সঙ্গে যুক্ত ছিল, তবে পুলিশ এই অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি। ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা বজায় রাখতে পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে এবং আক্রমণকারী গোষ্ঠীকে বিচ্ছিন্ন করে।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে, চাঁদা দাবি ও অবৈধ অর্থ সংগ্রহ অপরাধবিধির ধারা ৪৯৯ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য। স্থানীয় পুলিশ বিভাগ এই বিষয়গুলো তদন্তের অধীনে রেখেছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি জানিয়েছে।
বর্তমানে মিরপুরে ঘটিত প্রতিবাদ ও চাঁদা দাবির বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের নজরে রয়েছে। পুলিশ ও সিটি কর্পোরেশন উভয়ই বিষয়টি সমাধানের জন্য সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অবৈধ চাঁদা দাবিকে রোধ করতে কঠোর নজরদারি বজায় রাখবে।



