ব্রেট হানা-শুফোর্ড, যিনি ব্রডওয়ে মঞ্চে বহু ভূমিকা ও সামাজিক মাধ্যমে “ব্রডওয়ে হাব্যান্ডস” নামের জোড়া হিসেবে পরিচিত ছিলেন, ৪৬ বছর বয়সে ওরল্যান্ডো, ফ্লোরিডায় মারা গেছেন। তিনি শনিবার একটি বিরল ও আক্রমণাত্মক লিম্ফোমা এবং হেমোফ্যাগোসাইটিক লিম্ফোহিস্টিওসাইটোসিস (HLH) রোগের সঙ্গে লড়াই করার পর শান্তভাবে মৃত্যুবরণ করেন।
ব্রেটের স্বামী স্টিফেন হানা-শুফোর্ড ও ব্রডওয়ে হাব্যান্ডসের ইনস্টাগ্রাম পেজে প্রকাশিত বার্তায় বলা হয়েছে, “প্রভাতের প্রথম আলোয় আমরা পৃথিবী থেকে সবচেয়ে চমৎকার মানুষ, স্বামী ও পাপা বিদায় নিলাম।” তিনি পরিবারিক স্নেহে ঘেরা অবস্থায় শেষ শ্বাস তোলেন এবং পরিবার তার স্মৃতিকে গর্বের সঙ্গে বহন করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ব্রেটের মঞ্চজীবন বহু উল্লেখযোগ্য প্রযোজনা অন্তর্ভুক্ত করে। তিনি “বিউটি অ্যান্ড দ্য বিস্ট”, “উইকেড” এবং সির্ক ডু সোলেইয়ের “প্যারামোর” মূল কাস্টে কাজ করেছেন। এছাড়া “অ্যামেজিং গ্রেস”, “চিটি চিটি ব্যাংক ব্যাংক” এবং “দ্য লিটল মারমেইড” মূল দলের সদস্য হিসেবে পারফর্ম করেন। মঞ্চের পাশাপাশি তিনি ডিজনি ক্রুজ লাইনে দেশজুড়ে পারফরম্যান্স দিয়েছেন এবং টেলিভিশন সিরিজে উপস্থিত হয়েছেন, যার মধ্যে ২০১৮ সালে “ল’ অর্ডার: স্পেশাল ভিকটিমস ইউনিট”, ২০২০ সালে “দ্য গুড ফাইট” এবং ২০২৩ সালে “অনলি মার্ডারস ইন দ্য বিল্ডিং” উল্লেখযোগ্য। তিনি মার্টিন স্কোরসেসির চলচ্চিত্র “দ্য উলফ অফ ওয়াল স্ট্রিট”-এও ছোট ভূমিকা পালন করেন।
ব্রেট ২০০১ সালে ওয়াগনার কলেজ থেকে থিয়েটার-এ স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। টেক্সাসের বোমন্টে জন্মগ্রহণকারী তিনি ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে ব্রডওয়ে মঞ্চে নিজের নাম গড়ে তোলেন এবং পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে ট্যুরিং শো-তে অংশ নেন। তার স্বামী স্টিফেনের সঙ্গে ২০০৭ সালে পরিচয় হয় এবং ২০১১ সালে কানেকটিকাটের গ্রীনউইচ টাউন হল-এ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। দম্পতি ২০২২ সালে মাভেরিক নামের একটি পুত্রকে স্বাগত জানায় এবং সাম্প্রতিক সময়ে পরিবারটি ওরল্যান্ডোতে স্থানান্তরিত হয়ে ইউনিভার্সিটি অফ ফ্লোরিডায় ব্রেটের স্নাতকোত্তর পড়াশোনার সূচনা করে।
ব্রেট ও স্টিফেন একসাথে “ব্রডওয়ে হাব্যান্ডস” নামে একটি ইনস্টাগ্রাম পেজ পরিচালনা করতেন, যেখানে তারা গে পিতামাতার দৈনন্দিন জীবন, মঞ্চের পেছনের গল্প ও পারিবারিক মুহূর্ত শেয়ার করতেন। এই পেজটি সমকামী পরিবার ও শিল্পের সমন্বয়কে তুলে ধরার জন্য ব্যাপক অনুসরণ পেয়েছিল।
ব্রেটের সৃজনশীল কাজের পরিধি লেখালেখি পর্যন্ত বিস্তৃত। পেঙ্গুইন ওয়ার্কশপ সম্প্রতি তাকে শিশুদের জন্য “গুড নাইট, ব্রেক এ লেগ” শিরোনামের একটি বই লিখতে চুক্তিবদ্ধ করেছে। বইটির বিবরণে বলা হয়েছে, “উড়ে যাও, লাফিয়ে ওঠ, এবং নাচের মাধ্যমে স্বপ্নকে ছুঁতে পারো”—যা তার শিল্পী আত্মা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি তার ভালোবাসা প্রকাশ করে।
ব্রেটের মৃত্যু শিল্প জগতে গভীর শোকের সঞ্চার করেছে। তার সহকর্মী ও ভক্তরা সামাজিক মাধ্যমে শোক প্রকাশ করে এবং তার মঞ্চে অবদান, টেলিভিশন কাজ ও সামাজিক মিডিয়ায় গে পিতামাতার প্রতিনিধিত্বের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তার পরিবার ও বন্ধুদের জন্য এই ক্ষতি অপরিমেয়, তবে তিনি যে স্মৃতি ও প্রেরণা রেখে গেছেন তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে রয়ে যাবে।
ব্রেট হানা-শুফোর্ডের জীবন ও কাজের সংক্ষিপ্তসার দেখায় যে তিনি মঞ্চের আলো থেকে শুরু করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে গে পরিবারকে প্রতিনিধিত্ব করা পর্যন্ত বহু ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছেন। তার মৃত্যু সত্ত্বেও, তার শিল্পী আত্মা ও পারিবারিক মূল্যবোধের উত্তরাধিকার অব্যাহত থাকবে।



