27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকযুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলা সামরিক অভিযান নিয়ে জাতিসংঘের গভীর উদ্বেগ ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি...

যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলা সামরিক অভিযান নিয়ে জাতিসংঘের গভীর উদ্বেগ ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান দাবি

ভেনেজুয়েলা, 5 জানুয়ারি 2026 – যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের ফলে দেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, এ বিষয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই ধরনের সরাসরি হস্তক্ষেপ আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

গুতেরেসের মুখপাত্র জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ একটি “বিপজ্জনক নজির” স্থাপন করেছে, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ হস্তক্ষেপকে উৎসাহিত করতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এমন উদাহরণ থেকে বিরত থাকা উচিত।

মহাসচিবের প্রতিনিধি যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকে জাতিসংঘের সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে উল্লেখ করেন। তিনি সকল সদস্য রাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক আইনের পূর্ণ সম্মান প্রদর্শনের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

এছাড়া, গুতেরেস ভেনেজুয়েলার জনগণের মানবাধিকার রক্ষার এবং আইনের শাসন বজায় রাখার জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলছেন যে, কোনো সমাধানই কেবল তখনই টেকসই হবে যখন তা সকল রাজনৈতিক শক্তির অংশগ্রহণে গড়ে তোলা হবে।

এই পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করার জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে 5 জানুয়ারি সোমবার একটি বৈঠক ডাকা হয়েছে। বৈঠকে ভেনেজুয়েলার বর্তমান রাজনৈতিক সংকট এবং আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ করা হবে।

দুটি স্থায়ী সদস্য চীন ও রাশিয়া এই সামরিক হস্তক্ষেপকে কঠোরভাবে নিন্দা করেছে এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাদের বিবৃতি অনুযায়ী, কোনো রাষ্ট্রই অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ের ওপর হস্তক্ষেপের অধিকার রাখে না।

অন্যদিকে, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য, যা যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক মিত্র, মাদুরোর অপসারণকে স্বাগত জানিয়েছে এবং ভেনেজুয়েলায় দ্রুত গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে। তারা উল্লেখ করেছে যে, এই পরিবর্তন দেশের রাজনৈতিক পুনর্গঠনকে ত্বরান্বিত করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে পূর্বের লিবিয়া ও সিরিয়া হস্তক্ষেপের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, যেখানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে, প্রতিটি হস্তক্ষেপের পরিণতি ভিন্ন হলেও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান বজায় রাখা সর্বদা গুরুত্বপূর্ণ।

ভেনেজুয়েলার ভৌগোলিক অবস্থান ক্যারিবীয় সাগরের নিকটবর্তী হওয়ায়, অঞ্চলের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। প্রতিবেশী দেশগুলো ইতিমধ্যে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সম্ভাব্য শরণার্থী প্রবাহের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের ফলাফল নির্ভর করবে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সমন্বিত অবস্থানের ওপর। সম্ভাব্য পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা, মানবিক সহায়তা এবং রাজনৈতিক সংলাপের জন্য মধ্যস্থতা। গুতেরেসের অফিস ভবিষ্যতে একটি ব্যাপক সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আহ্বান করবে।

সারসংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলা হস্তক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের সীমা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে, এবং জাতিসংঘের নেতৃত্বে একটি সমন্বিত প্রতিক্রিয়া গড়ে তুলতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় মানবাধিকার রক্ষা, আইনের শাসন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা মূল লক্ষ্য হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments