22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিমাদুরোকে বাদ দিয়ে মার্কিন আক্রমণের পর কারাকাসের শূন্য রাস্তায় বিশৃঙ্খলা

মাদুরোকে বাদ দিয়ে মার্কিন আক্রমণের পর কারাকাসের শূন্য রাস্তায় বিশৃঙ্খলা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাতঃকালীন আক্রমণের ফলে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে রাতের অর্ধেকের পর বিস্ফোরণ ঘটেছে, যার ফলে দীর্ঘমেয়াদী শাসক নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতার করা হয় এবং শহরের রাস্তাগুলো শূন্য হয়ে যায়। আক্রমণটি স্থানীয় সময় সকাল ২টায় শুরু হয়, যখন একাধিক বিস্ফোরণ শহরের বিভিন্ন অংশে ধ্বংসাত্মক ধ্বনি ছড়িয়ে দেয়।

বিস্ফোরণগুলো প্রথমে আতশবাজির মতো শোনায়, তবে দ্রুতই জানালার ফ্রেম কাঁপতে থাকে এবং বাসিন্দারা ছাদ ও বারান্দা থেকে দৃশ্যমান ধোঁয়ার স্তূপ দেখতে পান। শোরগোলের ফলে অনেক পরিবার ঘুম থেকে জেগে উঠে, কিছুজন তৎক্ষণাৎ বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে আসে, অন্যরা আতঙ্কে জানালার শিটে লুকিয়ে থাকে।

কারাকাসের কোচে পাড়া, যেখানে দেশের বৃহত্তম সামরিক কমপ্লেক্স অবস্থিত, সেখানে বাসিন্দারা জানালার কাঁচে কম্পনের অনুভূতি বর্ণনা করেন এবং আকাশে উড়ন্ত সামরিক বিমানগুলোকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। বিস্ফোরণের ধোঁয়া দ্রুতই শহরের কেন্দ্রে ঘন কুয়াশার মতো ছড়িয়ে পড়ে, যা রাতের অন্ধকারকে আরও ঘন করে তুলেছে।

শহরের বিভিন্ন দিক থেকে ধোঁয়ার কলাম উঠতে দেখা যায়; লা গুইয়ারার বন্দর ও বিমানবন্দর, পশ্চিমে মারাকাই, এবং পূর্বে হিগুয়েরোটে একই সময়ে বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে। এই আক্রমণগুলো দেশের প্রধান বাণিজ্যিক ও সামরিক কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে, যা দেশের অবকাঠামোতে বড় ধরনের ক্ষতি ঘটাতে পারে।

আক্রমণের পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী মাদুরোকে গ্রেফতার করে এবং তাকে নিউ ইয়র্কে বিচারিক প্রক্রিয়ার জন্য নিয়ে যায়। এই পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায় এবং ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়।

মাদুরোর সমর্থকরা শহরের কিছু অংশে একত্রিত হয়ে তার মুক্তি ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জানার জন্য প্রতিবাদ করে। তারা সাময়িক মঞ্চ স্থাপন করে বিপ্লবী সঙ্গীতের সঙ্গে “দীর্ঘজীবী নিকোলাস মাদুরো” চিৎকার করে, যা শূন্য রাস্তায় এক ধরনের প্রতিধ্বনি তৈরি করে।

একজন ৫৮ বছর বয়সী বাসিন্দা মারিয়া ইউজেনিয়া এসকোবার, যিনি এই ঘটনার সময় ঘুম থেকে জেগে উঠে বিস্ফোরণ অনুভব করেছেন, তিনি বলেন যে বিস্ফোরণ তাকে হঠাৎ করে বিছানা থেকে উঠে দাঁড়াতে বাধ্য করেছে এবং তিনি এক মুহূর্তে অনুভব করেন যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন শুরু হয়েছে, ফলে তিনি কান্নায় ডুবে যান।

একই সময়ে, ৫৪ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় প্রফেসর কাটিয়া ব্রিসেনো, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে “বর্বরতা” বলে সমালোচনা করেন, তিনি উল্লেখ করেন যে কোনো বিদেশি সরকার স্বেচ্ছায় দেশের মধ্যে প্রবেশ করে প্রেসিডেন্টকে অপসারণ করা অযৌক্তিক এবং অস্বাভাবিক। তার মতে, এই ধরনের হস্তক্ষেপ দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি আঘাত করে।

প্রতিবাদী গোষ্ঠীর পাশাপাশি, শহরের বেশিরভাগ বাসিন্দা বাড়িতে রয়ে যায় এবং রাস্তায় গাড়ির চলাচল খুবই কম থাকে। কখনো কখনো কয়েকটি গাড়ি দৃশ্যমান হলেও, সেগুলোও কালো পোশাক পরা নিরাপত্তা কর্মীদের তত্ত্বাবধানে থাকে, যারা পুরো শহরে ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে।

এই ঘটনার পরবর্তী রাজনৈতিক পরিণতি স্পষ্ট হয়ে উঠছে। মাদুরোর গ্রেফতার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হস্তক্ষেপ দেশের অভ্যন্তরে ক্ষমতার ভারসাম্যকে পুনর্গঠন করতে পারে, এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে নতুন নীতি ও প্রতিক্রিয়া প্রত্যাশা করা হচ্ছে। দেশীয় রাজনৈতিক দলগুলো এখন এই পরিস্থিতি কীভাবে ব্যবহার করবে এবং নতুন নেতৃত্বের গঠন কীভাবে হবে, তা ভবিষ্যতে দেশের দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে।

সামগ্রিকভাবে, কারাকাসের শূন্য রাস্তায় আজকের ঘটনার ছাপ দীর্ঘস্থায়ী হবে, যেখানে নাগরিকদের নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং দেশের রাজনৈতিক কাঠামো পুনর্নির্মাণের প্রশ্নগুলো এখনই তীব্রভাবে উত্থাপিত হয়েছে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments