যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার তার সামাজিক নেটওয়ার্ক ট্রুথ সোশ্যাল-এ একটি ছবি শেয়ার করেন, যেখানে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন নৌবাহিনীর এক জাহাজে বন্দি অবস্থায় দেখা যায়। ছবিতে মাদুরোকে অন্ধকার চশমা এবং হাতকড়া পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়, আর ট্রাম্পের ক্যাপশনে “USS Iwo Jima-তে নিকোলাস মাদুরো” লেখা ছিল।
ছবিটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে ট্রাম্পের পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে মাদুরোকে কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন সেনা ধরেছে এবং তিনি এখন ওই জাহাজের ডেকে দাঁড়িয়ে আছেন। ছবিতে মাদুরোর মাথায় শোরগোল কমাতে ব্যবহৃত শোনার হেডফোনের মতো কিছু এবং ধূসর রঙের নিকি ব্র্যান্ডের স্যুটপ্যান্ট ও জ্যাকেট পরা অবস্থায় দেখা যায়।
মাদুরোর গ্রেফতারটি পূর্বে একই দিনে ঘটেছে, যখন মার্কিন বিশেষ বাহিনী ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের নিকটবর্তী একটি স্থানে তাকে আটক করে। ধরা পড়ার পর তাকে একটি মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তাকে অন্ধকার চশমা এবং হাতকড়া দিয়ে নিরাপদ রাখা হয়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ গ্রেফতারের পর একটি বিবৃতি জারি করে, যেখানে বলা হয়েছে যে মাদুরোর গ্রেপ্তারটি আন্তর্জাতিক অপরাধের তদন্তের অংশ এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। এছাড়া উল্লেখ করা হয়েছে যে গ্রেফতারের সময় কোনো সহিংসতা ঘটেনি এবং মাদুরোকে মানবিক শর্তে রাখা হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার সরকার তৎক্ষণাৎ এই কাজকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আক্রমণ হিসেবে নিন্দা করে। মাদুরোর অফিসিয়াল মুখপাত্র বলেন, এই ধরনের হস্তক্ষেপ ভেনেজুয়েলার স্বায়ত্তশাসনকে ক্ষুণ্ণ করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কিছু দেশ এবং সংস্থা এই ঘটনাকে উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে কিছু বিশ্লেষক আন্তর্জাতিক আইনের প্রেক্ষাপটে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন, তবে কোনো সরকারী সংস্থা এখনও স্পষ্টভাবে কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপের ঘোষণা দেয়নি।
এই গ্রেফতারটি যুক্তরাষ্ট্র এবং ভেনেজুয়েলার মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে, বিশেষত যখন দু’দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে চলছে। ট্রাম্পের পোস্টটি এই ঘটনাকে জনমতকে প্রভাবিত করার একটি মাধ্যম হিসেবে দেখা যেতে পারে, কারণ তিনি সরাসরি তার অনুসারীদের সঙ্গে ছবি এবং সংক্ষিপ্ত মন্তব্য শেয়ার করেছেন।
ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের দিকনির্দেশনা এখন আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়া এবং দু’দেশের কূটনৈতিক আলোচনার ওপর নির্ভর করবে। মাদুরোর গ্রেফতার পর তার আইনি অবস্থান এবং সম্ভাব্য বিচারের প্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে, তা আন্তর্জাতিক আদালত এবং সংশ্লিষ্ট দেশের আদালতে নির্ধারিত হবে।
সারসংক্ষেপে, ট্রাম্পের সামাজিক নেটওয়ার্কে প্রকাশিত ছবিটি মাদুরোর গ্রেফতারকে দৃশ্যমান করে তুলেছে এবং এই ঘটনা উভয় দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ভবিষ্যতে কী ধরনের কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং এই ঘটনার আইনি পরিণতি কী হবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে।



