গতকাল ঢাকা শহরে ই‑রিকশা চালু করা হয়, যা পরীক্ষামূলক পর্যায়ে পরিচালিত হবে এবং রিকশা শিল্পকে নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর মধ্যে আনার উদ্দেশ্য বহন করে। এই উদ্যোগের সূচনা বিশেষ সহকারী, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) আবদুল হাফিজের উপস্থিতিতে ঝিগাটালায় অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয় যে, এখন পর্যন্ত ১২,১৩৫ রিকশা চালককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, আর চলমান তালিকায় অতিরিক্ত ৫৫,০০০ চালক অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে শহরের রাস্তায় ২৫টি ই‑রিকশা চালু করা হয়েছে, যা ধীরে ধীরে বাড়িয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
ই‑রিকশার নকশা ও প্রযুক্তিগত স্পেসিফিকেশন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) দ্বারা প্রস্তুত করা হয় এবং সরকারী অনুমোদন পেয়েছে। বর্তমানে তিনটি প্রতিষ্ঠান এই যানবাহন সরবরাহ করছে, এবং ভবিষ্যতে আরও কোম্পানি ধাপে ধাপে যোগদানের সম্ভাবনা রয়েছে।
ঢাকা নর্থ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ আজাজ উল্লেখ করেন, এই পদক্ষেপটি “বাংলার টেসলা” নামে পরিচিত ব্যাটারি চালিত রিকশার অনিয়ন্ত্রিত বিস্তারকে নিয়ন্ত্রণের দিকে লক্ষ্য রাখে। তিনি বলেন, ডিএমপি (ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ) নির্ধারণ করবে কোন এলাকায় ও কোন ওয়ার্ডে কতটি রিকশা চলবে।
উদাহরণস্বরূপ, ধানমন্ডিতে বর্তমানে ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ রিকশা চলমান, যেখানে প্রয়োজনীয় সংখ্যা মাত্র ৪০০ থেকে ৫০০। তাই অতিরিক্ত রিকশাগুলো ধীরে ধীরে সরিয়ে নেওয়া হবে এবং শুধুমাত্র অনুমোদিত সংখ্যা চালু রাখা হবে।
প্রচলিত রিকশা চালকদের ক্ষতি না হয় তা নিশ্চিত করার জন্য বিদ্যমান চালকদের এক বছরের জন্য অস্থায়ী পারমিট প্রদান করা হবে। পাইলট পর্যায়ে মতি হলের এলাকায় ঐতিহ্যবাহী রিকশা চলবে, আর ধানমন্ডিতে শুধুমাত্র বুয়েট অনুমোদিত ব্যাটারি রিকশা অনুমোদিত হবে।
এছাড়া, প্রধান সড়কগুলো থেকে রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করা হবে, যাতে একচেটিয়া ব্যবসা বা অনিয়মিত কার্যক্রমের সুযোগ না থাকে। এই ব্যবস্থা রিকশা সেবার ন্যায্যতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
আজাজ জানান, এটি কেবল শুরু মাত্র। অবৈধ রিকশা ধীরে ধীরে সরিয়ে বৈধ রিকশা চালু করা হবে, এবং পাইলট সফল হলে পুরো ঢাকা জুড়ে এই প্রকল্পের পরিসর বাড়ানো হবে।
প্রযুক্তিগত দিক থেকে ই‑রিকশা সর্বোচ্চ ৩০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিতে চলতে সক্ষম, এবং গতি সীমা অতিক্রম করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে থেমে যাবে। এই বৈশিষ্ট্যটি চালকের নিরাপত্তা ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সারসংক্ষেপে, ই‑রিকশা পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে ঢাকা শহরে রিকশা সেবার আধুনিকায়ন, নিরাপত্তা ও নিয়মিত পরিচালনা নিশ্চিত করা হবে, যা ভবিষ্যতে শহরের পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।



