বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব হিসেবে কাজ করা তাসনিম জারা, ঢাকা‑৯ আসনে স্বাধীন প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি নির্বাচনী ব্যয়ের জন্য জনসাধারণের কাছ থেকে সংগ্রহ করা ৪৬ লাখ ৯৩ হাজার টাকার ক্রাউড‑ফান্ডিং তহবিলের সম্পূর্ণ ফেরত নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তাসনিম জারা তার ফেসবুক পোস্টের ক্যাপশন ও মন্তব্যে ফেরত চাওয়া ভোটারদের জন্য একটি ফর্মের লিংক যুক্ত করেছেন। লিংকে নাম, যোগাযোগের তথ্য ও ফেরত চাওয়ার পরিমাণ উল্লেখ করলে সংশ্লিষ্ট টাকা প্রত্যেকের কাছে পৌঁছে যাবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলছেন, কোনো সন্দেহের স্থান থাকবে না; সব আবেদনকারীকে সমানভাবে অর্থ প্রদান করা হবে।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় তাসনিম জারা উল্লেখ করেছেন, তিনি নির্বাচনের ব্যয় মেটাতে ‘ক্রাউড ফান্ডিং’ পদ্ধতিতে তহবিল সংগ্রহ করেন। এই তহবিলের মোট পরিমাণ ৪৬ লাখ ৯৩ হাজার টাকা, যা তিনি স্বচ্ছভাবে ব্যবহার ও ফেরত দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। তিনি এই তথ্যের ভিত্তিতে নিজের আর্থিক স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা তুলে ধরেছেন।
বিএনপির সঙ্গে তার সম্পর্কের পরিবর্তনও উল্লেখযোগ্য। তাসনিম জারা, জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে এনসিপি গঠন করা নির্বাচনী জোটের বিষয় নিয়ে পার্টির নীতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে দল থেকে পদত্যাগ করেন। তিনি জোটের সিদ্ধান্তকে তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না বলে উল্লেখ করেন।
পদত্যাগের পর তিনি স্বাধীন প্রার্থীরূপে নির্বাচনে অংশ নিতে সিদ্ধান্ত নেন এবং ঢাকা‑৯ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেন। মনোনয়নপত্রের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন প্রার্থী হিসেবে তার প্রচারাভিযান শুরু করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এই পদক্ষেপ তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে নতুন মোড়ের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিএনপি তাসনিম জারার পদত্যাগ গ্রহণের পর তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করার কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি, তবে পার্টির অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানানো হয়েছে যে তার সিদ্ধান্তকে সম্মান করে দলীয় কাঠামো থেকে তাকে মুক্ত করা হয়েছে। তাছাড়া, পার্টি তার স্বাধীন প্রার্থিতার বিষয়ে কোনো বিরোধপূর্ণ মন্তব্য না করে, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার স্বাভাবিক অংশ হিসেবে গ্রহণ করেছে।
বিশ্লেষকরা তাসনিম জারার স্বাধীন প্রার্থিতাকে ঢাকা‑৯ আসনে ভোটারদের পছন্দের নতুন বিকল্প হিসেবে মূল্যায়ন করছেন। তিনি যদি জয়ী হন, তবে তার তহবিল ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রাজনৈতিক নৈতিকতার একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হতে পারে। অন্যদিকে, তার প্রত্যাখ্যানের ফলে বিএনপির ঐতিহ্যবাহী ভোটারভিত্তি ক্ষয়প্রাপ্ত হতে পারে, যা আসন্ন নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
পরবর্তী সময়ে তাসনিম জারা তার ক্যাম্পেইনকে সামাজিক মাধ্যম ও সরাসরি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে চালিয়ে যাবেন, যাতে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা যায়। তিনি তহবিলের স্বচ্ছতা ও ফেরত প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিত আপডেট প্রদান করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এই পদক্ষেপগুলো তার রাজনৈতিক স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে, যা আসন্ন নির্বাচনের গতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



