ভারতীয় তালিকা ‘এ’ টুর্নামেন্টে প্যাডিক্কাল আবার সেঞ্চুরি যোগ করেছেন। শনিবারের ম্যাচে তিনি ১২০ বলের ইনিংসে ১০৮ রান করলেন, যার মধ্যে তিনটি ছক্কা ও আটটি চতুর্থাংশ অন্তর্ভুক্ত। এই পারফরম্যান্সে তিনি আবার তিন অঙ্কের স্কোরের তালিকায় নাম লেখালেন।
প্যাডিক্কালের বর্তমান টুর্নামেন্টে পাঁচটি ম্যাচে চারটি সেঞ্চুরি রয়েছে। এই ধারাবাহিকতা তাকে তালিকা ‘এ’ ক্রিকেটের অন্যতম ধারাবাহিক ব্যাটসম্যানের শিরোপা এনে দিয়েছে। তার মোট ৩৮টি তালিকা ‘এ’ ম্যাচে ১৩টি শতক এবং ১২টি পঞ্চাশের স্কোর রয়েছে, যার ফলে তার গড় ৮৩.৩৮ এবং মোট ২,৫৮৫ রান। দুই হাজারের বেশি রান করা খেলোয়াড়দের মধ্যে তার গড় সর্বোচ্চ।
টুর্নামেন্টের সূচনায় প্যাডিক্কাল ঝাড়খান্ডের বিপক্ষে ১৪৭ রান করলেন, যা তাকে শীর্ষে রাখার ভিত্তি তৈরি করেছিল। পরের ম্যাচে তিনি কেরালার বিরুদ্ধে ১২৪ রান যোগ করলেন, তবে তামিলনাড়ুতে তিনি মাত্র ২২ রান করে আউট হয়ে গেলেন। তবু তিনি দ্রুতই ফিরে এসে পরের ম্যাচে ১১৩ রান করে আরেকটি সেঞ্চুরি সম্পন্ন করলেন।
আহেমদাবাদের ম্যাচে টস হারের পর কার্নাটাকা ব্যাটিংয়ে প্রবেশ করে দ্রুত দু’জন শীর্ষ ব্যাটসম্যানকে—মায়াঙ্ক আগারওয়াল এবং কারুন নায়ারকে—বহির্ভূত করে দিল। প্যাডিক্কাল রাভিচান্দ্রান স্মারানের সঙ্গে ১৩৬ রান পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন। স্মারান ৮২ রান করেন, যার মধ্যে আটটি চতুর্থাংশ, এবং ৬০ রান করে পঞ্চাশের সীমা অতিক্রম করেন। প্যাডিক্কাল ১০৬ রান করে আবার তিন অঙ্কের স্কোরে পৌঁছান।
কর্ণাটাকার শেষ ইনিংসে আভিনাশ মানোহার ৪৩ রান এবং শ্রীয়াস গোপাল ১৫ রান যোগ করেন। শেষ পর্যন্ত দলটি ৭ উইকেট নিয়ে ৩৩২ রান তৈরি করে। ত্রিপুরার ম্যাচে স্বপ্নিল সিং ৯৩ রান করে সেঞ্চুরি সম্পন্ন করেন, যদিও তিনি ১০০ বলের মধ্যে তা অর্জন করেন। রাজাত দে ৬৬ রান করেন, তবে ত্রিপুরা ৮০ রান পার্থক্যে পরাজিত হয়।
এই টুর্নামেন্টের পারফরম্যান্সের পরও প্যাডিক্কালকে একদিনের আন্তর্জাতিক ওয়ানডে দলের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। নতুন নিউজিল্যান্ড সিরিজের ওয়ানডে স্কোয়াড ঘোষিত হলেও, তার নাম সেখানে দেখা যায় না। যদিও তিনি দেশীয় তালিকা ‘এ’ ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে রানের স্রোত বইয়ে দিচ্ছেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার ডেবিউ এখনও বাকি।
টুর্নামেন্টের পরবর্তী রাউন্ডে প্যাডিক্কাল আবার কী পারফরম্যান্স দেখাবেন তা শীঘ্রই স্পষ্ট হবে। তবে তার বর্তমান গড় ও সেঞ্চুরির সংখ্যা তাকে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক সুযোগের জন্য শক্তিশালী প্রার্থী করে তুলতে পারে।
এই ধারাবাহিকতা তালিকা ‘এ’ ক্রিকেটে প্যাডিক্কালের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে এবং তার গড়কে শীর্ষে নিয়ে এসেছে, যা তার ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
কর্ণাটাকার দল এখন টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচে কী কৌশল গ্রহণ করবে এবং প্যাডিক্কালের পরবর্তী পারফরম্যান্স কী হবে, তা ভক্তদের নজরে থাকবে।
সামগ্রিকভাবে, প্যাডিক্কালের ধারাবাহিক সেঞ্চুরি এবং উচ্চ গড় তাকে তালিকা ‘এ’ ক্রিকেটের অন্যতম শীর্ষ ব্যাটসম্যানের মর্যাদা দিয়েছে, যদিও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার সুযোগ এখনও সীমিত।



