সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ৩ জানুয়ারি রাতের ফেসবুক পোস্টে আইপিএল থেকে মোস্তাফিজ বাদের সিদ্ধান্তকে ‘ন্যাক্কারজনক’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই পদক্ষেপে বাংলাদেশের নাগরিকরা ঘৃণামূলক রাজনীতি প্রত্যক্ষ করেছেন এবং তা তাদের মধ্যে আঘাতের সঞ্চার ঘটিয়েছে।
বিসিসিআই শনিবারই কলকাতা নাইট রাইডার্সকে (কেকেআর) নির্দেশ দেন, যাতে তারা মোস্তাফিজকে সঙ্গে সঙ্গে আইপিএল তালিকা থেকে সরিয়ে নেয়। উল্লেখযোগ্য যে, মাত্র এক সপ্তাহ আগে, ১৬ ডিসেম্বর আবুধাবি নিলামে কেকেআর মোস্তাফিজকে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে যুক্ত করেছিল।
ফারুকী এই ঘটনার পেছনে ভারতের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর চলমান নির্যাতনের অভিযোগের সঙ্গে সংযোগের ইঙ্গিত দেন। তিনি জানিয়ে দেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে ভারতের সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং এই আইপিএল সিদ্ধান্তের পেছনে একই প্রেরণা কাজ করেছে কিনা তা তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।
এছাড়া তিনি ভবিষ্যতে ভারতের মাটিতে বাংলাদেশি ক্রিকেট ও ফুটবল দলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলও একই প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন, যদি আইপিএলে মোস্তাফিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা যায়, তবে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পুরো বাংলাদেশ দল কতটা সুরক্ষিত থাকবে, তা স্পষ্ট নয়।
নজরুল বিসিবিকে নির্দেশ দেন, যাতে আইসিসির কাছে বাংলাদেশের ম্যাচের ভেন্যু শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের অনুরোধ জানানো হয়। কারণ, আগামী মাসে ভারত ও শ্রীলঙ্কা যৌথভাবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আয়োজন করবে এবং বাংলাদেশ দলকে কলকাতা ও মুম্বাইতে চারটি গ্রুপ ম্যাচে অংশ নিতে হবে।
টুর্নামেন্টের নিরাপত্তা বিষয়ক উদ্বেগের পাশাপাশি, ফারুকী মার্চ থেকে মে পর্যন্ত আইপিএল সম্প্রচার বাংলাদেশে বন্ধ করার সম্ভাবনা উল্লেখ করেন। তিনি তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টাকে এই বিষয়ে অবহিত করার কথা উল্লেখ করে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
বিসিসিআইয়ের এই সিদ্ধান্তের ফলে আইপিএল থেকে বাদ পড়া মোস্তাফিজের ক্যারিয়ার ও আর্থিক অবস্থার ওপর প্রভাব সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য না থাকলেও, তার মূল্যায়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এখন অনিশ্চিত।
বাংলাদেশের ক্রীড়া সম্প্রদায়ের মধ্যে এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া তীব্র, যেখানে নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্বের অধিকারকে কেন্দ্র করে আলোচনা চলছে।
বিসিবি ও সংশ্লিষ্ট ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এখন এই বিষয়গুলো সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থা ও হোস্ট দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতি তীব্রভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, কারণ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময়সূচি নিকটবর্তী এবং বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্স ও নিরাপত্তা উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ।



