হবিগঞ্জের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা কমিটির সদস্যসচিব মাহদী হাসানকে শনিবার সন্ধ্যায় গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারের কারণ হিসেবে তাকে শায়েস্তাগঞ্জ থানা ওসিকে প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক সাবেক নেতাকে থানা থেকে বের করে নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়।
মাহদী হাসান গ্রেফতারের আগে একটি বক্তৃতায় উল্লেখ করেন, যদি ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত হওয়াকে অপরাধ ধরা হয়, তবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমও একই দণ্ডে পড়বেন। তিনি অতীতে ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত থাকা ব্যক্তিদের অপরাধী বলে চিহ্নিত করার প্রবণতাকে অস্বীকার করেন।
তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে একটি নতুন প্রবণতা দেখা দিচ্ছে; যারা একসময় ছাত্রলীগ বা আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তারা এখন নিরপরাধ হিসেবে ট্যাগ করা হচ্ছে। এই ধরনের ‘ট্যাগিং’‑কে তিনি ‘ডেভিলের নাম দিয়ে গ্রেপ্তার করার মতো’ বলে সমালোচনা করেন এবং জোর দিয়ে বলেন, এমন নীতি তারা যে কোনো সময় মানতে পারবে না।
মাহদীর বিরুদ্ধে অভিযোগের মূল বিষয় হল, শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসিকে হুমকি দিয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক সাবেক নেতাকে থানা থেকে বের করে নেওয়ার জন্য তাকে দায়ী করা। এই ঘটনার পর, পুলিশ তার বাসা থেকে তাকে আটক করে এবং ডিবি পুলিশকে গ্রেফতারকারী হিসেবে জানায়।
গ্রেফতার হওয়ার পর, মাহদীর সমর্থকরা রাত ১০টা ৩০ মিনিট থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ঢাকার শাহবাগ মোড়ে প্রতিবাদে গিয়ে রাস্তার প্রবাহ বন্ধ করে দেয়। প্রতিবাদকারীরা মোড়ের চারপাশে গিয়ে গাড়ি-যানবাহন থামিয়ে দেয়, ফলে ওই সময়ে চলাচল সম্পূর্ণভাবে থেমে যায়।
প্রতিবাদকারীরা সড়কের মাঝখানে অগ্নিকুণ্ড স্থাপন করে, শিখা জ্বালিয়ে বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়ায়। তারা ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো’, ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’, ‘মুক্তি মুক্তি চাই, মাহদীর মুক্তি চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দিয়ে তাদের দাবি প্রকাশ করে।
শাহবাগে প্রতিবাদ শেষ হওয়ার সময়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ স্পষ্টভাবে দাবি করেন, মাহদী হাসানের অবিলম্বে মুক্তি এবং শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসির পদত্যাগের দাবি মেনে নেওয়া হোক। তিনি এছাড়াও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ জনগণের জন্য ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত সকল কার্যক্রম থেকে দায়মুক্তি প্রদান করে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে এক আদেশ জারি করার দাবি জানান।
রিফাত রশিদ উল্লেখ করেন, যদি এই দাবিগুলো পূরণ না হয়, তবে আন্দোলনকে আরও কঠোর রূপ নিতে পারে। তিনি ভবিষ্যতে সম্ভাব্য বৃহত্তর প্রতিবাদ, রেলপথে বাধা এবং অন্যান্য নাগরিক অবরোধের ইঙ্গিত দেন, যা রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
এই ঘটনার পর, স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ওপর ‘অপরাধী’ লেবেল আরোপের এই নতুন পদ্ধতি দেশের রাজনৈতিক বিতর্ককে তীব্র করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে, সরকার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর ওপর চাপ বাড়বে, যাতে তারা রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচ্ছিন্নভাবে আইনের শাসন বজায় রাখতে পারে।
মাহদী হাসানের গ্রেফতার এবং তার সমর্থকদের প্রতিবাদ দুটোই দেশের রাজনৈতিক মঞ্চে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। ভবিষ্যতে এই বিষয়টি কীভাবে সমাধান হবে, তা দেশের নিরাপত্তা, আইনি কাঠামো এবং রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল।



