শুক্রবার রাত ১টার দিকে কুষ্টিয়া‑ঝিনাইদহ মহাসড়কের গার্ডেন বাজার পার হয়ে শৈলকূপা এলাকায় অবস্থিত পুরাতন সেতুর রেলিং ভেঙে একটি পণ্যবাহী ট্রাক কুমার নদীতে পড়ে যায়। দুর্ঘটনায় ট্রাক চালক ও সহচালক দুজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।
সেতুটি গার্ডেন বাজারের কাছাকাছি, বড়দাহ পুরাতন ব্রিজ নামে পরিচিত, যা দীর্ঘদিনের ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বলে স্থানীয়রা জানেন। রেলিং ভেঙে যাওয়ার পর ট্রাকটি সরাসরি নদীর প্রবাহে নেমে আসে, ফলে তৎক্ষণাৎ পানিতে ডুবে যায়।
ঝিনাইদহ আরাপপুর হাইওয়ে পুলিশ ইনচার্জ মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস ঘটনাটি নিশ্চিত করে জানান, রেলিং ভেঙে যাওয়ায় ট্রাকের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়া স্বাভাবিক। তিনি উল্লেখ করেন, দুর্ঘটনা ঘটার পরই পুলিশ দল现场ে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ট্রাকটি রাতের বেলায় যশোর থেকে ডাল বোজা নিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছিল। গন্তব্যের নাম প্রকাশ না করলেও জানা যায়, ট্রাকটি গার্ডেন বাজারের বড়দাহ পুরাতন ব্রিজে পৌঁছানোর মুহূর্তে রেলিং ভেঙে যায় এবং নদীতে পড়ে।
দুর্ঘটনা ঘটার পর শৈলকূপা ও ঝিনাইদহ ফায়ার সার্ভিসের দুটি রেসকিউ ইউনিট সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। পানির প্রবাহের তীব্রতা ও রাতের অন্ধকারের কারণে কাজটি কঠিন হয়, তবে দলটি দ্রুত পদক্ষেপ নেয়।
রাতে ১টার পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অনুসন্ধান চালিয়ে, রেসকিউ দল রবিবার ভোরে প্রথম মৃতদেহ উদ্ধার করে। প্রথমে মুবারক হোসেনের দেহ পাওয়া যায়, এরপর সকাল ৮টায় ট্রাকচালক সোহেল শেখের দেহ উদ্ধার করা হয়। উভয় দেহই নদীর তলদেশে পাওয়া যায় এবং পরে মৃতদেহের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
পুলিশ ঘটনাস্থলে ফরেনসিক দল পাঠিয়ে রেলিং ভাঙার কারণ ও ট্রাকের যান্ত্রিক অবস্থা পরীক্ষা করে। প্রাথমিক তদন্তে রেলিংয়ের পুরনো অবস্থা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে ট্রাকের ব্রেক সিস্টেম, গতি ও চালকের অবস্থা সম্পর্কেও বিশদ বিশ্লেষণ চালু রয়েছে।
দুর্ঘটনা ট্রাফিক সুরক্ষা আইন অনুযায়ী গুরত্বপূর্ণ অপরাধের শ্রেণিতে পড়ে। যদি রেলিংয়ের অবহেলা বা রক্ষণাবেক্ষণের ত্রুটি প্রমাণিত হয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। পুলিশ এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সেতু রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগকে তদন্তের জন্য নির্দেশ দিয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন দুর্ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে, সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার জরুরি পুনর্মূল্যায়ন দাবি করে। তারা জানায়, ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সেতুর কাঠামোগত পরীক্ষা ও মেরামত দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।
এই দুঃখজনক ঘটনা রাস্তায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব পুনরায় তুলে ধরেছে। কর্তৃপক্ষের ত্বরিত পদক্ষেপ ও তদন্তের ফলাফল জনসাধারণের কাছে জানানো হবে, যাতে ভবিষ্যতে একই রকম দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।



