রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের সাম্প্রতিক ঘরোয়া শতক সত্ত্বেও ভারতীয় দল নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া একদিনের সিরিজের দলে অন্তর্ভুক্ত হননি। একই সময়ে শুবমান গিল এবং সুর্যকুমার ইয়াদভের ফিরে আসা দলকে আক্রমণাত্মক দিক থেকে শক্তিশালী করেছে।
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড এই সপ্তাহে ঘরে তিন ম্যাচের একদিনের সিরিজের জন্য ১৫ জনের দল ঘোষণা করেছে। এতে বোলার মোহাম্মদ সিরাজকে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, আর রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের নাম তালিকায় নেই। গিলকে অধিনায়ক এবং ইয়াদভকে সহ-অধিনায়ক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে।
রুতুরাজের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিনি শেষ সিরিজে একটিতে শতক এবং অন্যটিতে অর্ধশতক তৈরি করেছেন। ঘরোয়া ৫০‑ওভার ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে ভালো রেটিং থাকলেও, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার স্থান নিশ্চিত করতে পারেননি। ভিজায় হাজারে ট্রফিতে তিনি বুধবার উত্তরাখন্ডের বিপক্ষে ১২৪ রান এবং শনিবার মুম্বাইয়ের বিপক্ষে ৬৬ রান করেছেন, তবু নির্বাচনী তালিকায় স্থান পাননি।
নভেম্বর‑ডিসেম্বর মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অনুষ্ঠিত একদিনের সিরিজে রুতুরাজ, ধ্রুব জুরেল এবং তিলক ভার্মা সবাই বাদ পড়েছিলেন। ভারত ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতলেও জুরেল ও তিলক কোনো ম্যাচে খেলেননি। রুতুরাজ প্রথম ম্যাচে মাত্র ৮ রান করেন, তবে দ্বিতীয় ম্যাচে ১০৫ বলের ওপর ৮৩ রান তৈরি করে দলকে স্থিতিশীল করেন। তৃতীয় ম্যাচে তাকে ব্যাটিংয়ের জন্য বাছাই করা হয়নি।
শুবমান গিলের ক্ষেত্রে, তিনি প্রথম টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে কলকাতায় ঘাড়ে আঘাত পেয়ে ম্যাচের বাকি অংশে অংশ নিতে পারেননি এবং দ্বিতীয় টেস্টেও খেলতে পারেননি। এরপর তিনি একদিনের সিরিজেও বাদ পড়েছিলেন। তবে সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে টি‑টোয়েন্টি সিরিজে ফিরে এসে আবার দলের অংশ হয়ে গিয়েছেন এবং এখন একদিনের সিরিজেও তার নাম রয়েছে।
সুর্যকুমার ইয়াদভের দুর্ভাগ্যজনক আঘাত অক্টোবর মাসে অস্ট্রেলিয়া সফরে ঘটেছিল। ক্যাচ নেওয়ার সময় পা ভেঙে গিয়ে তিনি স্ক্যানে পাঁজরের ভাঙ্গন এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ দেখা যায়, ফলে আইসিইউতে ভর্তি হন। দীর্ঘ সময়ের পর তিনি এখনো মাঠে ফিরে আসেননি; যদিও নিউ জিল্যান্ডের সিরিজের দলে নামানো হয়েছে, তার ফিটনেস পরীক্ষা পাস না করলে খেলতে পারবেন না।
নিউ জিল্যান্ডের সিরিজের আগে গিল এবং ইয়াদভ উভয়ই ভিজায় হাজারে ট্রফিতে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই টুর্নামেন্টে তাদের পারফরম্যান্স দলের কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে মোহাম্মদ সিরাজও অস্ট্রেলিয়া সফরের শেষ একদিনের ম্যাচের পর থেকে ভিজায় হাজারে ট্রফিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছেন।
সারসংক্ষেপে, ভারতীয় দল নির্বাচনে ফর্ম এবং ফিটনেসকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। রুতুরাজের ঘরোয়া শতক সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক দলে তার স্থান না পাওয়া দলকে আক্রমণাত্মক দিক থেকে কিছুটা দুর্বল করেছে, তবে গিল ও ইয়াদভের ফিরে আসা অভিজ্ঞতা ও ক্ষমতা দলের সামগ্রিক শক্তি বাড়াবে। আসন্ন নিউ জিল্যান্ড সিরিজে এই পরিবর্তনগুলো কীভাবে প্রভাব ফেলবে তা শীঘ্রই স্পষ্ট হবে।



