27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিমাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে গৃহীত, নিউ ইয়র্কে ন্যারো‑টেররিজমের অভিযোগে আটক

মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে গৃহীত, নিউ ইয়র্কে ন্যারো‑টেররিজমের অভিযোগে আটক

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো শনিবার সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে পৌঁছে, ক্যারাকাসে মার্কিন বাহিনীর হাতে ধরা পড়ার পর নিউ ইয়র্কে স্থানান্তরিত হয়েছেন। ৬৩ বছর বয়সী নেতাকে ন্যাশনাল গার্ডের একটি সুবিধায় অবতরণের সময় FBI এজেন্টরা ঘিরে রাখে এবং টার্মাকের ওপর ধীরে ধীরে এগিয়ে নিয়ে যায়।

মাদুরোর বিমানটি একটি সরকারি জেট, যা যুক্তরাষ্ট্রের আকাশসীমা অতিক্রম করে নিউ ইয়র্কের সীমান্তে অবতরণ করে। অবতরণ শেষে, এজেন্টরা তাকে নিরাপদে তাড়া করে এবং টার্মাকের পাশে থাকা গাড়িতে বসিয়ে নিয়ে যায়। এই প্রক্রিয়ায় কোনো সহিংসতা বা প্রতিবাদ দেখা যায়নি।

অবতরণ পরপর, মাদুরোকে হেলিকপ্টারে চেপে ম্যানহাটনের দিকে পাঠানো হয়। হেলিকপ্টারটি দ্রুত গতি বজায় রেখে শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত একটি বড় নিরাপত্তা গোষ্ঠীর অপেক্ষায় থাকা স্থানে অবতরণ করে। এই গোষ্ঠীটি ফেডারেল, স্থানীয় এবং নিউ ইয়র্কের বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত।

মহানগরে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই মাদুরোকে ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি (DEA) অফিসে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা জানানো হয়। সেখানে তাকে প্রথমে প্রশ্নোত্তর করা হবে এবং তার সঙ্গে থাকা স্ত্রীকে একই প্রক্রিয়ায় অনুসরণ করা হবে। এই ধাপের পর, তাকে ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে স্থানান্তর করা হবে।

মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারটি একটি ফেডারেল কারাগার, যেখানে পূর্বে র‍্যাপার শিন “ডিডি” কম্বসের মতো উচ্চপ্রোফাইল অপরাধীও আটক ছিলেন। এই কারাগারটি তার কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদী আটক শর্তের জন্য পরিচিত। মাদুরো ও তার স্ত্রীর জন্য এখানে একই শর্ত প্রযোজ্য হবে।

মাদুরো ও তার স্ত্রীর আদালতে উপস্থিতি নির্ধারিত তারিখ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে উভয়কে নিউ ইয়র্কের একটি ফেডারেল বিচারকের সামনে উপস্থিত হতে হবে, যেখানে তাদের বিরুদ্ধে ন্যারো‑টেররিজম, বিশাল পরিমাণে কোকেনের আমদানি এবং অবৈধ অস্ত্রের মালিকানা সংক্রান্ত অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগের ভিত্তিতে, মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে বড় পরিমাণে কোকেন পরিবহন এবং সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া, অবৈধ অস্ত্রের মালিকানা এবং সেগুলোর ব্যবহার সম্পর্কেও অভিযোগ তোলা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মাদক ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মাদুরোর মুখপাত্র এই ঘটনাকে শুধুমাত্র ভেনেজুয়েলার জন্য নয়, পুরো ল্যাটিন আমেরিকান অঞ্চলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এই ধরণের আন্তর্জাতিক অপারেশন অঞ্চলীয় নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের ফলে ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বাড়তে পারে। মাদুরোর বিরোধীরা এই ঘটনার ব্যবহার করে সরকারকে দুর্বল করার চেষ্টা করতে পারে, আর সমর্থকরা এটিকে আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োগ হিসেবে দেখবে।

অধিকন্তু, মাদুরোর আটক এবং তার ওপর আনা অভিযোগগুলো আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে ইতিমধ্যে টানাপোড়েন চলছিল, এবং এই ঘটনা উভয় দেশের কূটনৈতিক আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

পরবর্তী ধাপ হিসেবে, মাদুরো ও তার স্ত্রীর আদালতে উপস্থিতি এবং তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচার প্রক্রিয়া নির্ধারিত হবে। এই প্রক্রিয়া শেষ হলে, উভয়ের জন্য শাস্তি বা মুক্তি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, যা ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments