সমাজকল্যাণ ও নারী‑শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ শনিবার জাতীয় সমাজসেবা দিবস ২০২৬‑এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনের দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানটি ঢাকার আগারগাঁয়ের মধুমতি মিলনায়তনে সমাজসেবা অধিদপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. সাইদুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।
শারমিনের বক্তব্যের মূল থিম ছিল ‘জুলাইয়ের চেতনা’কে ধারণ করে নতুন বাংলাদেশ গড়া। তিনি উল্লেখ করেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সেবা এখনো গ্রামীণ ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীর কাছে যথাযথভাবে পৌঁছায়নি; তাই সেবা পৌঁছানোর পরিসর বাড়াতে ভিত্তি থেকে কাঠামো পরিবর্তনের প্রয়োজন।
উল্লেখযোগ্যভাবে তিনি জানান, গত দেড় বছরে মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরে সুশাসন পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে কাঠামোগত সংস্কার শুরু করা হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম কাজ ছিল প্রকৃত ভাতা ভোগীর একটি সঠিক ডাটাবেস গঠন, যা সম্পন্ন করতে বেশ সময় লেগেছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০ শতাংশ ভাতা গ্রহীতা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং তারা নিয়মিত ভাতা পাচ্ছেন। শারমিন বলেন, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পূর্বের ত্রুটি ও অনিয়ম ধীরে ধীরে দূর করা সম্ভব হয়েছে।
অন্যদিকে, তিনি অন্নান্য দুর্বল গোষ্ঠীর জন্যও বিশেষ উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। এতিমখানার শিশুরা ও হিজড়া সম্প্রদায়ের উন্নয়নের জন্য আলাদা অনুদান ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশেষ করে, যৌনকর্মে যুক্ত নারীদের সন্তানদের শিক্ষার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে বলে তিনি জোর দেন।
শারমিনের মতে, এসব নীতি বাস্তবায়নের জন্য পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা অপরিহার্য। তিনি উল্লেখ করেন, কার্যকর মনিটরিং সিস্টেম গড়ে তোলার মাধ্যমে কাজের গুণগত মান বাড়বে এবং অনিয়ম দ্রুত সনাক্ত করা সম্ভব হবে। “সাহসী পদক্ষেপ ছাড়া অনিয়ম দূর করা কঠিন,” তিনি বলেন এবং মন্ত্রণালয়ের কর্মীদেরকে সতর্ক করেন যে, পরিবর্তনের পথে দৃঢ়তা ও ন্যায়বোধ বজায় রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সকাল সাড়ে নয়টায় জাতীয় সংগীত গেয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে দিবসের উদ্বোধন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশেষ অতিথি ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ মন্ত্রণালয়ের নীতি ও পরিকল্পনা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করেন, যেখানে তিনি শারমিনের উদ্যোগকে প্রশংসা করে ভবিষ্যতে আরও সমন্বিত কাজের আহ্বান জানান।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. সাইদুর রহমান খান অনুষ্ঠানের সমাপনী অংশে অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে মন্ত্রণালয়ের চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জের সংক্ষিপ্তসার উপস্থাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ডাটাবেস নির্মাণ, অনুদান বিতরণ ও মনিটরিং সিস্টেমের উন্নয়ন ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাবে, যাতে প্রত্যেক দরিদ্র ও প্রান্তিক গোষ্ঠীকে সময়মতো সহায়তা পৌঁছাতে পারে।
শারমিনের বক্তব্যের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় আগামী মাসে আরও বিস্তৃত ভাতা ভোগীর তালিকা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করেছে এবং ডাটাবেসের ভিত্তিতে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা প্রদান করবে। এছাড়া, হিজড়া ও যৌনকর্মী সম্প্রদায়ের জন্য নির্ধারিত অনুদান দ্রুত বিতরণে ত্বরান্বিত করার জন্য বিশেষ কর্মদল গঠন করা হবে।
উল্লেখযোগ্য যে, শারমিনের এই ঘোষণাগুলো দেশের সামগ্রিক সুশাসন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি শেষ করে বলেন, “বাংলাদেশ এখন পরিবর্তনের পথে, তবে সেই পরিবর্তনকে টেকসই ও ন্যায়সঙ্গত করতে আমাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা দরকার।” এই বক্তব্যের পর উপস্থিত সবাই তালি দিয়ে সম্মতি জানায় এবং ভবিষ্যতে আরও কার্যকর পদক্ষেপের প্রত্যাশা প্রকাশ করে।



