১ জানুয়ারি, চেলসি ফুটবল ক্লাবের প্রধান কোচ এনজো মারেসকা হঠাৎ পদত্যাগের নোটিশ জমা দেন। ক্লাবের অফিসিয়াল বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মারেসকা নিজের ইচ্ছায় দায়িত্ব থেকে সরে গেছেন। তবে জানার মতো বিষয় হল, বোর্ডের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে তিনি সিদ্ধান্তটি ত্বরান্বিত করেন।
মারেসকা ইতালীয় কোচ, যিনি গত মৌসুমে লেস্টার সিটিতে চমৎকার সাফল্য অর্জন করে চেলসির দায়িত্ব নেন। লেস্টারকে প্রিমিয়ার লিগে তুলতে তার কৌশলগত দক্ষতা প্রশংসিত হয়েছিল, ফলে চেলসির ব্যবস্থাপনা তাকে দলের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ করে।
চেলসিতে যোগদানের পর মারেসকার প্রথম মৌসুমে দলকে পঞ্চম স্থানে রাখে। ১৯টি লিগ ম্যাচে তিনি আটটি জয় এবং ছয়টি ড্র সংগ্রহ করেন, মোট পয়েন্ট ৩০। যদিও শীর্ষস্থানে থাকা আর্সেনাল থেকে ১৫ পয়েন্টের পার্থক্য রয়েছে, তবু দলটি ধারাবাহিকভাবে পয়েন্ট সংগ্রহ করে।
মারেসকার তত্ত্বাবধানে চেলসি ইউইফা কনফারেন্স লিগের শিরোপা জিতেছে, যা ক্লাবের আন্তর্জাতিক কাপে প্রথম বিজয়। একই সঙ্গে, চেলসি চ্যাম্পিয়নস লিগ, ইউরোপা লিগ এবং কনফারেন্স লিগ জয়ী একমাত্র ক্লাবের মর্যাদা বজায় রেখেছে। এই রেকর্ডে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপা যোগ করে ক্লাবের গৌরব দ্বিগুণ হয়েছে।
এই সাফল্য সত্ত্বেও মারেসকা দলের পারফরম্যান্সে কোনো বড় ত্রুটি দেখা দেয়নি। তার কৌশলগত পরিবর্তন এবং খেলোয়াড়দের ব্যবস্থাপনা মূলত ইতিবাচকভাবে মূল্যায়িত হয়েছে। তবে ক্লাবের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও বোর্ডের সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি শেষমেশ পদত্যাগের দিকে নিয়ে যায়।
চেলসির বোর্ডের সঙ্গে মতবিরোধের মূল বিষয়গুলো প্রকাশিত হয়নি, তবে সূত্র অনুযায়ী কোচের স্বাধীনতা ও ক্লাবের নীতি নিয়ে মতপার্থক্য ছিল। বোর্ডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা না করে মারেসকা নিজের সম্মান রক্ষার জন্য পদত্যাগের নথি জমা দেন।
ক্লাবের অফিসিয়াল ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, মারেসকা নিজের ইচ্ছায় দায়িত্ব থেকে সরে গেছেন এবং ভবিষ্যতে ক্লাবের সঙ্গে তার কোনো চুক্তি থাকবে না। এই সিদ্ধান্তের পর ক্লাবের ব্যবস্থাপনা নতুন কোচের সন্ধানে ত্বরান্বিত হবে।
মারেসকার শেষ মৌসুমে চেলসির লিগে ৮টি জয়, ৬টি ড্র এবং ৫টি পরাজয় হয়েছে। তার অধীনে দলটি ইউইফা কনফারেন্স লিগের শিরোপা জিতেছে, যা ক্লাবের আন্তর্জাতিক কাপে প্রথম জয় হিসেবে রেকর্ডে যুক্ত হয়েছে।
চেলসির বর্তমান লিগ অবস্থান পঞ্চম, এবং শীর্ষে থাকা আর্সেনাল থেকে ১৫ পয়েন্টের ফাঁক রয়েছে। তবে ইউইফা চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপ পর্যায়ে দলটি ভাল পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, যা কোচের কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করে।
ক্লাবের অন্যান্য কাপ প্রতিযোগিতাতেও মারেসকার নেতৃত্বে দলটি দৃঢ় পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। যদিও লিগে শিরোপা জয় সম্ভব না হলেও, ইউইফা কনফারেন্স লিগের বিজয় এবং ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের জয় ক্লাবের গৌরব বাড়িয়েছে।
পদত্যাগের পর চেলসির বোর্ড দ্রুত নতুন কোচের সন্ধানে কাজ শুরু করেছে। ক্লাবের অভ্যন্তরীণ সূত্রে বলা হয়েছে, নতুন কোচের প্রোফাইলের মধ্যে অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক সাফল্য থাকা প্রয়োজন।
মারেসকার পদত্যাগের ফলে চেলসির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা পুনরায় সাজাতে হবে। দলটি এখন পর্যন্ত অর্জিত সাফল্য বজায় রাখতে এবং লিগে শীর্ষে ফিরে আসতে নতুন কৌশল ও নেতৃত্বের প্রয়োজন।



