ক্যারাকাসে শনি-রাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ অপারেশনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনার ফলে শহরের বিভিন্ন অংশে মানুষ বেরিয়ে এসে আনন্দ, উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা প্রকাশ করে। গ্রেপ্তারটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের নির্দেশে এবং দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা হিসেবে মাদুরোর অবস্থানকে লক্ষ্য করে করা হয়।
অপারেশনটি রাতের অন্ধকারে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে সুনির্দিষ্ট আক্রমণ চালিয়ে সম্পন্ন হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে ক্যারাকাসের এক নিরাপত্তা গুদাম থেকে তুলে নিউ ইয়র্কে নিয়ে যায়। এই পদক্ষেপের পেছনে মাদুরোর ওপর মাদক পাচার ও অস্ত্র পাচার সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে।
ক্যারাকাসের বাসিন্দা দিনা জানান, মাদুরোর গ্রেপ্তার তাদের জন্য এক ধরনের আলোর সঞ্চার ঘটিয়েছে। তিনি বলেন, এখন তারা আবার ভবিষ্যতে কিছুটা আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন। তবে তিনি নিজের নাম প্রকাশ না করার কারণ হিসেবে বর্তমান রাজনৈতিক উত্তেজনাকে উল্লেখ করেন।
অন্য এক বাসিন্দা জর্জের উদ্বেগও প্রকাশ পায়। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি আগামী দিনগুলো সহজ হবে না বলে সতর্ক করেন। মাদুরোকে অপসারণ করা স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেশের সমস্যার সমাধান করবে না, এ কথায় তিনি অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দেন।
শহরের রাস্তায় কিছু অংশে উল্লাসের ধ্বনি শোনা যায়, আবার অন্য অংশে মাদুরোর সমর্থকরা প্রতিবাদে একত্রিত হয়। উভয় গোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা দেয়, যা ক্যারাকাসের রাতকে উভয়ধরনের আবেগে ভরিয়ে তুলেছে।
মাদুরোর সরকার সমর্থকরা দ্রুতই রাস্তায় নেমে এসে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের নেতা মুক্তি দিতে আহ্বান জানায়। তারা মাদুরোর অপহরণকে ‘অবৈধ গ্রেপ্তার’ বলে সমালোচনা করে এবং তার মুক্তির দাবি করে।
ক্যারাকাসের মেয়র কারমেন মেলেন্ডেজও এই প্রতিবাদে অংশ নেন। তিনি মাদুরোর গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ‘অবৈধ অপহরণ’ের অভিযোগ তোলেন। মেয়রের উপস্থিতি সরকারের আনুগত্যের স্পষ্ট সূচক হিসেবে দেখা যায়।
যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোর ওপর ‘নারকো-সন্ত্রাসী’ শাসন চালানোর অভিযোগ তুলে তাকে গ্রেপ্তার করেছে। মাদুরোকে দেশের ২০২৪ সালের নির্বাচনে অবৈধভাবে জয়ী হওয়ার অভিযোগও যুক্তরাষ্ট্রের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
মাদুরো ২০১৩ সাল থেকে ইউনাইটেড সোশ্যালিস্ট পার্টির নেতা হিসেবে শাসন চালিয়ে আসছেন। তার শাসনকালে বিরোধী গোষ্ঠীর ওপর দমন, প্রতিবাদ দমন এবং কখনো কখনো সহিংসতা ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে।
গ্রেপ্তার পর মাদুরো এবং তার স্ত্রী নিউ ইয়র্কে ড্রাগ এবং অস্ত্র পাচার সংক্রান্ত মামলায় বিচার মুখোমুখি হবে। এই আইনি প্রক্রিয়া দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলতে পারে।
মাদুরোর অনুপস্থিতিতে ক্যারাকাসে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে। সরকারী ও বিরোধী উভয় পক্ষই আগামী কয়েক দিনের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নিয়ে অনিশ্চিত। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন নেতৃত্বের সন্ধান শুরু হতে পারে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের ফলে ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার কাঠামো পুনর্গঠন হতে পারে। তবে মাদুরোর সমর্থকদের প্রতিবাদ এবং দেশের গভীর অর্থনৈতিক সংকট নতুন চ্যালেঞ্জের সৃষ্টি করবে।
সারসংক্ষেপে, মাদুরোর গ্রেপ্তার ক্যারাকাসে উভয়ধরনের প্রতিক্রিয়া উন্মোচিত করেছে; কিছু মানুষ এতে আশার আলো দেখছে, আবার অন্যরা ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত হিসেবে দেখছে। দেশীয় রাজনৈতিক পরিবেশ এখনো অস্থির, এবং পরবর্তী পদক্ষেপগুলো দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



