২০২৬ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকে সংসদ সদস্যদের সামনে পার্লামেন্ট ভবনের ব্যাপক সংস্কার কাজের জন্য বিকল্প স্থান নির্ধারণের প্রশ্ন উত্থাপিত হবে। বিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য হাউস অব পার্লামেন্টের বর্তমান কাঠামো থেকে সাময়িকভাবে সরে যাওয়া প্রয়োজন হবে কি না, তা নিয়ে ভোট নিতে হবে। এই সিদ্ধান্তের প্রভাব কেবল আইনসভা নয়, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাতেও বড় প্রভাব ফেলবে।
ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ঐতিহাসিক ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে কাঠামোগত সমস্যার মুখে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ছাদ থেকে পাথর ঝরে পড়া, পুরনো অ্যাসবেস্টসের উপস্থিতি, নিয়মিত অগ্নিকাণ্ড এবং টয়লেট থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা বাড়ছে। এসব সমস্যার সমাধান না হলে ভবনটি ব্যবহারযোগ্য না থেকে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
একজন পিয়ার এবং হাউস অফ কার্ডসের লেখক লর্ড ডবস এই পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে ভবনটি এখনই কোনো বড় দুর্যোগের অপেক্ষায় রয়েছে এবং দর্শনার্থীদের জন্য তার পরামর্শ হল, যদি কেউ দৌড়াতে দেখেন তবে তাদের অনুসরণ করা উচিত, কারণ তা সম্ভবত জরুরি পরিস্থিতি নির্দেশ করে।
প্রাক্তন লেবার মন্ত্রী লর্ড হেইনও একইভাবে জরুরি পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। তিনি পার্লামেন্টের বর্তমান অবস্থা তুলনা করে বলেছেন, এটি ২০১৯ সালে প্যারিসের নোটর-দাম ক্যাথেড্রালের আগুনের মতো একটি বিপদের সূচনা হতে পারে এবং হাউস অব কমন্স যে কোনো সময় ধ্বংসের ঝুঁকিতে থাকতে পারে।
এক দশক আগে পার্লামেন্টের একটি কমিটি একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে ভবনের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সতর্কতা জানায়। সেই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, যদি বড় মেরামতের কাজ দ্রুত না করা হয়, তবে ভবনটি অস্থায়ীভাবে অযোগ্য হয়ে পড়তে পারে।
বছরের পর বছর সিদ্ধান্তের দেরি হওয়ার পরেও অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। ভাঙা পাথর, অবশিষ্ট অ্যাসবেস্টস, নিয়মিত অগ্নিকাণ্ড এবং টয়লেটের বিস্ফোরণ সবই কাজের জরুরি প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে। তাই এখন সকল পক্ষই একমত যে রক্ষণাবেক্ষণ কাজ করা অপরিহার্য, তবে কীভাবে তা করা হবে তা নিয়ে মতবিরোধ রয়ে গেছে।
২০২৬ সালের শুরুর দিকে সংসদকে তিনটি সম্ভাব্য বিকল্প উপস্থাপন করা হবে। প্রথমটি হল কাছাকাছি কুইন এলিজাবেথ দ্বিতীয় (QEII) কনফারেন্স সেন্টারকে সাময়িক পার্লামেন্টের স্থান হিসেবে ব্যবহার করা। দ্বিতীয় বিকল্পে হোয়াইটহলের রিচমন্ড হাউসকে বিবেচনা করা হয়েছে, আর তৃতীয় বিকল্পে থেমস নদীর ওপর একটি ভাসমান বার্জকে সম্ভাব্য স্থান হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে।
একটি ২০২২ সালের পূর্ববর্তী রিপোর্টে সম্পূর্ণ স্থানান্তরের খরচ প্রায় £৭ বিলিয়ন থেকে £১৩ বিলিয়ন পর্যন্ত হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছিল, এবং পুরো ভবনটি ১২ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত খালি রাখতে হতে পারে।
যদি হাউস অব লর্ডসের চেম্বারকে অস্থায়ী সংসদিক কার্যক্রমের স্থান হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তবে কাজের সময়সীমা সাত থেকে পনেরো বছর বাড়বে এবং মোট ব্যয় £৯.৫ বিলিয়ন থেকে £১৮.৫ বিলিয়ন পর্যন্ত হতে পারে।
অন্যদিকে, হাউস অব কমন্সকে কাজের সময় চলমান রাখতে হলে প্রকল্পের সময়সীমা ২৭ থেকে ৪৮ বছর পর্যন্ত বাড়তে পারে এবং ব্যয় প্রায় ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে £১১ বিলিয়ন থেকে £২২ বিলিয়ন পর্যন্ত পৌঁছাবে।
সামগ্রিকভাবে, পার্লামেন্টের সদস্যরা রক্ষণাবেক্ষণ কাজের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করলেও, কোন বিকল্পটি বেছে নেবে তা নিয়ে এখনও একমত হতে পারেনি। বিভিন্ন খরচ ও সময়সীমা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, এবং তা ২০২৬ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকের মধ্যে পার্লামেন্টে উপস্থাপন করা হবে।
এই সিদ্ধান্তের ফলস্বরূপ ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, তবে রাজনৈতিকভাবে এটি পার্লামেন্টের কার্যক্রমে সাময়িক ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে পারে। তাই পার্লামেন্টের অভ্যন্তরে এবং বাহিরে উভয় ক্ষেত্রেই এই বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।



