যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের যৌথ বিমান আক্রমণ সিরিয়ার প্যালমিরা উত্তরের পাহাড়ি অঞ্চলে অবস্থিত একটি গোপন ইসলামিক স্টেট (দােশ) অস্ত্র গুদামকে লক্ষ্য করে। রয়্যাল এয়ার ফোর্সের টায়ফুন জেট এবং ফরাসি যুদ্ধবিমান একসাথে পাভওয়ে IV গাইডেড বোমা ব্যবহার করে গুদামকে ধ্বংস করেছে। এই আক্রমণটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থার সমন্বয়ে পরিকল্পিত এবং লক্ষ্যস্থলটি ভূগর্ভস্থ টানেল ও গুহা নিয়ে গঠিত ছিল।
গুদামটি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শনাক্ত হয়, যেখানে বিস্ফোরক এবং বিভিন্ন ধরণের অস্ত্র সংরক্ষিত থাকার সন্দেহ ছিল। লক্ষ্যস্থলে প্রবেশের জন্য নির্মিত বহু টানেলকে সরাসরি আকাশ থেকে বোমা দিয়ে আক্রমণ করা হয়। পাভওয়ে IV বোমা উচ্চ নির্ভুলতা প্রদান করে, ফলে গুদামের প্রবেশপথগুলো কার্যকরভাবে ধ্বংস করা সম্ভব হয়।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, বোমা ফেলা টানেলগুলো সফলভাবে ধ্বংস হয়েছে এবং প্রাথমিক তথ্য থেকে লক্ষ্যটি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয় আরও জানায়, আক্রমণের পর গুদামের কোনো অবশিষ্ট অস্ত্রের সনাক্তকরণ করা যায়নি। এই ফলাফলকে মিশনের সফলতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
আক্রমণের সময় কোনো বেসামরিক নাগরিকের ক্ষতি হওয়ার কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি, এবং সব বিমান নিরাপদে ফিরে এসেছে। টায়ফুন FGR4 জেটগুলো ভয়েজার রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কার দ্বারা সমর্থিত ছিল, যা দীর্ঘ দূরত্বের মিশনে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করেছে। রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কার উপস্থিতি আক্রমণের সময় বিমানগুলোর অপারেশনাল রেঞ্জ বাড়িয়ে দেয়।
এই আক্রমণটি সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের অবশিষ্ট অস্ত্রভাণ্ডারকে নিষ্ক্রিয় করার বৃহত্তর কৌশলের অংশ, যা ২০১৯ পর্যন্ত সিরিয়া ও ইরাকে দােশের জিহাদি শাসনকে সমর্থন করেছিল। দােশের নিয়ন্ত্রণ শেষ হওয়ার পরও তার অবশিষ্ট সেলগুলো গোপন অস্ত্র সংরক্ষণ করে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়ে গিয়েছে। তাই আন্তর্জাতিক মিত্রশক্তি গোপন গুদামগুলোকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা সচিব জন হিলি উল্লেখ করেছেন, এই পদক্ষেপে যুক্তরাজ্যের নেতৃত্ব ও মিত্রদের সঙ্গে একসাথে দাঁড়িয়ে দােশের পুনরুত্থান রোধের সংকল্প প্রকাশ পায়। তিনি মিত্রশক্তির সঙ্গে সমন্বয়কে জোর দিয়ে বললেন, মধ্যপ্রাচ্যে দােশের হিংসাত্মক মতাদর্শকে দমন করা জরুরি। হিলি আরও যোগ করেন, এই ধরনের যৌথ অভিযান আঞ্চলিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ফরাসি বাহিনীর অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্য, কারণ এটি ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে যৌথ প্রতিক্রিয়ার উদাহরণ দেয়। ফ্রান্সের সামরিক কর্মকর্তারা পূর্বে সিরিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে দােশের অবশিষ্ট গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান চালিয়েছেন। ফরাসি বিমানবাহিনীর অংশগ্রহণ আক্রমণের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও কৌশলগত সমন্বয়কে শক্তিশালী করেছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই আক্রমণকে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, বিশেষ করে সিরিয়ার উত্তরে অবস্থিত প্যালমিরা অঞ্চলে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বের কারণে। প্যালমিরা প্রাচীন শহর হিসেবে পরিচিত, এবং তার আশেপাশের অঞ্চল দীর্ঘদিনের সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে। তাই গোপন অস্ত্র গুদাম ধ্বংসের মাধ্যমে স্থানীয় নিরাপত্তা পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব প্রত্যাশিত।
ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের সমন্বিত বিমান অভিযান চালিয়ে গোপন অস্ত্র সংরক্ষণস্থলগুলোকে লক্ষ্য করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা দােশের পুনরায় গঠনকে রোধ করবে। মন্ত্রণালয় বলেছে, গৌণ লক্ষ্য হল স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানো এবং তথ্য শেয়ারিং উন্নত করা। এই কৌশল দীর্ঘমেয়াদে আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোকে শক্তিশালী করবে।
সাম্প্রতিক মাসে সিরিয়ার বিভিন্ন অংশে মিত্রশক্তির বোমা হামলা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দােশের অবশিষ্ট সেলগুলোর কার্যক্রমকে সীমিত করার লক্ষ্যে। এই ধারাবাহিকতা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তার রোধে সহায়তা করে। মিত্রশক্তির সমন্বিত প্রচেষ্টা সিরিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনায় যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের এই যৌথ পদক্ষেপকে ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দু’দেশ



