27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকমাদুরোর কারাকাস বাসভবনে মার্কিন সামরিক অভিযান সম্পন্ন

মাদুরোর কারাকাস বাসভবনে মার্কিন সামরিক অভিযান সম্পন্ন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোপনীয় সামরিক দল ২২:৪৬ (ইডিটি) শুক্রবার রাতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর কারাকাসে অবস্থিত নিরাপদ ঘরে আক্রমণ চালায়। এই অপারেশনটি “অপারেশন অ্যাবসোলিউট রেজলভ” নামে পরিচিত এবং এটি কয়েক মাসের গোয়েন্দা পর্যবেক্ষণ ও বিশদ পরিকল্পনার পর বাস্তবায়িত হয়।

মাদুরোর দৈনন্দিন রুটিন, ঘুমের সময়, খাবার, পোশাক এবং এমনকি তার পোষা প্রাণীর তথ্যও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সংগ্রহ করেছিল। ভেনেজুয়েলা সরকারের অভ্যন্তরে একটি গোপন সূত্রের মাধ্যমে এই তথ্যগুলো প্রাপ্ত হয়েছিল, যা উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের জানায় যে মাদুরোর ব্যক্তিগত জীবন কতটা সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।

ডিসেম্বরে পরিকল্পনা চূড়ান্ত হওয়ার আগে, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী মাদুরোর কারাকাসের নিরাপদ বাড়ির পূর্ণ আকারের একটি নকল তৈরি করে প্রবেশ পথের অনুশীলন করে। এই ধাপটি অপারেশনের সুনির্দিষ্টতা নিশ্চিত করতে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি কমাতে নেওয়া হয়েছিল। সামরিক পরিকল্পনাটি শীতকালীন ছুটির সময়ে গোপন রাখা হয় এবং কংগ্রেসকে পূর্বে জানানো বা পরামর্শ নেওয়া হয়নি, যা শীতল যুদ্ধের পর থেকে লাতিন আমেরিকায় দেখা না যাওয়া একটি সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের সূচনা করে।

অপারেশনের সময়সূচি নির্ধারণে আবহাওয়া ও মেঘের পরিমাণকে গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনুমোদন চার দিন আগে দেওয়া হয়েছিল, তবে শর্তাবলী অনুকূল না হওয়ায় মিশনটি বিলম্বিত হয়। শেষ পর্যন্ত, শীতের রাতের অন্ধকারে কার্যকরী হওয়ার জন্য উপযুক্ত সময়ে ট্রাম্পের আদেশ আসে।

মার্কিন সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা জেনারেল ড্যান কেন, সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন যে ক্রিসমাস ও নববর্ষের সময় দলটি প্রস্তুত অবস্থায় অপেক্ষা করছিল। তিনি উল্লেখ করেন, “সপ্তাহের পর সপ্তাহ আমরা সঠিক ট্রিগার এবং প্রেসিডেন্টের আদেশের জন্য অপেক্ষা করছিলাম।” ট্রাম্পের নিজস্ব মন্তব্যে তিনি বলেন, “আমরা চার দিন, তিন দিন, দুই দিন আগে এই মিশনটি চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, এবং হঠাৎ করে সব শর্ত পূরণ হল।”

ট্রাম্পের আদেশের পর, মাদুরোর বাসভবনে রাতের অন্ধকারে আক্রমণ শুরু হয়। অপারেশনটি বিমান, ভূমি ও সমুদ্রের সমন্বয়ে দুই ঘণ্টা বিশ বিশ মিনিট স্থায়ী হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দলটি দ্রুত নিরাপদ ঘরে প্রবেশ করে এবং নির্ধারিত লক্ষ্যগুলো সম্পন্ন করে, যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নথি ও যোগাযোগ সরঞ্জাম সংগ্রহ করা অন্তর্ভুক্ত।

এই অভিযানকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা লাতিন আমেরিকায় শীতল যুদ্ধের পরের সবচেয়ে বড় সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করছেন। একটি অভিজ্ঞ কূটনীতিকের মতে, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোর উপর গভীর প্রভাব ফেলবে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা বাড়াবে।”

অভিযানের পর, ভেনেজুয়েলীয় সরকার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ভেনেজুয়েলীয় প্রেসিডেন্টের অফিসিয়াল বিবৃতি এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক চ্যানেলগুলোতে এই মিশনকে “অবৈধ হস্তক্ষেপ” বলে সমালোচনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে এই অপারেশনকে নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ গোপনীয় সামরিক পদক্ষেপের জন্য আইনগত কাঠামো প্রণয়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।

অপারেশনের সাফল্য ও গোপনীয়তা উভয়ই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ক্ষমতা ও গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের কার্যকারিতা প্রদর্শন করে। তবে, এটি আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে বিতর্কের বিষয় রয়ে গেছে, বিশেষ করে সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন ও মানবাধিকার সংক্রান্ত প্রশ্নে।

এই ঘটনার পর, ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলোও সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্কতা প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপ এবং ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ প্রতিক্রিয়া কী হবে, তা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments