দিল্লি ট্রাইব্যুনালে ২০০৯ সালের পিলখানা সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে যুক্ত ১৬১ জন প্রাক্তন বিসিআর সদস্যের মামলা এখনও অগ্রসর হয়নি। এদের মধ্যে অধিকাংশের জেলায় শাস্তি শেষ হয়ে গিয়েছে অথবা ২০১৩ সালে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ থেকে মুক্তি পেয়েছে, তবু সন্ত্রাসী দফা মামলার রায় না পাওয়ায় তারা মুক্তি পেতে পারছে না।
মোল্লা সাঈদ হোসেনের পরিবারে এই দেরি বিশেষভাবে কষ্টকর। সাঈদ, যিনি সৎখিরা থেকে ২০০৬ সালে বিসিআর স্পোর্টস ইউনিটে যোগ দেন, ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে গৃহবন্দি হয়। তার ভাই আবুল হাসান জানান, সাঈদের ১০ বছরের হত্যাকাণ্ডের শাস্তি সাত বছর আগে শেষ হয়েছে, তবু এখনো মুক্তি পাননি। বৃদ্ধ ও অসুস্থ বাবা-মা প্রতিদিন তার ফিরে আসার অপেক্ষা করছেন।
সাঈদের পাশাপাশি ল্যান্স নায়ক মাকসুদুর রহমানের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। ১৬ বছর অর্ধেকেরও বেশি সময় ধরে তিনি জেলে আছেন, যদিও তার হত্যাকাণ্ডের শাস্তি কয়েক বছর আগে শেষ হয়েছে। তার স্ত্রী শারমিন আক্তার জানান, পিলখানা ঘটনার পর থেকে তাদের পরিবার ভেঙে পড়েছে, দুই সন্তানকে একা বড় করতে গিয়ে তিনি বিশাল কষ্টের মুখোমুখি হচ্ছেন। তিনি বলেন, সন্তানদের জীবনে বাবার অনুপস্থিতি কতটা কঠিন, তা শব্দে প্রকাশ করা কঠিন।
হাই কোর্ট ২০১৩ সালে ১৫৩ জনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে, আর বাকি কয়েকজনকে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ থেকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। তবে সন্ত্রাসী দফা মামলায় রায় না হওয়ায় এই শাস্তি সম্পূর্ণ কার্যকর হয়নি। ঢাকার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি এখনও মুলতুবি রয়েছে, কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি। আইনজীবীরা জানান, এই দীর্ঘ সময়ের জেলাবাস দেশের বিচার ব্যবস্থার গভীর সমস্যার ইঙ্গিত দেয় এবং দ্রুত আইনি সমাধান ও ক্ষতিপূরণ আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
প্রতিবাদী সংগঠন ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোও এই বিষয়টি তুলে ধরছে, দাবি করছে যে অপরাধের শাস্তি শেষ হওয়ার পরেও জেলাবাস অব্যাহত রাখা মৌলিক ন্যায়বিচারের লঙ্ঘন। তবে সরকারী দিক থেকে এখনো কোনো স্পষ্ট পদক্ষেপ প্রকাশিত হয়নি।
বিসিআর সন্ত্রাসী দফা মামলার পরবর্তী পর্যায়ে কী হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। আদালতের দায়িত্ব হল দ্রুত রায় প্রদান করা, যাতে শাস্তি শেষ হওয়া বন্দীরা অবিলম্বে মুক্তি পেতে পারে। একই সঙ্গে, শিকারের পরিবারকে যথাযথ সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা জরুরি।
এই পরিস্থিতি দেশের আইনগত কাঠামোর দুর্বলতা ও বিচারিক প্রক্রিয়ার ধীরগতির স্পষ্ট উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদী জেলাবাস রোধে যথাযথ আইন প্রণয়ন ও কার্যকরী বাস্তবায়ন অপরিহার্য।



