ডোনাল্ড ট্রাম্প ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা রাজ্যের মার‑আ‑লাগোতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ভেনেজুয়েলা ও কলম্বিয়ার শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে কঠোর মন্তব্য করেন। তিনি ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালানোর পর, কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর প্রতি সরাসরি সতর্কতা জানিয়ে বলেন, পেত্রোকে নিজের কাজের প্রতি বেশি সতর্ক থাকতে হবে।
পূর্বে ভেনেজুয়েলা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বৃহৎ সামরিক অভিযান চালিয়ে আটক করার দাবি করা হয়েছিল, যা লাতিন আমেরিকায় তীব্র আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। মাদুরোর উপর এই হুমকি প্রকাশের পর, ট্রাম্পের মন্তব্য পেত্রোর সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া হিসেবে উঠে আসে, যেখানে পেত্রো ভেনেজুয়েলা অভিযানের পরিণতি নিয়ে উদ্বিগ্ন নয় বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
মার‑আ‑লাগোর প্রেস কনফারেন্সে ট্রাম্প পেত্রোর দেশীয় কোকেন উৎপাদন কারখানা রয়েছে এবং সেখান থেকে কোকেন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি এই দাবি তুলে ধরে পেত্রোর নিরাপত্তা ও নীতি সম্পর্কে প্রশ্ন তোলেন, যদিও সরাসরি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
কোকেনের অভিযোগের পর ট্রাম্প আরও জোর দিয়ে বলেন, পেত্রোকে নিজের বিষয়গুলোতে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি এই বক্তব্যকে কড়া সুরে উপস্থাপন করে পেত্রোর প্রতি একটি স্পষ্ট সতর্কতা পাঠান, যা লাতিন আমেরিকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ট্রাম্পের এই প্রকাশ্য হুঁশিয়ারি লাতিন আমেরিকায় নতুন উত্তেজনা সৃষ্টির সম্ভাবনা রাখে। ভেনেজুয়েলা ও কলম্বিয়ার মধ্যে ইতিমধ্যে জটিল সম্পর্ক রয়েছে, এবং যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের মন্তব্য উভয় দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে পেত্রোর সরকার কোকেন উৎপাদন ও রপ্তানির অভিযোগের মুখে আন্তর্জাতিক সমালোচনার সম্মুখীন হতে পারে।
ট্রাম্পের মন্তব্যের পাশাপাশি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলায় দ্বিতীয় পর্যায়ের বৃহত্তর সামরিক হামলা চালানোর প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানান। এই সম্ভাব্য পদক্ষেপের উল্লেখ করে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা ও ইচ্ছাশক্তি প্রকাশ করেন, যদিও কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি।
এই ধরনের ঘোষণার ফলে ভেনেজুয়েলা ও কলম্বিয়ার সরকারগুলোকে কূটনৈতিকভাবে জটিল পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। পেত্রো সরকার ইতিমধ্যে ট্রাম্পের মন্তব্যকে অস্বীকার করে, দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলোতে হস্তক্ষেপের বিরোধিতা জানিয়েছে। অন্যদিকে ভেনেজুয়েলা সরকারও যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিকে কূটনৈতিকভাবে প্রত্যাখ্যান করে, তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন রেটোরিকের ফলে ভবিষ্যতে কূটনৈতিক সম্পর্কের পুনর্গঠন, নিরাপত্তা সহযোগিতা ও বাণিজ্যিক চুক্তিগুলোর ওপর প্রভাব পড়তে পারে। ট্রাম্পের মন্তব্যের পরবর্তী ধাপগুলো কী হবে, তা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নজরে থাকবে, এবং উভয় দেশই নিজেদের কূটনৈতিক কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হতে পারে।



