শাবাগ মোড়ে রাত ১০:৩০ থেকে ১২ টার মধ্যে অবরোধ তুলে নেওয়া হয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা‑কর্মীদের দ্বারা, যারা মাহদী হাসানের অবিলম্বে মুক্তি ও হবিগঞ্জ সদর থানার ওসির পদত্যাগের দাবি জানায়। আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ দুই দফা দাবি উপস্থাপন করে, না মানলে সারা দেশে কঠোর কর্মসূচি চালু করার হুমকি দেন। মাহদী হাসান শনিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে ‘বানিয়াচং থানা পুড়িয়ে দিয়েছি, এসআই সন্তোষকে জ্বালাই দিয়েছি’ বলে মন্তব্যের পর গ্রেফতার হন।
অবরোধের সময় শাবাগের প্রধান সড়ক সম্পূর্ণভাবে বন্ধ ছিল, গাড়ি চলাচল থেমে গিয়েছিল এবং পথচারীরা নিরাপদ স্থানে সরতে বাধ্য হয়। প্রতিবাদকারীরা রাস্তায় অগ্নিকুণ্ড স্থাপন করে, ধোঁয়া ও শিখা দিয়ে দৃশ্যকে তীব্র করে তুলেছিল। এই সময়ে তারা ‘মুক্তি চাই, মাহদীর মুক্তি চাই’ ও ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’ ইত্যাদি স্লোগান উচ্চারণ করে তাদের দাবি জোরালোভাবে প্রকাশ করে।
শাবাগের মাঝখানে অগ্নিকুণ্ড জ্বালিয়ে প্রতিবাদকারীরা চিৎকারের সঙ্গে সঙ্গে মঞ্চ তৈরি করে, যেখানে তারা একে অপরের সঙ্গে হাততালি দিয়ে স্লোগান পুনরাবৃত্তি করছিল। স্লোগানগুলোর মধ্যে ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো’ এবং ‘মুক্তি মুক্তি চাই’ বিশেষভাবে শোনা গিয়েছিল। এই চিত্রটি রাতের অন্ধকারে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল এবং আশেপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগের সঞ্চার ঘটায়।
রিফাত রশিদ অবরোধের শেষের দিকে দুইটি প্রধান দাবি তুলে ধরেন। প্রথমটি হল মাহদী হাসানের নিঃশর্ত মুক্তি এবং হবিগঞ্জ সদর থানার ওসির পদত্যাগ, যা তিনি অবিলম্বে বাস্তবায়ন না হলে কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন। দ্বিতীয়টি হল ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত জুলাই গণ‑অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র‑শ্রমিক‑জনতার জন্য দায়মুক্তি ঘোষণা, যা রাষ্ট্রপতি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অধ্যাদেশের মাধ্যমে জারি করবেন।
প্রতিবাদকারীরা দাবি করেন যে তারা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ করে, তিনি মাহদীর মুক্তির আশ্বাস দিয়েছেন। এই আশ্বাসের ভিত্তিতে তারা আজকের অবরোধ প্রত্যাহার করে, তবে রিফাত রশিদ স্পষ্ট করে জানান যে রাতের মধ্যে মুক্তি না হলে আগামীকাল সারা বাংলাদেশে অচলাবস্থা সৃষ্টি করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, যদি সরকার তাদের চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে তারা জাতীয় পর্যায়ে বৃহত্তর কর্মসূচি চালু করবে।
অবরোধের সময় সড়কের মাঝখানে অগ্নিকুণ্ড জ্বালিয়ে প্রতিবাদকারীরা চিৎকারের সঙ্গে সঙ্গে মঞ্চ তৈরি করে, যেখানে তারা একে অপরের সঙ্গে হাততালি দিয়ে স্লোগান পুনরাবৃত্তি করছিল। এই চিত্রটি রাতের অন্ধকারে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল এবং আশেপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগের সঞ্চার ঘটায়।
অবশেষে, রিফাত রশিদের দুই দফা দাবির ওপর সরকার যদি সাড়া না দেয়, তবে আন্দোলন সারা দেশে শাটডাউন, রেল, সড়ক ও সরকারি সেবা বন্ধের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এই হুমকি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলতে পারে এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর জন্য অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজনীয় করে তুলবে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এই পদক্ষেপটি পূর্বের প্রতিবাদগুলোর ধারাবাহিকতা, যেখানে ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ জনগণ একত্রে সরকারের নীতি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে। এই ধারাবাহিকতা দেশের রাজনৈতিক গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে নির্বাচনী সময়ে বিভিন্ন দল ও গোষ্ঠীর অবস্থান নির্ধারণে। সরকার যদি দ্রুত সমঝোতা না করে, তবে আগামী সপ্তাহে আরও বৃহৎ প্রতিবাদ ও কর্মসূচি দেখা দিতে পারে, যা দেশের শাসনব্যবস্থা ও নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর চাপ বাড়াবে।



