ইল্যা লিচেনস্টেইন, যিনি বিটফিনেক্স ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জের বিশাল হ্যাকের সঙ্গে যুক্ত অর্থপাচার মামলায় দোষ স্বীকার করে দণ্ডিত ছিলেন, তিনি কারাগার থেকে সময়ের আগে ছাড় পান। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে জানিয়েছেন, তার এই অগ্রিম মুক্তি ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে গৃহীত ‘ফার্স্ট স্টেপ অ্যাক্ট’ আইনকে ধন্যবাদ। তিনি উল্লেখ করেন, শীঘ্রই সাইবার নিরাপত্তা ক্ষেত্রে ইতিবাচক অবদান রাখতে তিনি প্রস্তুত।
লিচেনস্টেইন এবং তার স্ত্রী হেথার মরগানকে ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যায়বিচার বিভাগ গ্রেফতার করে, বিটফিনেক্স থেকে চুরি হওয়া প্রায় ৩.৬ বিলিয়ন ডলার মূল্যের বিটকয়েন জব্দ করে। এই জোড়া দম্পতি গ্রেফতারের পর থেকে নেটফ্লিক্সের ‘বিগেস্ট হেইস্ট এভার’ শিরোনামের ডকুমেন্টারিতে চিত্রিত হয়। লিচেনস্টেইন পরে হ্যাকের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা স্বীকার করে, পাঁচ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন।
মুক্তির পেছনে ট্রাম্পের প্রশাসনের সরাসরি ভূমিকা আছে কিনা তা স্পষ্ট নয়। তবে একটি সরকারি সূত্র সিএনবিসি-কে জানিয়েছেন, লিচেনস্টেইন তার শাস্তির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ইতিমধ্যে সম্পন্ন করেছেন এবং বর্তমানে তিনি বাড়িতে সীমাবদ্ধ অবস্থায় আছেন, যা সংশ্লিষ্ট আইন ও ফেডারেল কারাগার নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বিটফিনেক্স হ্যাকের ফলে সৃষ্ট ক্ষতি এবং জড়িত ব্যক্তিদের অপরাধমূলক দায়িত্বের ব্যাপক তদন্তের পর, লিচেনস্টেইন ও মরগানের বিরুদ্ধে আর্থিক সম্পদ জব্দের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্রিপ্টো সম্পদের ট্র্যাকিং ও পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা চালানো হয়। এই মামলাটি ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারে নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক তত্ত্বাবধানের গুরুত্বকে পুনরায় তুলে ধরেছে।
লিচেনস্টেইন তার সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত বার্তায় সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সমালোচকদের কাছে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, শীঘ্রই তিনি তাদের ভুল প্রমাণ করে দেখাবেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে সাইবার নিরাপত্তা ক্ষেত্রে তার দক্ষতা ব্যবহার করে সমাজের মঙ্গলে কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে।
এই ঘটনার পর, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যায়বিচার বিভাগ এবং ফেডারেল কারাগার বিভাগ লিচেনস্টেইনের বর্তমান অবস্থান ও শর্তাবলী সম্পর্কে তথ্য প্রদান করেছে। তিনি বর্তমানে বাড়িতে সীমাবদ্ধ অবস্থায় আছেন, যা ফেডারেল আইন অনুযায়ী নির্ধারিত শর্তের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।
বিটফিনেক্স হ্যাকের তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এজেন্সিগুলি ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের ট্রেসিং, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং ডিজিটাল সম্পদের পুনরুদ্ধারের জন্য বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। লিচেনস্টেইন ও মরগানের মামলার ফলাফল ক্রিপ্টো বাজারে নিয়ন্ত্রক কাঠামোর পুনর্বিবেচনা এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ অপরাধ রোধে নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।
লিচেনস্টেইনের অগ্রিম মুক্তি এবং তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক আদালতিক সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়নি। তবে তার বর্তমান অবস্থান ও শর্তাবলী ফেডারেল কারাগার নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায়, ভবিষ্যতে কোনো অতিরিক্ত শাস্তি বা পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এই মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ন্যায়বিচার বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি ক্রিপ্টোকারেন্সি অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে, হ্যাকের ফলে সৃষ্ট আর্থিক ক্ষতির পুনরুদ্ধার এবং সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা জোর দেওয়া হয়েছে।
লিচেনস্টেইনের প্রকাশ্য মন্তব্য এবং তার অগ্রিম মুক্তি, উভয়ই ক্রিপ্টো অপরাধ, শাস্তি এবং পুনর্বাসন নীতির ওপর আলোচনার নতুন দিক উন্মোচন করেছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের মামলায় কীভাবে আইন ও নীতি প্রয়োগ হবে, তা নজরে থাকবে।



