হিমেশ রেশমিয়ার প্রধান ভূমিকায় অভিনীত ‘Badাস্ট রবি কুমার’ চলচ্চিত্রটি মুক্তির আগেই তার ২০ কোটি টাকার উৎপাদন ব্যয় সম্পূর্ণভাবে পুনরুদ্ধার করেছে। এই অর্থায়ন মূলত সঙ্গীত অধিকার এবং ছবিটি শুট করা ওমানের সরকারী অনুদানের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে, ফলে থিয়েটার, ডিজিটাল ও স্যাটেলাইট অধিকার থেকে প্রাপ্ত আয় সম্পূর্ণ লাভে পরিণত হবে।
চলচ্চিত্রের নির্মাতারা জানিয়েছেন, সাউন্ডট্র্যাক, ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর, সংলাপ এবং চিরস্থায়ী সঙ্গীত অধিকার থেকে মোট ১৬ কোটি টাকার আয় হয়েছে। ওমানের শুটিং লোকেশনের জন্য সরকারী অনুদান হিসেবে অতিরিক্ত ৪ কোটি টাকার সহায়তা পাওয়া গিয়েছে, ফলে পুরো উৎপাদন ব্যয় সম্পূর্ণভাবে কভার হয়েছে।
প্রযোজকরা আরও উল্লেখ করেছেন, ২০ কোটি টাকার মূল ব্যয়ের পাশাপাশি ছবির মার্কেটিং খরচে আর ৪ কোটি টাকার ব্যয় হয়েছে। এই খরচটি ডিজিটাল, স্যাটেলাইট এবং থিয়েটার অধিকার বিক্রির মাধ্যমে পুনরুদ্ধার করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য অতিরিক্ত লাভের সম্ভাবনা তৈরি করবে।
‘Badাস্ট রবি কুমার’ ১৯৮০-এর দশকে স্থাপিত একটি গল্প, যা ফেরোজ খান ও রাজীব রাইয়ের মতো ক্লাসিক পরিচালকদের শৈলীর প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। প্রচারমূলক ট্যাগলাইন ‘80s type ki picture’ দিয়ে ছবির নস্টালজিক ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে।
বহু ব্যয়বহুল দৃশ্যপট সত্ত্বেও, প্রোডাকশন কোনো অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে। এক বছরের বেশি সময় ধরে সূক্ষ্ম প্রি‑প্রোডাকশন পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা বর্জ্য হ্রাস করে বাজেটকে সুশৃঙ্খল রাখে এবং তবুও ছবির ভিজ্যুয়াল স্কেলকে মহৎ করে তুলেছে।
হিমেশ রেশমিয়া শুধু প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেননি, তিনি সঙ্গীত রচয়িতা, গায়ক এবং নিজের লেবেল ‘হিমেশ রেশমিয়া মেলোডিজ’ এর মাধ্যমে সাউন্ডট্র্যাক প্রকাশের দায়িত্বও নেন। তিনি তার সাধারণ ফি ত্যাগ করে প্রোডাকশন টিমের সঙ্গে মুনাফা ভাগাভাগির মডেল গ্রহণ করেছেন।
চলচ্চিত্রে মোট ষোলোটি গানের রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে সাতটি গানের একটি মেডলি অন্তর্ভুক্ত। এই বিশাল সঙ্গীত সংগ্রহ ছবির বাণিজ্যিক আকর্ষণ বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। নিজের লেবেল থেকে সঙ্গীত প্রকাশের মাধ্যমে হিমেশ রেশমিয়া সাউন্ডট্র্যাক থেকে সর্বোচ্চ আয় নিশ্চিত করতে চেয়েছেন।
একটি বিবৃতিতে হিমেশ রেশমিয়া উল্লেখ করেছেন, তার স্বাভাবিক ফি না নিয়ে মুনাফা ভাগাভাগি মডেল বেছে নেওয়ার পেছনে তার টিমের বহু বছরের বৃহৎ সিরিয়াল ও উচ্চ বাজেটের চলচ্চিত্রের উৎপাদন অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, এক বছরের বেশি সময়ের পরিকল্পনা কোনো বর্জ্য ছাড়াই প্রকল্পকে ব্যয়সাশ্রয়ী করেছে, তবু ছবির ভিজ্যুয়াল স্কেলকে মহৎ করে তুলেছে।
উৎপাদন ব্যয় ইতিমধ্যে সুরক্ষিত এবং মার্কেটিং ব্যয়ও শীঘ্রই পুনরুদ্ধার হবে বলে অনুমান করা হলে, ছবির আর্থিক দৃষ্টিভঙ্গি দৃঢ়। নস্টালজিক গল্প, বিশাল সঙ্গীত সংগ্রহ এবং কৌশলগত অধিকার বিক্রয়ের সমন্বয় ‘Badাস্ট রবি কুমার’কে আধুনিক চলচ্চিত্র অর্থায়নের একটি আদর্শ উদাহরণ করে তুলেছে।
শিল্পের বিশ্লেষকরা মন্তব্য করছেন, ‘Badাস্ট রবি কুমার’ টিমের এই পদ্ধতি ভবিষ্যতে চলচ্চিত্র নির্মাণে একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে পারে, যেখানে প্রধান ব্যয় মুক্তির আগেই সহায়ক আয়ের মাধ্যমে কভার করা হয়। এই মডেলের সাফল্য আরও অনেক নির্মাতাকে অনুরূপ আর্থিক কাঠামো গ্রহণে উৎসাহিত করতে পারে।



